৫০ সেঞ্চুরির ঢাকা লীগ

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০১৮      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সেদিন তামিম ইকবাল বেশ আক্ষেপ করছিলেন। বলা হচ্ছে মঙ্গলবার বিকেলের কথা। মিরপুরে জিম সেশন সেরে তামিম বলছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ না খেলতে পারার হাহাকারের কথা। চোট, জাতীয় দল আর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ব্যস্ততা মিলিয়ে এবারের ডিপিএলে তার একটি ম্যাচও খেলা হলো না। তামিমের আক্ষেপ 'উপভোগ্য' একটা লীগ খেলতে না পারার। বাংলাদেশ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির (১৮) মালিক তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও রানের ফোয়ারা ছোটানোর ইচ্ছা তো তার থাকবেই। কিন্তু দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানটিকে ছাড়াই এবারের ডিপিএল বড়সড় এক রেকর্ড গড়ে ফেলেছে। সেঞ্চুরি হয়েছে ৫০টি; যা লিস্ট এ মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে সর্বোচ্চ। এর আগের চার মৌসুমে সেঞ্চুরি সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২৮, ৩৫, ১৯ ও ২৫!

সেঞ্চুরির এই ফিফটি হয়েছে ৮৪টি ম্যাচে। ব্যক্তিগতভাবে মাত্র ৯ জন ব্যাটসম্যানই করেছেন প্রায় অর্ধেক সেঞ্চুরি। রেকর্ড হয়েছে ব্যক্তিগত শতক সংখ্যায়ও। এর আগে কখনও এককভাবে দুই সেঞ্চুরির বেশি না থাকলেও এবার ৩ বা এর বেশি সেঞ্চুরিই আছে তিনজনের। এক্ষেত্রে বড় চমক দেখিয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে পথ হারিয়ে ফেলা এই ব্যাটসম্যান একাই করেছেন ৫টি সেঞ্চুরি। অথচ এই পাঁচ সেঞ্চুরির প্রথমটি এসেছে প্রায় নয় বছর পর! ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে তার এর আগের সেঞ্চুরিটি ছিল ২০০৯ সালের নভেম্বরের। কেবল আশরাফুল নন, তিন অঙ্কের দৌড়ে একাধিকবার মাইলফলকে পৌছেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ৗ লিটন দাসও। আবাহনীর হয়ে খেলা শান্ত করেছেন চারটি সেঞ্চুরি। দুই বছর আগেও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকা এ বাঁহাতি ফিফটিও করেছেন দুটি। সব মিলিয়ে ম্যাচপ্রতি ৫৭.৬১ গড় আর ৯৭.৫২ স্ট্রাইক রেটে ১৬ ম্যাচে করেছেন ৭৪৯ রান। যা এবারের সর্বোচ্চ তো বটেই, ডিপিএলের এক মৌসুমের সর্বোচ্চ রানের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে। দুই মৌসুম আগের ৭৫২ রান নিয়ে শীর্ষে লিটন দাস। লিটন এবার জাতীয় দলের সঙ্গে নিদাহাস ট্রফি খেলতে যাওয়ায় সবক'টি ম্যাচ খেলতে পারেননি। তবে প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে যে দশটি ম্যাচ খেলেছেন, তাতেই তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন তিনবার। ৫৯.৬৬ গড়ে ৯৩.০৬ স্ট্রাইক রেটে নিয়েছেন ৫৩৭ রান, যা এবারের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় ১৪তম। ২০১৭-১৮ মৌসুমে সর্বোচ্চ রান তালিকার দুটি নামই আবাহনীর। প্রথমে শান্ত, দুইয়ে এনামুল হক বিজয়। জানুয়ারিতে বাংলাদেশ দলের হয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলা বিজয় রান করেছেন ৭৪৪। তার এই রান এসেছে ২টি সেঞ্চুরি ও ৪টি ফিফটির সৌজন্যে, ম্যাচপ্রতি ৪৯.৬০ গড় ও ৮৯.৫৩ স্ট্রাইক রেটে।

এনামুলের মতো দুটি করে সেঞ্চুরি আছে আরও পাঁচজনের। বাকিরা হচ্ছেন অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের শাহরিয়ার নাফীস, ব্রাদার্স ইউনিয়নের মিজানুর রহমান, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের জহুরুল ইসলাম এবং দোলেশ্বরের ফজল মাহমুদ ও মার্শাল আইয়ুব। এর মধ্যে সুপার লীগের আবাহনী-দোলেশ্বর ম্যাচে দেখা গেছে সেঞ্চুরিয়ানদের লড়াই-পাল্টা লড়াই। ৩০ মার্চ বিকেএসপিতে হওয়া ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করে আবাহনী তোলে ৩৯৩ রান। লিস্ট এ মর্যাদা পাওয়ার পর এটিই ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে কোনো দলের সর্বোচ্চ ইনিংস। আবাহনীকে চারশ'র কাছাকাছি এই রানের চূড়ায় তুলে দেন সেদিন শান্ত ও বিজয়। শান্ত করেন ১০৬ বলে ১২১ আর বিজয় ১২৬ বলে ১২৮। ডিপিএলের উদ্বোধনী জুটিতে তাদের তোলা ২৩৬ রানও আবার ওপেনিংয়ের রেকর্ড। বিজয়-শান্তদের বিশাল এই রান তাড়া করতে নেমে দোলেশ্বরের হয়ে পাল্টা সেঞ্চুরি করেন তিন ও চার নম্বরে নামা ফজল ও মার্শাল। বৃষ্টি আর বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ম্যাচের সমাপ্তিটা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান খেলে যান যথাক্রমে ৮৭ বলে ১০০ এবং ৮৮ বলে ১০৮* রানের ইনিংস।

মজার বিষয় হচ্ছে, ৯ জন ব্যাটসম্যানের দুই বা ততোধিক সেঞ্চুরি থাকলেও সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা তাদের কারও নয়। প্রায় তিন বছর পর সৌম্য সরকারের খেলা ১২৭ বলে ১৫৪ রানের ইনিংসটিই এবারের সর্বোচ্চ। ৪ এপ্রিল বিকেএসপিতে হওয়া অগ্রণী-ব্রাদার্সের এই ম্যাচটি ছিল আবার রানবন্যার ম্যাচ। লীগ অবনমন ঠেকানোর ম্যাচটিতে সৌম্যর সেঞ্চুরিতে ৩৩৪ রান তুলেছিল অগ্রণী। কিন্তু শেষ বলে চার মেরে রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তির ম্যাচটি জিতে নেয় ব্রাদার্স। দুই দল মিলিয়ে পুরো ম্যাচে হয় ৬৬৯ রান। রানের এই ফোয়ারাতেই স্পষ্ট, সেঞ্চুরির দাপট কত বেশি ছিল এবার।



সংশোধনী :গতকালের সমকাল খেলাধুলা পাতায় ছাপা হওয়া 'রানার্সআপও হয়নি শেখ জামাল' শিরোনামের খবরটিতে তথ্যের ভুল ছিল। বলা হয়, রান রেটের ভিত্তিতে তৃতীয় হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ শেষ করেছে শেখ জামাল, দ্বিতীয় হয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। তবে সঠিক তথ্য হচ্ছে, রূপগঞ্জের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় থাকায় রানার্সআপ হয়েছে শেখ জামালই, রূপগঞ্জ হয়েছে তৃতীয়। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য সমকাল আন্তরিকভাবে দুঃখিত।