একটি মাত্র বছর। এর মধ্যে বদলে গেছে কত কিছু। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল গিয়েছিল কোনো স্পন্সর ছাড়া। অথচ এখন মাশরাফি-সাকিবদের বুকে নাম লেখানোর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সে কি প্রতিদ্বন্দ্বিতা! আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপ এবং আগামী বছর ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের স্পন্সরশিপ বাবদ ১১ কোটি টাকার চুক্তি করেছে 'ফ্রেশ'। সত্যিই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের 'ব্র্যান্ড ভ্যালু' তরতর করে বাড়ছে।
অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্রে জানা গেছে, শুধু আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপের জন্য আট কোটি টাকায় বাংলাদেশ দলের স্পন্সর হয়েছে ফ্রেশ। আইসিসির কোনো একটি ইভেন্টে এটি তো বাংলাদেশ দলের জন্য রেকর্ড। দুই বছরের জন্য যেখানে রবি দিচ্ছে ৪২ কোটি টাকা সেখানে একটি মাত্র টুর্নামেন্টের জন্য আট কোটি! টি২০ বিশ্বকাপে ফ্রেশ যে মাশরাফি-সাকিবদের স্পন্সর, সেটা স্বীকার করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীও। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বিষয়টি তিনি পরিষ্কার করেননি। আর টাকার পরিমাণও জানাননি তিনি।
টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের টিম স্বত্ব কেনা নিয়ে কম লড়াই হয়নি। আইসিসির ইভেন্ট বাইরে রেখে 'রবি'র সঙ্গে চুক্তি করেছিল বিসিবি। আইসিসির কর্মাশিয়াল পার্টনার হিসেবে এখন কোনো মোবাইল অপারেটর কোম্পানি না থাকায় টি২০ বিশ্বকাপেও স্পন্সর হতে চেয়েছিল রবি। মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের কারণে তাদেরই অগ্রাধিকার দিয়েছিল বিসিবি; কিন্তু রবির প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি তারা। ফ্রেশ তাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তাই ফ্রেশকেই বেছে নেয় বিসিবি। ক্রিকেটে ফ্রেশের আগমন কিন্তু খুব বেশি দিনের নয়। সদ্য সমাপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে মিরাজ-শান্তদের স্পন্সর করে ক্রিকেটে তাদের যাত্রা শুরু। টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের স্পন্সর দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। বিশ্বকাপে জাহানারা-সালমাদের জার্সিতে তাদের ব্র্যান্ড 'কিউট' লেখা থাকবে।
পরিবর্তনটা শুরু হয় ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকেই। সেখানে অসাধারণ ক্রিকেট খেলে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেন মাশরাফি-সাকিবরা। বিশ্বকাপের পর গত বছর মে মাসে বিজ্ঞাপনী সংস্থা 'টপ অফ মাইন্ড' দুই বছরের জন্য ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্পন্সরশিপ কিনে নেয়। পরে সেটা তারা বিক্রি করে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কাছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রথম বড় স্পন্সর চুক্তি করেছিল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সাহারা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে চুক্তি শেষ হওয়ার ১৫ মাস আগেই সরে দাঁড়ায়।

মন্তব্য করুন