একটা সাদামাটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক, 'বাংলাদেশের তরুণদের সমকালীন সংকট কী'? অনেকেই বলবেন এটা জিজ্ঞাসা হলো? এই তরুণ কে? কৃষক, জেলে, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, প্রবাসী শ্রমিক, গার্মেন্টস কর্মী না ধনীর দুলাল? এই তরুণ কে? নারী, পুরুষ না হিজড়া? হাওর, পাহাড়, বিল, বরেন্দ্র, সীমান্ত, নগরবস্তি না উঁচু দালানে থাকে এই তরুণ? এই তরুণ আদিবাসী না বাঙালি? এই তরুণ কি গ্রামে কবিগানের আসর জমায় নাকি বইমেলায় লম্বা সারির পাঠক সামলায়? এই তরুণ কি একটা বটগাছের লাগি বুক চিতিয়ে দাঁড়ায় নাকি বহুজাতিক কারখানায় নিজের ক্যারিয়ার জিম্মি রাখে। তো, প্রশ্নটি বাক্য হিসেবে আপাত সরল হলেও শ্রেণি-বর্গ-লিঙ্গ কিংবা অঞ্চল বাস্তবতায় দেশের সকল তরুণের কাছে এই জিজ্ঞাসার মাত্রা একরৈখিক নয়। সন্ত্রাসী আগুন নেভাতে প্রতিবেশীর ঘর আগলে দাঁড়ায় যে তরুণ আর দেশমাতৃকার সকল বাস্তবতা আড়াল করে জীবনকে 'নির্বিঘ্ন' করার জন্য বিদেশ পাড়ি জমায় যে তরুণ তারা কি এক? তাদের সংকট কী একই রকম? সংকট উত্তরণে তাদের পথ ও পরিসরগুলো কি একই ভঙিমার? দেশের তরুণদের সমকালীন সংকট ও সংকট উত্তরণের কিছু বাহাস জারি রেখে একটা প্রাথমিক ধাঁচের জিজ্ঞাসা দাঁড় করাতে চায় চলতি আলাপ। বাংলাদেশের শ্রেণি-বর্গ-বাস্তুতন্ত্র বাস্তবতা এবং প্রতিবেশবিবাদকে আলাপের দর্শনতল হিসেবে পাঠ করছে চলতি আলাপ। লেখাটি কোনোভাবেই 'তারুণ্যের জয়গান', 'তারুণ্যের অহংকার' কিংবা 'তরুণ সমাজ একেবাইরে গেছে' এরকম গোছের নয়। দেশের নানা প্রান্তে নানা সমাজে নানা শ্রেণি-বর্গে তরুণদের সমকালীন সংকটকে প্রতিবেশ-আয়নায় দেখতে চেয়েছে চলতি আলাপ। পাশাপাশি এই দুঃসহ সংকট সামালে আমাদের সামগ্রিক তৎপরতার সৃজনশীল বিকাশও দাবি জানায় এই আলাপ।

জল-মাটি-হাওয়া নিরুদ্দেশ তারুণ্য

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের পলাশ ইউনিয়নের টগবগে চার তরুণের সঙ্গে কথা হয় রক্তি নদীতে। সবাই যাচ্ছে সিলেটের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে। কেবল চার তরুণ নয়, হাওর সীমান্তের গ্রামের পর গ্রামের তরুণেরা আজ গ্রাম ফেলে ছুটছে পাথর কোয়ারি, কী শহরের দিনমজুরিতে। গ্রামে কাজ নেই। কৃষিজমি যা ছিল বছর বছর পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা বালিতে ঢাকা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। কথা হয় গোপালগঞ্জের চান্দার বিলে, পাবনার চলনবিলে, মুন্সীগঞ্জের আড়িয়ল বিলে কী বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে। সবখানেতেই গ্রাম ছেড়ে তরুণেরা ছুটছে নিরুদ্দেশ। সাতক্ষীরার