ইতালি রক্ষণের দুর্বলতা ফাঁস!

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪      

স্পোর্টস ডেস্ক

বিখ্যাত কাতানেচ্চির রক্ষণভাগ কী তাহলে এখন আর ইতালির নেই! এই তো, মাত্র আট বছর আগের কথা। ২০০৬ সালে বিশ্ববাসী প্রাণভরে দেখল, মার্সেলো লিপ্পি আর ফ্যাবিও কানাভারোর ডিফেন্সিভ কৌশল কেমন করে বিশ্বকাপ জেতাল আজ্জুরিদের। সিজার প্রানদেলি্ল, গতানুগতিক রক্ষণশীল ফুটবল ছেড়ে আক্রমণাত্মক ধারায় ফিরে আসতে চাইছেন। সে কারণেই সম্ভবত বর্তমান ইতালি কোচের স্কোয়াডে জগদ্বিখ্যাত কোনো ডিফেন্ডার নেই। পরশু রাতে রিও ডি জেনিরোর ভোল্টা রেডোন্ডায় এস্টাডিও ডা সিদাদানিয়ায় স্বাগতিক ক্লাব ফ্লুমিনেন্স শেষ পর্যন্ত ফাঁস করে দিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আজ্জুরিদের রক্ষণভাগের দুর্বলতা! ব্রাজিলের স্থানীয় ক্লাবটি ৩-৫ গোলে হারলেও ইতালির রক্ষণ চিরে তিনবার প্রানদেলি্লর জালে বল জড়িয়ে দিয়েছে।
অবশ্য সব সময় নড়বড়ে একটি দল নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে এসে সাফল্যের শিখরে ওঠে ইতালি। এ ক্ষেত্রে তাদের জুড়ি মেলা ভার। এ কারণেই আজ্জুরিদের সবসময়ই বলা হয় বিশ্বকাপের দল এবং বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিটের তকমা সাঁটা থাকে তাদের গায়ে। গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বাফন আর মিডফিল্ডার আন্দ্রে পিরলো হচ্ছেন ব্রাজিল বিশ্বকাপে দলটির প্রাণভোমরা। যদিও ব্যাডবয় মারিও বালোতেলি্লর নেতৃত্বে ইতালির আক্রমণভাগ। সঙ্গে আছেন আন্তোনিও কাসানো, সিরো ইমোবিল, লোরেনজো ইনসিগ্নে কিংবা আলেসসিও সেরসিন। ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে কিন্তু উজ্জ্বল ছিলেন ইনসিগ্নে আর ইমোবিল। সিরো ইমোবিল তো হ্যাটট্রিকই করে বসেছেন। বাকি দুই গোল করেছেন লোরেনজো ইনসিগ্নে।
ইমোবিল কতটা আক্রমণাত্মক স্ট্রাইকার, বিশ্বকাপের আগেই সেটা টের পাওয়া যাচ্ছে। সিরি-এ লীগে এবারের সর্বোচ্চ গোলদাতা তোরিনোর এই ফরোয়ার্ড। যে কারণে জার্মান জায়ান্ট বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের চেক হাতে নিয়েই বিশ্বকাপে পা রাখতে যাচ্ছেন তিনি। রোববার রাতে ফ্লুমিনেন্সের রক্ষণভাগকে ভেঙে তছনছ করেছেন। তার সঙ্গে যোগ দেওয়া ইনসিগ্নের কারণে সিজার প্রানদেলি্লর সেরা একাদশের আক্রমণভাগে ঠাঁই পাওয়া নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। বালোতেলি্ল-কাসানো জুটি নাকি ইমোবিল-ইনসিগ্নে জুটি! মধুর দ্বন্দ্বে পড়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে শুরু করবেন কোচ। তবে ইমোবিল বলেন, 'কোচই এ ব্যাপারে তার পছন্দ ঠিক করবেন। আমরা শুধু কঠিন পরিশ্রম করে যাব এবং দলের সাফল্যে অবদান রাখার চেষ্টা করব। যদি সাইডলাইনেও বসে থাকি, তাহলে চেষ্টা থাকবে দলের সাফল্য কীভাবে আনা যায়।' আজ্জুরিদের বিশ্বকাপ শুরু হবে কিন্তু ১৪ জুন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।
২২ মিনিটেই প্রথমবার ফ্লুমিনেন্সের জালে বল জড়ান ইনসিগ্নে। ২৫ মিনিটে সমতা ফেরান ফ্লুমিনেন্সের শিকুইনহো। ৩০ মিনিটে ইতালিকে এগিয়ে দেন ইমোবিল। ৩৬ মিনিটে আবারও সমতা। গোলদাতা কার্লিনহোস। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, ৫৪, ৫৫ ও ৫৬ মিনিটে হয় তিনটি গোল। প্রথম দুটি ইমোবিলের এবং পরেরটি ইনসিগ্নের। ৬৪ মিনিটে ম্যাথিউজ ফ্লুমিনেন্সের হয়ে একটি গোল শোধ করেন।