শুটিংয়ে আসছে নতুন প্রজন্ম

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৬      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুটিংয়ে আসছে নতুন প্রজন্ম

মা সাবরিনা সুলতানা ও বাবা সাইফুল আলম চৌধুরীর পথ ধরে শুটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চায় ১২ বছর বয়সী রওনক

মা সাবরিনা সুলতানা ও বাবা সাইফুল আলম চৌধুরী রিংকি দেশের নামকরা শুটার। খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করলেও কোচিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় আজও যাদের জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটে যাচ্ছে শুটিং রেঞ্জে। স্বাভাবিকভাবে মা-বাবার সানি্নধ্যে গুলির শব্দের মধ্যেই বেড়ে ওঠা রওনকের। যে ছেলের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিল, কবে সে বন্দুক ও গুলির প্রেমে পড়ে গেছে তা নিজেও জানে না। কিন্তু গত বছর থেকেই মা-বাবার কাছে বায়না ধরেছে, সেও শুটার হতে চায়। শুটার মা-বাবাও বড় ছেলের ইচ্ছায় বাধা হয়ে দাঁড়াননি। ছেলের হাতে তুলে দিয়েছেন বন্দুক। ১২ বছর বয়সী রওনকই এবার জাতীয় শুটিংয়ে জুনিয়র বিভাগে গুলশান রাইফেল ক্লাবের পক্ষে গুলি ছুড়বে। কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ী মা সাবরিনা সুলতানা কখনোই চাননি ছেলে এখনই জাতীয় শুটিংয়ে নাম লেখাক, 'রওনক নিজের ইচ্ছাতেই শুটিংয়ে এসেছে। অল্প কয়েক দিনের অনুশীলনে ভালোও করছে। খুব দ্রুত উন্নতি করছে। কিন্তু আমি চাইনি রওনক এবারই জাতীয় কম্পিটিশনে খেলুক। মূলত ওর জেদের কাছে হার মানতে হয়েছে।' রওনকের জেদটা যে বাংলাদেশের শুটিংয়ের জন্যই নতুনের জয়গান।
গতকাল উদ্বোধন হওয়া ১০ মিটার রেঞ্জে অনুশীলনে অনবরত পিস্তলে গুলি ছুড়ে গেল রওনক। ১০ ও ৭ বৃত্তাকার স্কোরশিটের মধ্যে পার্থক্য সে বোঝে না। কিন্তু গুলিটা মাঝখানে লাগাতে হবে, সে উদ্দেশ্য তার মাথায় গাঁথা। শুটিং নিয়ে রওনকের ভবিষ্যৎ ইচ্ছা, 'আসলে আম্মু ও আব্বুর খেলা দেখেই আমারও খেলতে ইচ্ছা করে। কিন্তু আমার রাইফেল নয়, পিস্তল ভালো লাগে। আমি পিস্তল শুটারই হতে চাই।' অনুশীলনে ৬০০-এর মধ্যে ৫১৯ স্কোর তার সর্বোচ্চ।
গতকাল থেকে শুরু হওয়া জাতীয় শুটিংয়ে রওনকের মতো কম বয়সী কেউ নেই। তবে বরাবরের মতোই আছে নতুন মুখের সমাহার। আট দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় দেশের মোট ৩৫টি ক্লাবের ৩১০ জন শুটার অংশ নেবে। গতকাল দুপুরেই অলিম্পিক মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছেন শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী। জাতীয় প্রতিযোগিতায় তিনি তার সার্ভিসেস সংস্থা নৌবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করবেন। বাংলাদেশের আরেক কৃতী শুটার শোভন চৌধুরী খেলবেন রাইফেল ক্লাবের হয়ে। প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্তদের নিয়ে বিদেশি কোচের অধীনে হবে দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলন।
এর আগে গুলশান শুটিং কমপ্লেক্সে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক বেক্সিমকো কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। তাদের পাশে রেখে একই মঞ্চে 'ভিশন ২০২০' ঘোষণা করে শুটিং ফেডারেশন। অর্থাৎ, টোকিও অলিম্পিকে শুটিং থেকে পদক চাই বাংলাদেশের। সে লক্ষ্যে হেসামউদ্দীন আহমেদ নামে আধুনিক ১০ মিটার রেঞ্জের উদ্বোধন হলো গতকাল।
কৃতী ক্রীড়া সংগঠক সালমান এফ রহমান বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, শুটিংয়ে ভালো সম্ভাবনা আছে। শুটিংয়ের উন্নতি করার জন্য যা যা দরকার, সেদিকে অবশ্যই নজর দেব।'
একই মঞ্চে পাঁচ কৃতী সংগঠককে পুরস্কৃত করেছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন। তারা হলেন_ হেসামউদ্দীন আহমেদ, আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, জালাল উদ্দীন আহমেদ, মেহেদী আলী ইমাম (বীরবিক্রম) ও কাজী মনিরুজ্জামান। সব মিলিয়ে গতকাল গুলশান শুটিং কমপ্লেক্স রূপ নেয় বিয়েবাড়িতে। শুটাররা এবার ভালো কিছু করতে পারলেই মিলবে পূর্ণতা।