শ্যামনগর বা নেত্রকোনার কলমাকান্দার বাসস্ট্যান্ডে সন্ধ্যায় গেলে গ্রাম ছাড়া এমন তরুণের ঢল দেখা যায়। যাদের একটা বড় অংশই ছুটছে ইটের ভাটায় আর মেয়েরা যাচ্ছে গার্মেন্টসে বা শহরের বাসাবাড়ির কাজে। এটি কোনো ছায়াছবি নয়, দেশজুড়ে এক নিদারুণ বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন্যা কিংবা নদীভাঙন গ্রামীণ কৃষি উৎপাদনব্যবস্থা তছনছ করে দিচ্ছে। পাশাপাশি বহুজাতিক রাসায়নিক নির্ভর কৃষিকাজের খরচ পুষিয়ে উঠতে পারছে না অধিকাংশ ভূমিহীন পরিবার। এমনকি রক্তজল করা ফসলের ন্যায্য দামও পাচ্ছেন না আজকের তরুণ কৃষক। তাই সাতজনমের কৃষি ছেড়ে ছেলে কী মেয়ে সবাই ছাড়ছে গ্রাম। এমনিতেই এই গ্রামীণ তরুণদের খুব একটা প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া করা হয় না। তাই তাদের ক্ষেত্রে গ্রামীণ কৃষিকাজ ছাড়া আর কোনো ভালো বেতনের কর্মক্ষেত্র এখনও তৈরি হয়নি। যদিও এই তরুণদের একটা বড় অংশ আজ গার্মেন্টস, নির্মাণ শ্রমিক, কারখানার মজুর আর শহরের দিনমজুর হিসেবে কাজ করছে। এর বাইরে শহরতলি ও মফস্বল শহরের তরুণদের একটা বড় অংশ, যারা খুব বেশি প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া করেননি, জমিজমা সব বিক্রি করে একটা চাকরির আশায় ভেলায় ভেসে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার নিদারুণ দুঃসাহস করেন। আর গ্রাম, মফস্বল কী শহরের তরুণদের যারা লেখাপড়া করে চাকরি বা ব্যবসায় যুক্ত হন বা যারা একেবারেই দেশের ভেতরে থেকেও দেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রেখে পাড়ি জমান বিদেশে তাদের সঙ্গে এই জল-মাটি-হাওয়ার কোনো ঐতিহাসিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। শ্রেণি-বর্গ-লিঙ্গভেদে আজকের তরুণসমাজ দেশের প্রাণ-প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্রের ব্যাকরণের সঙ্গে পরিচিত হতে পারছে না। হয়তো অনেকে পরিচিত হতেও চাইছে না। তরুণদের বড় অংশই হয়তো ভাত-মাছ খায় কিন্তু দশটি দেশি ধান জাতের নাম বলতে পারে না। খবরক, কালাবিনি জন্মায় পাহাড়ে। হাওরে ফলে গচি, রাতা, সকালমুখী, বিরই, পিঁপড়ারচোখ, সমুদ্রফেনা, কাচালত। লবণজলের ধান নোনাখচি, বীরপালা, গন্ধকস্তুরী, জটাইবালাম। বরেন্দ্রর ধান সোনাকাঠি, দুধসাগর, জামাইসোহাগী, রাধুনীপাগল। পেঁচা, পিঁপড়া, ধনেশ থাকে বড় গাছের খোঁড়লে কিংবা একেক অঞ্চলে বড়শির টোপ একেকরকম হয় এমন অবিস্মরণীয় সব লোকায়ত জ্ঞান থেকে আজকের তরুণ সমাজ ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ধামাইল, রাধারমণ-ধনপুদী, শেরানজিং, পুঁথি, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা, ঢপযাত্রা, ভাসানের মতো দেশজ পরিবেশনাগুলো থেকেও আজকের তারুণ্য বিচ্ছিন্ন। তো বিচ্ছিন্নতার এই নিদারুণ সংস্কৃতি কী উপহার দিতে পারে? বিচ্ছিন্নতার এই সংস্কৃতি প্রজাতি হিসেবে কেবল শরীর বা মন নয়; আমাদের সামগ্রিক প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে তৈরি করছে দীর্ঘমেয়াদি আঘাত। 