ক্যাচ উঠে ক্যাচ পড়ে

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০১৬      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্যাচ উঠে ক্যাচ পড়ে

সাকিবের হাসিমুখ দেখে মনে হতে পারে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন। তবে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময় গতকাল এমন উপলক্ষ খুব কমই পেয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা এপি

কয়টি ক্যাচ ফেললে ফিল্ডিং ব্যর্থতার ষোলোকলা পূরণ হয়! অন্যদের বেলায় সংখ্যাটি দুই অতিক্রম করলেই গেল গেল রব উঠে যায়। ফিল্ডিং কোচ তো বটেই, পুরো কোচিং স্টাফকেই ধুয়ে দেওয়া হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল গতকাল পাঁচটি লোপ্পা ক্যাচ ফেলেছে। সে সঙ্গে দুটি কঠিন ক্যাচও ছুটেছে, যেগুলো ধরা উচিত ছিল। তাদের ফিল্ডিং নিয়ে এখন কী বলা উচিত?
পাঁচটি লোপ্পা ক্যাচের মধ্যে দুটি আবার সেঞ্চুরিয়ান বেন স্টোকসের। প্রথমটি তাসকিনের বলে মিড অনে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ফেলেন। তখন স্টোকসের রান ৬৯। পরের ওভারেই মাশরাফির বলে ডিপ কাভারে মোশাররফ রুবেল ইংলিশ এ ব্যাটসম্যানের যে ক্যাচটি ফেলেন তা ছিল রীতিমতো হাস্যকর। দ্বিতীয় ক্যাচটি ছাড়ার সময় স্টোকসের রান ৭১। দু-দুটি লোপ্পা ক্যাচ তোলার পরও উইকেটে থেকে যাওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়। ভাগ্যগুণেই তা সম্ভব। আর স্টোকসও ভাগ্যের সহায়তাকে বিফলে যেতে দেননি। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা তুলে নিয়েছেন তিনি অনায়াসে। অথচ দুটি ক্যাচের একটি ধরলেই ওয়ানডেতে নিজের সেরা স্কোরটাকেও (৭৪) টপকানো হতো না তার। আর নিশ্চিতভাবেই ইংল্যান্ডের তিনশ' রানও ঝুঁকির মুখে পড়ে যেত। মাত্র ৬৩ রানে ৩ উইকেট পতনের পর স্টোকস ও অভিষিক্ত ডাকেটের ১৫৩ রানের জুটির কল্যাণেই ম্যাচে ফিরে আসে ইংলিশরা। একটি ক্যাচ ধরতে পারলেই এ জুটি একশ' রানের আগেই ভেঙে যেত।
স্টোকস একাই সুযোগ পাননি। মাত্র ক'দিন আগে আফগানিস্তান সিরিজ দিয়ে সাড়ে আট বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মোশাররফ রুবেল গতকাল যেন হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। স্টোকসের পর বেন ডাকেটেরও ক্যাচ ফেলেন তিনি এবং সেটিও ছিল দৃষ্টিকটু। ৫৯ রানে অফস্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছিলেন ডাকেট। কিন্তু অতি সহজ সে ক্যাচটি হাতে জমাতে পারেননি তিনি। বল তার তালুতে লেগে পড়ে যায়। ডাকেট অবশ্য হাফ সেঞ্চুরির পর পরই মাশরাফিকে পুল করতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় বল আকাশে থাকার পরও সেটি দৌড়ে গিয়ে কেউ ধরতে পারেননি। দৌড়ে যাওয়া চারজনের মধ্যে রুবেলও ছিলেন। এখানে অবশ্য তাকে একা দায় করা যায় না। তবে এর আগেই দুটি সহজ ক্যাচ ফেলে আত্মবিশ্বাস পুরোটাই খুইয়ে বসেন রুবেল। কোনো বল ঠিকঠাক ধরতেই পারছিলেন না তিনি। তার এমন অবস্থায় অধিনায়ক মাশরাফির পড়ে যান বিপদে। তাকে যেখানে দাঁড় করান বলও সেখানেই যায়!
এ দু'জনের ক্যাচ ফেলার প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারছিল না বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। হয়তো এ কারণেই শেষ দিকে ক্রিস ওকস ও জস বাটলারের তুলে দেওয়া ক্যাচগুলোর কাছেই যেতে পারছিলেন না তারা। শফিউলের বলে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে ১১ রানের সময় ক্যাচ তুলেছিলেন ওকস। ক্যাচটি ধরার জন্য দৌড় শুরু করেছিলেন মাশরাফি ও তাসকিন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বল তাসকিনের সামনে পড়ে যায়। আর একটু আগে দৌড় শুরু করলে হয়তো সহজেই ক্যাচটি ধরতে পারতেন তিনি। এরপর ক্যাচ তুলেছিলেন বাটলারও। এবারও ক্যাচটি ধরার জন্য সীমানা থেকে দৌড়ে আসেন মোসাদ্দেক ও পেছনে দিকে ছুটে যান তামিম। কিন্তু কে ধরবেন সেটা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগায় অতি সহজ ক্যাচটি হাস্যকরভাবে মাটিতে পড়ে যায়।
একের পর এক ক্যাচ ফেলায় বাংলাদেশের ফিল্ডাররা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। যে কারণে শেষ দিকে বাটলার ও ওকস বিনা বাধায় বেশ কিছু সিঙ্গেলসকে ডাবলসে পরিণত করেছেন। অথচ দিনের শুরুতে সাবি্বর ফিল্ডিংয়ের কি ঝলক দেখিয়েছিলেন। ভয়ানক হয়ে উঠতে থাকা জেসন রয়ের ক্যাচটি লং অন সীমানার ওপর থেকে লুফে নেন চমৎকার দক্ষতায়। এরপর চিতার ক্ষিপ্রতায় রান আউট করেন জনি বেয়ারেস্টোকে। তার অর্ধেক তৎপরতাও যদি বাকিরা দেখাতে পারতেন!