রিবেরির শোক ভোলালেন বেনজেমা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৪      

স্পোর্টস ডেস্ক

রিবেরির শোক ভোলালেন বেনজেমা

জ্যামাইকার বিপক্ষে ৮-০ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচে করিম বেনজেমা করেছেন ২ গোল এএফপি

স্বয়ং জিনেদিন জিদান তার নাম দিয়েছিলেন 'জুয়েল অব ফ্রান্স ফুটবল'। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ মহানায়কের উত্তরসূরি হিসেবে নিজের নামের প্রতি সুবিচারও করেছেন ফ্রাঙ্ক রিবেরি। ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফরাসিদের আশার মশালটা ছিল তার হাতেই। ইনজুরির থাবায় রিবেরি দল থেকে ছিটকে পড়ার পাশাপাশি ফরাসিরাও ভেবে নিয়েছিল বিশ্বকাপে তাদের আশার প্রদীপ হয়তো নিভে গেছে। কিন্তু রোববারের প্রীতি ম্যাচে জ্যামাইকার বিপক্ষে ফ্রান্স ৮-০ গোলের বড় জয় পাওয়ার পর রিবেরির শোক অন্তত কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দিতে পেরেছেন করিম বেনজেমা। রিবেরির অনুপস্থিতিতে দলের আক্রমণভাগের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়ে দুটি গোল করেছেন ফরাসি এ স্ট্রাইকার। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও তিন গোল। বেনজেমার মতোই জোড়া গোল করেছেন ব্লেইজ মাতুইদি এবং অ্যান্তনিও গ্রিয়েজম্যান। একটি করে গোল করেছেন ইয়োহান কাবাই ও অলিভার জেঁরোড।
১৯৯৫ সালে ইউরো বাছাইপর্বের ম্যাচে আজারবাইজানের বিপক্ষে ১০-০ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। তারপর এটাই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড।
ফ্রান্সের লিঁলে শহরে স্তাদে পিয়েরে মউরি স্টেডিয়ামে ৪৯ হাজার স্বাগতিক সমর্থকের সামনে বেনজেমাদের গোল-উৎসবের শুরু করেন ইয়োহান কাবাই। ১৭ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলটি করেন পিএসজির এ মিডফিল্ডার। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের হয়ে বাকি দুটি গোল করেন মাতুইদি ও বেনজেমা। ৩৭ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে বেনজেমার করা প্রথম গোলটিতে জ্যামাইকান গোলরক্ষক ব্যারেটের কিছুই করার ছিল না। ৬৩ মিনিটে ঠিক একইভাবে ব্যারেটকে অসহায় বানিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফরাসি এ স্ট্রাইকার। বিরতির পর আরও দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠেন দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। জেঁরোড, মাতুইদি ছাড়াও বিকল্প হয়ে মাঠে নামা গ্রিয়েজম্যান করেছেন ম্যাচের শেষ দুটি গোল।
চোটের কারণে রিবেরি দল থেকে ছিটকে পড়ার দু'দিনের মাথায় শোককে শক্তিতে পরিণত করলেন দেশমের শিষ্যরা। বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার পর রিবেরি নিজেই বলেছিলেন, 'মনের ভেতরই মরে গেছি।' কিন্তু ফরাসিদের কোচ দেশম ভাবছেন অন্য কিছু। রিবেরিকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করার অভিপ্রায়ে ম্যাচ শেষে দেশম বলেন, 'আমরা বিশ্বমানের একজন স্ট্রাইকারকে হারিয়েছি। সে নিজের সেরা ফর্মে থাকাকালে ফ্রান্স সবসময়ই শক্তিশালী। কিন্তু দলে আরও অনেক খেলোয়াড় আছেন, যারা একসঙ্গে ফ্রান্সকে লক্ষ্যে পেঁৗছে দিতে সক্ষম।'
এ নিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত রইল ফ্রান্স। তাদের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। কেননা, বেনজেমার একটি শট জ্যামাইকার গোলপোস্ট কাঁপিয়ে লক্ষভ্রষ্ট হয়। শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে দলকে জেতানোর পর বেনজেমা বলেন, 'ব্রাজিলের উদ্দেশে যাত্রা করার আগে এ জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল। দলের সবাই সুখী। কারণ আমরা ভালো খেলেছি।'
'ই' গ্রুপে ইকুয়েডর, হুন্ডুরাস ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে ফ্রান্সকে। আগামী রোববার হুন্ডুরাসের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে দেশমের দল।