'বিষাদগ্রস্ত' বা 'হতাশা' এরকম ধারণাগুলো খুব বেশিদিন আগেও আমাদের সমাজে খুব বেশি প্রচলিত ছিল না। আজকের তরুণ সমাজ গ্রাম কী শহর, নগর কী বন্দর, সব শ্রেণি-বর্গেই এরকম বিপজ্জনক ধারা ও ধারণা দ্বারা তাড়িত কিংবা প্ররোচিত। অনেকে বলছেন আমরা 'শিকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছি', অনেকে বলছেন 'আমাদের সাংস্কৃতিক জাগরণ রুদ্ধ হয়েছে', আবার অনেকে বলছেন 'তরুণদের সামনে আমরা কোনো স্বপ্ন-আশার উদাহরণ তৈরি করছি না'। হয়তো এসব বিশ্নেষণ সবই ঠিক। কিন্তু সামাজিক নানা প্রপঞ্চ, অদলবদল, উন্নয়ন-যন্ত্রণা আর রূপান্তরের পাশাপাশি আমাদের চারধারের বাস্তুতন্ত্র যেভাবে বদলাচ্ছে প্রতিদিন তার হিসাব রাখাটাও জরুরি। এই বাস্তুতন্ত্রের একজন প্রজাতি হিসেবে আজকের তরুণ কোনোভাবেই তার স্থানীয় সামাজিক ও প্রাকৃতিক প্রতিবেশের সঙ্গে কোনো আন্তঃনির্ভর সম্পর্কই তৈরি করছে না। তাহলে আজকের তরুণ কী রসদ নিয়ে তার ভবিষ্যতের ভিত মজবুত করতে চায়? তার দর্শন আর জাগরণের কারিগরিটাই বা কী? এসব জিজ্ঞাসার সূত্র আমাদের খুঁজতে হবে। অযুত-নিযুত প্রশ্নহীনতাকে টেনে তুলতে হবে। কারণ বিচ্ছিন্নতার সংস্কৃতি বরাবরই নির্দয় বৈষম্য আর প্রশ্নহীন বিচারহীনতা টিকিয়ে রাখে।

জখম আর আঘাতের বিপরীতে

অবিরাম, প্রশ্নহীন, বিচারহীন জখম আর আঘাত ঘটেই চলে দেশে। খুন হয় নদী, দখল হয় পাহাড়, লুট হয় কৃষিজমি। নিরুদ্দেশ হয় শৈশব কী গ্রামীণ খেলাধুলা। শাহ আবদুল করিমের শৈশবে হারানো দেশীয় খেলাধুলা নিয়ে একটি গান আছে। দাঁড়িয়াবান্ধা, বৌচি, গোল্লাছুট, হাডুডু, পাতাপলান্তি খেলা কতজন তরুণের শৈশব দখল করে ছিল? পাটিসাপটা, পান্তাভাত, ভাপাপিঠা, কাসুন্দি, নাখাম, নাপ্পি কিংবা ঢ্যাপের খই কতজন তরুণের শৈশবে হাতছানি দিয়েছিল? লুঙ্গি, ইনাফি, দকমান্দা, শাড়ি বা নিজের মতো পোশাক কতজন তরুণ আজ বেছে নিতে পারে? কিংবা আমি কোন ভাষায় কীভাবে নিজের কথা বলবো সেটা কতজন তরুণ স্বেচ্ছায় নিজের মতো করে করতে পারছে? বাংলা, চাকমা, মান্দি, সাঁওতালি, কোচ, কডা ভাষা জানে আজ কত শতাংশ তরুণ? ব্যবস্থাটাই এমন যে, আমার দাঁড়ানো কিংবা পোশাকের ধরন কিংবা চুলের স্টাইল কিংবা আমি কী খাব না খাব তার সবকিছুই আজ নিয়ন্ত্রণ করছে নয়া উদারবাদী করপোরেট বাহাদুরি। কতজন তরুণ এই বাহাদুরি প্রশ্ন করে নিজের স্বকীয় ব্যক্তিসত্তার স্পর্ধা নিয়ে আজ দাঁড়াবার সাহস করছে? নাকি আমরা আমাদের তারুণ্যকে প্রশ্নহীনভাবে জিম্মি রাখব মনস্যান্টো, সিনজেনটা, মটোরোলা, নাইকি, অ্যাডিডাস, রেথিয়ন, চায়না কোল, শেভরন, কোক-পেপসি, মুভেনপিক, কেএফসি, পিৎজাহাট, শেল, মাইক্রোসফট কিংবা নেস্‌লের বন্দিশালায়? এতো শুধু শরীর বা মনের ওপর দুঃসহ চাপ নয়; এই চাপ আজকের তারুণ্যের ধমনী কী হাড়ের সজ্জা কিংবা মগজ কী মনের কারিগরি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে দুর্নিবার। প্রশ্নহীন নিয়ন্ত্রণ কী করে? চারধারে ঘটতে থাকা আঘাত আর জখমকে প্রশ্ন করে না। ২০১০ থেকে ২০১৫ এই ছয় বছরে কিশোর খুনখারাবির ঘটনা বেড়েছিল দেশে। বিগত নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেখা গেল দেশের সব বৃক্ষকে হত্যা করা হলো। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী হত্যাও বেড়েছে দেশে। অনেকে বলে থাকেন, 'মোবাইল আর ইন্টারনেটের ফলে আজকের তরুণ সমাজ শেষ'। কথাটি হয়তো একপেশে এবং বিবাদমূলক। কারণ প্রযুক্তির সঠিক ও বৈষম্যহীন ব্যবহার সবসময় জনকল্যাণ বয়ে আনে। অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া বিষয়ে আমার খুব একটা ধারণা নেই, ব্যক্তিগতভাবে আমি ফেসবুকও ব্যবহার করি না। গবেষণার কাজে দুটি 'নেটনোগ্রাফ' করতে গিয়ে আমি বোঝার চেষ্টা করেছিলাম এই সময়ের তরুণ প্রজন্মের ভাষা-ভঙিমা এবং উপস্থাপন রাজনীতি। আমার দুর্বল চিত্ত সহ্য করতে পারেনি। আমি জানি না এর নাম 'ছলনা' বা 'অন্যায়' হবে কিনা। মানুষ কী অবলীলায় মানুষকে পিটিয়ে মারার ছবি যেমন আপলোড করে আবার একইসঙ্গে পাখি হত্যা করে ছবিও পোস্ট করে। কীভাবে করে কে জানে? কিন্তু প্রশ্ন হলো সমাজ ও প্রকৃতিতে এমন কি রূপান্তর ঘটছে যাতে এমন নিষ্ঠুরতা সংক্রমিত হচ্ছে প্রতিদিন। কিংবা সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে নাসিরনগর, শাল্লা, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, গোবিন্দগঞ্জ, কক্সবাজার, পীরগঞ্জে হিন্দুদের ওপর নৃশংস হামলা হচ্ছে। গণমাধ্যম ও রাষ্ট্র যেসব তথ্য প্রকাশ করে তাতে দেখা যায় অপরাধী ও হামলাকারীর অধিকাংশই বয়সে তরুণ। কেন আজ তরুণ সমাজ পাহাড়, নদী, বন, আদিবাসী, হিন্দু, পাখি, বন্যপ্রাণী বা গাছের ওপর নির্দয় হবে? এমন নৃশংসতার কারণ কী আমরা খতিয়ে দেখেছি? প্রকৃতি এবং সংস্কৃতির বৈচিত্র্য, গুরুত্ব এবং অবদান নিয়ে কী আমরা আমাদের শৈশব-কৈশোরে আলোপ জারি রেখেছি? আমাদের বিদ্যায়তন এবং সমাজ কী রাষ্ট্র কি প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অবদান অনুধাবন করতে একজন