আইসিসির বোর্ডসভায় তিন মোড়ল ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের একাধিপত্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর; ভারতীয় বোর্ডপ্রধান হয়ে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ায় নিজ বোর্ডে তিনি তোপের মুখে পড়েছেন। একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বোর্ডসভায় এ বিষয়টি 'স্পেশাল এজেন্ডা' হিসেবে রাখা হয়েছে। কারণ বেশ কয়েকটি রাজ্যের বোর্ড এসব পরিবর্তনের পক্ষে নয়।
সভা শেষে বিসিসিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আইসিসির কাঠামোগত এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে সদস্যরা বোর্ড সভাপতি ও সচিবকে আলোচনার দায়িত্ব দিয়েছে। তবে সেটা যেন কোনোভাবেই ভারতের স্বার্থবিরোধী না হয়। তবে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে ভারতীয় বোর্ডের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা বোর্ড সভাপতি শশাঙ্ক মনোহরের বিপক্ষে বেশ কড়া কথাই বলেছেন, 'মহানুভব হওয়া মোটেও দোষের কিছু নয়। কিন্তু সদস্যদের তো সঠিকভাবে জানাতে হবে সবকিছু। আমরা দেখলাম, এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার আগে আমাদের কিছু জানানোই হলো না। বিসিসিআই রাজস্ব নিয়ে কোনো সমঝোতা করছে কি-না সেটা আমাদের জানানো উচিত। কারণ এতে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।'
আইসিসির সর্বশেষ বোর্ডসভায় শশাঙ্ক মনোহর বলেছিলেন, সংবিধানে বেশ কিছু কাঠামোগত সংশোধনী আনা হবে। আর এসব সংশোধন হলে তিন মোড়লের একচ্ছত্র ক্ষমতা কমে যাবে। শুধু ক্ষমতা নয়, অতিরিক্ত লাভের ৬ শতাংশ অর্থও আইসিসিকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন মনোহর। আর এ ৬ শতাংশ মানে ১০ থেকে ২০ কোটি ডলার। সেটি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলাতেই মূলত চটে গেছে ভারতীয় বোর্ডের একটি অংশ। ভারতের বেশ কিছু রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা নাকি মনে করছে, লোধা কমিশনের কারণে এরই মধ্যে বিসিসিআই বেশ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের মতে, মনোহর এসব পরিবর্তনের কথা বলছেন একজনের বিরোধিতা করার জন্য। সে একজন যে শ্রীনিবাসন সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। নাম প্রকাশে বোর্ডের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, 'এটাই (শ্রীনিবাসনের বিরুদ্ধাচরণ) একমাত্র যৌক্তিক কারণ। বিসিসিআইর যদি এসব অর্থ প্রয়োজন না হয়, তাহলে অন্যান্য ভারতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনকে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কোনোভাবেই ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। এই অর্থ ভারতের করদাতা ও বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য, অন্য কারও নয়।'

মন্তব্য করুন