সমকাল :ব্যক্তিগতভাবে ৫০ মিটার ফ্রি পিস্তলে আপনার হাত ধরেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম স্বর্ণ- এই চমকটার জন্য নিজে কখনও প্রস্তুত ছিলেন?
শাকিল :আমি শুনেছি, ২৩ বছর আগে দলগতভাবে আতিক ভাইরা এ ইভেন্টে প্রথম স্বর্ণ জিতেছিলেন। আর ব্যক্তিগতভাবে আমিই প্রথম জিতলাম। ভালো কিছু করতে পারব, সে বিশ্বাস আমার সব সময়ই ছিল।
সমকাল :স্বর্ণ জয়ের পর অনেকের শুভেচ্ছা পেয়েছেন নিশ্চয়ই?
শাকিল :আসলে শুটিংয়ের প্রথম ইভেন্টাই ছিল আমার। আর আমিই প্রথম স্বর্ণটা জিতেছি, এনেছি প্রথম পদক। স্বাভাবিকভাবে রেঞ্জে সবাই আমাকে নিয়ে খুব মাতামাতি করেছে। ভারতীয় মিডিয়ায় আমার প্রচুর ছবি এসেছে, অনেক টিভি চ্যানেল ইন্টারভিউ নিয়েছে। সবাই আমার খুব প্রশংসা করছে। সব কিছু মিলিয়ে এখনও তার মধ্যেই আছি।
সমকাল :দেশে ফিরে নিশ্চয়ই সময়টা খুব উপভোগ করছেন?
শাকিল :অন্যান্য বার গেমস থেকে এত ভালো সম্মান আনতে পারিনি। এবারই প্রথম দেশের জন্য বড় কিছু করতে পারলাম। সবাই আমাকে খুব কদর করছে, সম্মান দিচ্ছে। আবার আর্মিও (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) আমাকে খুব খোঁজখবর নিচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল, খুব বড় কিছু হবো। শুটিংয়ের মাধ্যমে এবার সেটা পূর্ণ হলো।
সমকাল :বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করছেন?
শাকিল :সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি করছি। সেনাবাহিনীই আমার জীবনের সব।
সমকাল :শুটিংয়ে আসা কীভাবে?
শাকিল :জীবনে শুটার হবো, তা আমি কখনোই ভাবিনি। ছোটবেলায় ভাবতাম, শুটিং মানে অভিনয়! মূলত ২০১৪ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া পরই আমার শুটিংয়ে আসা। ট্রেনিংয়ে ফায়ারিংয়ে খুব ভালো ছিলাম বলেই আমাকে আর্মি ডিপ শুটিং দলে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই শুটিং ফেডারেশন চেনা। আর এখন জাতীয় দলে।
সমকাল :তাহলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারাটাই আপনার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট?
শাকিল :অবশ্যই। বলতে পারেন, আর্মিই আমার জীবন বদলে দিয়েছে। প্রয়োজনীয় অস্ত্র-গোলাবারুদ থেকে শুরু করে সব রকম সহযোগিতাই আর্মি করে থাকে। আমি যখন যা চেয়েছি, তাই দিয়েছে। কোনো রকমের কৃপণতা তারা কখনও করেনি। আর্মির কাছে আমি চিরঋণী। তাদের সহায়তায়ই আমার এতদূরে আসতে পারা।
সমকাল :জীবনের প্রথম পদক জিতেছিলেন কবে?
শাকিল :২০১৪ সালে আন্তঃবাহিনী শুটিং প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ জয়ের মধ্য দিয়েই আমার প্রথম পদক জেতা শুরু। তার পর থেকে জাতীয় শুটিংয়ে বেশ কয়েকবার পদক জিতেছি।
সমকাল :শুটিং ও চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনাও তো চলছে?
শাকিল :শুটিংয়ের জন্য পড়াশোনাটাই করা হচ্ছে না। এইচএসসি পাস করে খুলনায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছি। কিন্তু সময় দেওয়া হয় না একদমই। আসলে শুটিং ছাড়া কিছুই ভাবতে পারি না।
সমকাল :পরবর্তী লক্ষ?
শাকিল :২০১৬ সালে বিশ্বকাপ আছে, এ ছাড়া অলিম্পিকে খেলার ইচ্ছা আছে। যেহেতু স্কোর ভালো করতে পারছি, ধরে রাখতে পারলে অলিম্পিকেও ভালো কিছু আসতে পারে ।
সমকাল :গেমসে বিশ্বব্যাপী খ্যাতিসম্পন্ন কোনো শুটারের সঙ্গে আলাপ হয়েছে কি?
শাকিল :ভারতের অলিম্পিক পদক জয়ী বিজয় কুমারের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। অল্প বয়সেই ভালো পারফরম্যান্সের জন্য আমার খুব প্রশংসা করলেন তিনি। বললেন, 'তোমার মধ্যে প্রতিভা আছে, প্রতিভাটাকে কাজে লাগাও। পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে অলিম্পিকে পদক জিততে পারবে তুমি।'
সমকাল :শুটিংয়ের বাইরে আর কী করতে ভালো লাগে?
শাকিল :আমার একটাই ধ্যানজ্ঞান শুটিং, শুটিং, শুটিং এবং অলিম্পিকে পদক জেতা।
সমকাল :অন্তত এবার বাড়ি ফিরে কী আশা করছেন?
শাকিল :প্ল্যান তো অনেক। ঘনিষ্ঠ অনেকেই ফোন দিয়ে বাড়ি ফেরার তারিখ জিজ্ঞেস করছে। এ ছাড়া আমাদের প্রাণী ও মৎস্যসম্পদ মন্ত্রীও নাকি আমাকে সংবর্ধনা দেবেন বলে শুনেছি। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক লোক আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
সমকাল :ইতিমধ্যে হয়তো শুনেছেন, প্রধানমন্ত্রী এসএ গেমসে বাকি দুই স্বর্ণ জয়ী মাবিয়া ও শিলার দায়িত্ব নিয়েছেন।
শাকিল :হ্যাঁ, ব্যাপারটা জানি। আমিও যখন তাদের মতো দেশের জন্য কিছু করতে পেরেছি, সরকার হয়তো আমার কথাও ভাববে।
সমকাল :চাকরি ও শুটিংয়ের বাইরে পরিবার নিয়ে কিছু বলুন।
শাকিল :পরিবারে মা-বাবা, আমরা দুই ভাই ও এক বোন আছি। ভাই-বোনদের মধ্যে আমিই সবার বড়। আব্বু সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন।
সমকাল :ছেলেবেলা নিয়ে কিছু জানতে চাই।
শাকিল :আসলে আমার জীবনটাই গোলাবারুদের মধ্যে দিয়ে বড় হওয়া। আব্বু সৈনিক থাকায় যশোর ক্যান্টনমেন্টে দীর্ঘদিন ছিলাম, এ ছাড়া ঢাকায় সাভার ক্যান্টনমেন্টেও থাকা হয়েছে। আর এখন তো আমি নিজেই সৈনিক ( হা..হা.. )।

মন্তব্য করুন