তরুণকে বহুপক্ষীয় শিক্ষার ময়দানে এনেছে কখনও? তাহলে আমরা কীভাবে বুঝবো এই গ্রামে বা এই দালানে বা এই অঞ্চলে আমি একজন মানুষ হিসেবে একা বাঁচতে পারি না। আমরা সবাই সবার ওপর নির্ভর করেই বাঁচি। এই পরস্পর নির্ভরশীলতার বিজ্ঞানকে মনে ও মগজে ধারণ করবার মতো পরিস্থিতি আমরা চারধারে বিরাজিত রাখিনি বলেই আজ এতো আঘাত আর জখম। এই আঘাত আর জখমের বিপরীতে দাঁড়াতে হলে আমাদের প্রথমত 'নিজেকে নিজের ভেতর আবিস্কার' করতে হবে। নিজের পায়ের তলার মাটি আর মাথার ওপরের আকাশের মেঘের মর্জি বুঝতে হবে। নিজের মাটি, নিজের মানুষ থেকেই বেঁচে ও বেড়ে ওঠবার রসদ জোগাড় করতে হবে। এই বিশ্ব নিখিলে প্রজাতি হিসেবে বেঁচে থাকবার জন্য সকলের প্রতি দায়বদ্ধ ও কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। অন্যের ওপর জুলুম, জখম বা আঘাত পরোক্ষভাবে নিজের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়ার শামিল। আজকের তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এই জটিল সম্পর্ক এবং আমাদের টিকে থাকবার ক্ষেত্রে সকলের অবদানকে বুঝতে হবে। এই বোধ ও উপলব্ধিই হবে 'তারুণ্যের সত্যিকারের সাহসী ও ন্যায্য জাগরণ'। যেমন জেগেছিলেন রাশিমনি হাজং, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, আলফ্রেড সরেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য, কাজী নজরুল ইসলাম, পীরেন স্নাল কিংবা ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের বীর তরুণেরা।

ভরে ওঠুক পুষ্প-পল্লবে

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ ভাগ তরুণ। এখনও শহর-গ্রামে কৃষি, পরিবেশ ও বৈচিত্র্য সুরক্ষাসহ নানামুখী সামাজিক কাজের সঙ্গে যুবরাই নানাভাবে জড়িত। কিন্তু দেশের এক গরিষ্ঠভাগ তরুণের টগবগে যৌবন আর কতদিন গার্মেন্টস কারখানা, নির্মাণ শ্রমিক, প্রবাসী শ্রমিক আর দিনমজুরিতে নিঃস্ব হবে? বাংলাদেশের সামগ্রিক রূপান্তরের নেতৃত্ব ও হাল ধরবে কবে দক্ষ তরুণ প্রজন্ম? এর জন্য দরকার ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, সংগঠন, সংঘ ও রাষ্ট্রের নানামুখী বহুপাক্ষিক জাগরণ ও পরস্পর নির্ভরশীল শিক্ষাচর্চা। দরকার টেকসই সৃজনশীল, কর্মমুখী, সংবেদনশীল উৎপাদন সম্পর্ক। আজকের তরুণ কবিতা লিখবে না কাঁথা বুনবে না কম্পিউটার বানাবে না কাদামাটি মাখবে এই সিদ্ধান্ত আজকের তরুণের। এই সিদ্ধান্তটি নেওয়ার জন্য আসুন ক্ষেত্রটি প্রস্তুত করি। আসুন আমরা আমাদের চারধার জুড়ে, চারপাশ থেকে আমাদের অভিজ্ঞ পূর্বজনদের জ্ঞান-কারিগরি থেকে শক্তি নিয়ে সকলে মিলে বাঁচবার বৈচিত্র্যময় বলয় গড়ে তুলি।

লেখক
গবেষক
প্রাবন্ধিক

মন্তব্য করুন