তবু আফসোস নেই সাকিবের

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৭

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০১০ সালের জুলাইয়ে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল স্টিভেন স্মিথের। সে বছর খেলেছিলেন চার টেস্ট। ২০১১ সালে খেলেছেন একটি, ২০১২ সালে একটিও নয়। ২০১৩ থেকে দলে নিয়মিত হওয়া স্মিথের খেলা টেস্টসংখ্যা বর্তমানে ৫৪। ডেভিড ওয়ার্নারের টেস্ট অভিষেক স্মিথেরও প্রায় দেড় বছর পরে_ ২০১১ সালের ডিসেম্বরে। সেই ওয়ার্নার এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৬৪টি টেস্ট। টেস্ট অভিষেক হিসেবে নিলে উলি্লখিত দু'জনের চেয়েই 'সিনিয়র' বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ২০০৭ সালের মে মাসে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। অথচ টেস্টসংখ্যার হাফসেঞ্চুরিটা করা হয়নি এতদিনেও। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট দিয়েই অবশ্য সেই মাইলফলক ছোঁবেন। ক্যারিয়ারের ১০ বছর কাটিয়ে এসে পাচ্ছেন ৫০তম টেস্ট, সেটা নিয়ে কি কিছুটা আফসোস আছে সাকিবের? গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আসা সাকিব অবশ্য বললেন, যতটুকু খেলার সুযোগ পেয়েছেন তাতেই তিনি খুশি, 'জীবনে খুব বেশি আফসোস নেই। যা হয়েছে, তাতেই আমি খুশি। হ্যাঁ, বেশি খেলতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগত। তবে খেলতে পারিনি বলে আফসোসও নেই। যে ম্যাচগুলো খেলেছি, তাতে কতটা পারফর্ম করেছি, সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।'
জানালেন, শুরুর দিকে ক্রিকেটটা ছিল কেবলই উপভোগের ব্যাপার। আর এখন উপভোগের পাশাপাশি টের পান দায়িত্বটাও, 'প্রথম টেস্ট খেলার সময় চিন্তা ছিল না যে কতটা খেলব বা কতদিন খেলব। সে সময় একটা মজা ছিল। সেটা এখন নেই, তেমন না। কিন্তু এখন পরিবেশ অন্যরকম, দায়িত্বটাও অন্যরকম। সব কিছুই এখন অনেক আলাদা।'
বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ৫০-এর বেশি টেস্ট খেলেছেন মাত্র তিনজন_ হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিম। অসিদের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট দিয়ে সাকিবের পাশাপাশি ওপেনার তামিম ইকবালও স্পর্শ করবেন ৫০ টেস্টের মাইলফলক। তবে ৫০তম টেস্টটা আরও একটা কারণে বিশেষ কিছু হয়ে থাকবে এই দুই ক্রিকেটারের জন্য। টেস্টে এর আগে যে কখনোই অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হননি তারা। শুধু এই দু'জন কেন, বাংলাদেশের বর্তমান দলের কারোরই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। একই কথা প্রযোজ্য অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট দলের ক্ষেত্রেও, তাদের কোনো ক্রিকেটারই বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলেননি। একদমই অচেনা এক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়াটা সাকিবকে রোমাঞ্চিত করছে। বললেন, 'অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে নানা সময়ে ওয়ানডে বা টি২০ খেলেছি। কিন্তু টেস্ট এইটাই প্রথম। অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে। যেটা অন্যরা করে না। এ রকম একটি দেশের সঙ্গে টেস্ট খেলাটা রোমাঞ্চকর একটা ব্যাপার।'
রোমাঞ্চের উপাদান অবশ্য সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ারেও কম নেই। ম্যাচের ফলাফল হয়তো খুব একটা পক্ষে আসেনি সবসময়, কিন্তু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে বহুবার সাকিব আলাদা করে চিনিয়েছেন নিজেকে। মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে পেছনে তাকালে কোন পারফরম্যান্সটা বেশি উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয় এই অলরাউন্ডারের চোখে? সাকিবের উত্তর, 'স্মরণীয় টেস্ট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত বছরের জয়টা। আর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কথা বললে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৯২ করেছিলাম, সেটা মনে পড়ছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রান করাটাও বড় অর্জন ছিল। আর বোলিংয়ের দিক থেকে বললে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামে (৩৬ রানে ৭ উইকেট)।'