আক্রমণ...

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৭      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে রক্ষণাত্মক ক্রিকেটের প্রশ্নই আসে না। যদি এমন ভাবনা থাকে যে, ওদের হারাতে নিজেদের দিনের অপেক্ষায় থাকব, তাহলে আমরা কোনো সুযোগই পাব না। এ থেকে বেরিয়ে আসার একটাই উপায়, প্রথম বল থেকেই আক্রমণ!'


প্রতিপক্ষ টেস্ট সিরিজজয়ী সেই দক্ষিণ আফ্রিকাই, কন্ডিশনও তাদেরই অনুকূলে, প্রোটিয়ারা এখন টেস্টের চেয়েও শক্তিশালী এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডেভিড মিলার, ইমরান তাহিরদের ফেরার কারণে- এত কিছুর পরও বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে, আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের মন্ত্র জপছে এবারের ফরম্যাট একদিনের ক্রিকেট বলে, এবারের লড়াইয়ে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি মুর্তজারাও আছেন বলে। কিম্বারলির ডায়মন্ড ওভালে আজ প্রথম ওয়ানডে শুরুর আগের দিন অধিনায়ক মাশরাফির সোজাসাপটা ভাষ্য, 'প্রথম বল থেকেই আক্রমণ।'
আক্রমণের কথা আসছে মূলত টেস্ট সিরিজের রক্ষণাত্মক ক্রিকেটে বিপরীত ফল আসার পরিপ্রেক্ষিতে। টস জয়ের পর বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত, রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং, অধিনায়কের অসহায়ত্ব প্রকাশ আর খেলোয়াড়দের শারীরিক ভাষা মিলিয়ে টেস্টের বাংলাদেশ ছিল নেতিবাচক ভঙ্গিমায়। তবে সেই পরিস্থিতি ঝেড়ে ফেলে এবার ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াতে চান মাশরাফি, চান আক্রমণাত্মক ক্রিকেট, 'দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে রক্ষণাত্মক ক্রিকেটের প্রশ্নই আসে না। যদি এমন ভাবনা থাকে যে, ওদের হারাতে নিজেদের দিনের অপেক্ষায় থাকব, তাহলে আমরা কোনো সুযোগই পাব না। এ থেকে বেরিয়ে আসার একটাই উপায়, প্রথম বল থেকেই আক্রমণ!' বাংলাদেশ দল এক মাস ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় কাটালেও মাশরাফি যোগ দিয়েছেন সপ্তাহখানেক আগে। তার মতে, উপমহাদেশের দেশ হিসেবে কন্ডিশনটা বাংলাদেশের জন্য খুবই কঠিন, বের হওয়ার উপায় শুধু আক্রমণাত্মক ক্রিকেটেই। তবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে যাদের জ্বলে ওঠা দরকার, তাদের অনেকেরই সাম্প্রতিক ফর্ম খুবই খারাপ। ব্যাট হাতে রান পাচ্ছেন না সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকাররা। শেষ পাঁচ ওয়ানডেতে সৌম্যর রান মাত্র ৩৪, যার মধ্যে দুটি ইনিংসে আবার শূন্য! সাব্বিরের অবস্থাও কাছাকাছি। আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মে মাসে। তারপরের চার ম্যাচে সাকল্যে রান ৫৯। বল হাতে ছন্দে নেই মুস্তাফিজুর রহমানও। টেস্ট সিরিজে সংগ্রাম করা এই বাঁহাতি পেসার নিজের সর্বশেষ ৫ ওয়ানডেতে পেয়েছেন মোটে ২ উইকেট। দলের তরুণরা এমন ফর্মহীনতায় থাকলেও তাদের ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক মাশরাফি, 'আমি তাদের ওপর চাপ তৈরি করতে চাই না। অনেক নেতিবাচক কথা হবে, সেটা স্বাভাবিক। একজন খেলোয়াড়ের ভালো সময়-খারাপ সময় যাবে। সাম্প্রতিক অতীতে তাদের অবদান ছোট করে দেখি না। অবশ্যই চাইব, মানসিকভাবে ওরা শক্ত হোক।' সৌম্য-সাব্বির-মুস্তাফিজদের সঙ্গে মাশরাফি-সাকিবদের জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। মূল মন্ত্র যেখানে একটাই- আক্রমণ...।