অনুশীলন মাঠে ট্যাকটিক্যাল বোর্ডের ব্যবহার খুব কমই দেখা যায়, মূলত ট্যাকটিক্স ক্লাসেই ফুটবল কোচরা এর শরণাপন্ন হন; কিন্তু উপায়ন্তর না দেখে এএফসি কাপ মিশন শুরুর আগে দেশের মাটিতে গতকাল শেষ অনুশীলন পর্বে বোর্ডটা মাঠেই নিয়ে এলেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক। এসএ গেমস শেষ করে ইয়াসিন, জামাল, তপুরা সবে যোগ দেওয়ায় কোচ পুরো দলটি যে বুঝে পেলেন গতকালই। প্রথম ম্যাচে সিঙ্গাপুরের ট্যাম্পাইন রোবার্সের বিপক্ষে কোন ফরমেশনে খেলবেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা, সবার উপস্থিতিতে তাই নিয়ে মাঠেই চলল মানিকের কাটাছেঁড়া। বোর্ডে দেখানো ছকগুলোতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য ম্যাচ অনুশীলনে জামাল ও ল্যান্ডিংকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখা হলো বার কয়েক। কখনও মিলল, আবার কখনও মিলল না। ২৩ ফেব্রয়ারি ম্যাচ; কিন্তু এখন না মিললেই যে বিপত্তি। এএফসি কাপ যে বর্তমান শেখ জামালের জন্য ইমেজ রক্ষার মিশন। দলবদল নাটককে কেন্দ্র করে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা সিঙ্গাপুর থেকে এএফসি কাপের প্রথম ম্যাচ থেকে ভালো একটি ফল আনতে পারলেই আবার ঘুরে যাবে ধানমণ্ডি ক্লাবের চেহারা। নতুনে জামালের দায়িত্ব গ্রহণ করে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন কোচ নিজেই। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও ১৮ সদস্যের দলে জয়ের টনিক ছড়িয়ে দিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে আজ দুপুরেই রওনা হচ্ছে তার দল, 'আমি আজই পুরো দলকে নিয়ে প্রথমবারের মতো অনুশীলন করলাম। যেহেতু সময় কম, দলের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব রয়েছে। তবে আমার বিশ্বাস, শেখ জামাালের যে যোগ্যতা, তা মাঠে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে আমরা জয়ী হতে পারি।'
ভাগ্য ও মাঠে দ্যুতি ছড়ানো পারফরম্যান্সের ওপর ভিওি করেই এএফসি কাপের টিকিট অর্জন করেছে শেখ জামাল। বাছাইপর্বে স্বাগতিক কিরগিজ ক্লাব এফসি আলগাকে টপকে প্লে-অফে খেলার ছাড়পত্র পায় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা; কিন্তু ইন্দোনেশিয়া ও কুয়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং আফগানিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার ক্লাবগুলো নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় প্লে-অফ না খেলেই সরাসরি ১৬ সদস্যের এএফসি কাপের টুর্নামেন্টে নাম ওঠে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নদের। প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ এস লীগ চ্যাম্পিয়নদের সম্পর্কে খুব বেশি জানাশোনা না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ঠিকই টুকে নিয়েছেন মানিক। দলটিতে যে গতবারের লীগের একজন শীর্ষ গোলদাতা আছেন, তা আছে মানিকের নোটবুকে।
সাফল্যের দুই কাণ্ডারি মামুনুল, নাসিরউদ্দীনকে ছাড়া প্রায় তিন বছর পর মাঠে নামবে শেখ জামাল। সমস্যা আছে এশিয়া কোটায় দলে থাকা ক্যামেরুন বংশোদ্ভূত ভিয়েতনামি মিডফিল্ডার এনগুয়েন বেনকে নিয়েও।
তবে শেখ জামালের আশা বলতেই তিন ত্রয়ী ফরোয়ার্ড ওয়েডসন, এমেকা ও ল্যান্ডিং। তারা হাসলেই যে হাসে ধানমণ্ডি, তার সাক্ষী তো দেশের অগণিত ফুটবলপ্রেমী। নতুনে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়া ওয়েডসন আবারও আস্থা রাখতে বললেন তাদের ওপর, 'সিঙ্গাপুরের দলটি যত শক্তিশালী হোক না কেন, আমরাও তো শক্তিশালী। সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে আমরাও জিততে পারি।'
স্কোয়াড :সোহেল, হিমেল ও মুস্তাক (গোলরক্ষক); ইয়াসিন, ইয়ামিন মুন্না, তপু বর্মণ, লিঙ্কন, কেষ্ট, রাকিন (ডিফেন্ডার); জামাল ভূঁইয়া, জোসেফ নুর, জাহেদ পারভেজ, সোহেল রানা, বেন (মিডফিল্ডার); ওয়েডসন, এমেকা, ল্যান্ডিং ও এনামুল (ফরোয়ার্ড)।

মন্তব্য করুন