টেনিসে জাপানের সূর্যোদয়

নতুন চ্যাম্পিয়ন নাওমি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

স্পোর্টস ডেস্ক

কয়েকদিন আগে শক্তিশালী টাইফুনে লণ্ডভণ্ড হয়েছে জাপানের পশ্চিমাঞ্চল। পুরো দেশ যখন সেই শোকের সাগরে ভাসছে, তখনই ফুটল গ্র্যান্ডস্লামের ফুল! নাওমি ওসাকার হাত দিয়ে লেখা হলো নতুন ইতিহাস।

প্রতি বছরের মার্চ থেকে এপ্রিলজুড়ে চলে চেরি ফুলের উৎসব। রঙ-বেরঙের চেরির সমাহারে নিজেদের বুঁদ করে রাখেন জাপানিরা। শনিবার রাতের পর নাওমি হয়তো সূর্যোদয়ের দেশটির কাছে চেরি ফুলের চেয়েও বেশি কিছু।

তিন বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। হাইতিয়ান বাবা আর জাপানি মায়ের সঙ্গে ফ্লোরিডায় বড় হয়েছেন। জাপানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও আছে তার। হ্যারল্ড সলোমন ইনস্টিটিউটে হয় তার হাতেখড়ি। ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করেন। এ বছর ইন্ডিয়ান ওয়েলসে পা দিয়েই জয়ের স্বাদ পান। এরপর গ্র্যান্ডস্লামে এসেই বাজিমাত। নিজের প্রথম মুকুটের পাশাপাশি দেশকে উপহার দেন প্রথম গ্র্যান্ডস্লামের শিরোপা। তার ওপর শৈশবের টেনিস আইকন সেরেনা উইলিয়ামসকে ৬-২, ৬-৪ গেমে হারিয়ে।

পুরো জাপানে উৎসের আমেজ। বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে খবরটা পান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। তাৎক্ষণিক টুইট, 'জাপানের হয়ে প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম। গোটা জাপানকে লড়াইয়ের শক্তি ও প্রেরণা জোগানোর জন্য নাওমিকে ধন্যবাদ।'

২০১৪ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন কেই নিশিকোরি। পারেননি এই জাপানি। শিরোপার মঞ্চে হার মানেন ক্রোয়েশিয়ার মার্টিন সিলিচের কাছে। এবারও সেমিফাইনাল থেকে ফেরেন বাড়ি। নিজে না পারলেও স্বদেশি নাওমির চমৎকার এই অর্জনে খুশি হয়েছেন নিশিকোরি। টুইটারে নাওমির ছবি আর ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশন দিয়েছেন, 'আমরা তোমার জন্য গর্বিত।'

যুক্তরাষ্ট্রে বড় হওয়ার কারণে জাপানি ভাষাটা ভালোভাবে রপ্ত করতে পারেননি নাওমি। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলে জাপানি ভাষাটা টেনেটুনে বলেন। কোথায় আটকে গেলে ইংরেজি ছেড়ে দেন। তবুও তিনি জাপানের অহংকার। এক নাওমি ভক্ত টুইটে লিখেছেন, 'কোথায় জন্মেছে, কোথায় বেড়ে উঠেছে কিংবা ভাষা কেমন পারে, এটা কোনো সমস্যা নয়। তুমি জাপানের গর্ব।'

নাওমির দুর্দান্ত এই কীর্তির দিনে জাপানের সংবাদমাধ্যমগুলোও বিশেষ সংখ্যা ছাপিয়েছে। বেড়েছে পত্রিকা কেনা। দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক 'আসাহি শিম্বুন' নাওমিকে উৎসর্গ করে চমকপ্রদ একটি সংখ্যা প্রকাশ করে। এরপর টোকিওতে সেটা বিলি করে তারা। এমন অনেক মাধ্যম নাওমিকে ফলাও করে ছেপেছে একাধিক খবর।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পড়েছে নাওমির জয়ের ছাপ। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক টেনিস খেলোয়াড় মার্ডি ফিস এক অভিনন্দন বার্তায় বলেছেন, 'নাওমিকে শুভেচ্ছা। আশা করি এই প্রাপ্তি তোমার ভবিষ্যৎকে আরও সামনে নিয়ে যাবে।' ব্রিটিশ টেনিস প্লেয়ার লিয়ামের অভিমত, 'দারুণ একটা ম্যাচ হলো। নাওমি আগামীর স্টার।'

এত এত প্রশংসা আর ভালোবাসা নাওমিকে ঘিরে। কেউ বলছেন, সেরেনা-ভেনাস-শারাপোভা যুগের পর নাওমি যুগ শুরু হয়ে গেল। কারও মুখে, 'টেনিসের ভবিষ্যৎ তারকার খোঁজ পাওয়া গেল।'

যাকে দেখে টেনিস শেখা। যার মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন দেখা। সেই ২৩বারের গ্র্যান্ডস্লামজয়ী সেরেনাকে কোর্টে স্রেফ প্রতিপক্ষের চোখে দেখলেও দিন শেষে পারেননি মনের মণিকোঠায় পুষে রাখা কথাগুলো চেপে রাখতে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাওমি বলেন, 'পুরো ম্যাচে সেরেনাকে আমার প্রতিপক্ষের বেশি কিছু মনে হয়নি। কিন্তু সে যখন আমাকে জড়িয়ে ধরে তখন নিজেকে ছোট্ট শিশু মনে হয়েছিল।'

১৯৯৯, সে বছর প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছিলেন সেরেনা। তখন এই নাওমির বয়স হবে এক বছরের মতো। বিশ বছরে এসে প্রিয় তারকার দেখা পেয়েছেন নাওমি। সেজন্য বোধ হয় নিজের প্রথম প্রাপ্তির কথাটাও শুরুতে ভুলে যান। ফ্ল্যাশিং মিডোয় দ্বিতীয় সেটে সেরেনাকে হারানোর পর জয়টা নিশ্চিত হয়ে যায়। ঐতিহাসিক এই জয়ের ঘ্রাণ নাকে নিয়েও খুব একটা উচ্ছ্বাস করেননি নাওমি। বরং এক দৌড়ে সেরেনার সঙ্গে আলিঙ্গন করেন।

পরবর্তী খবর পড়ুন : হৃদয় ভেঙেছে ফুটবলারদের

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

সারাদেশের ৩০০ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ঢাকা-১ আসন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ঢাকা ...

সরব এশিয়া-ইউরোপ

সরব এশিয়া-ইউরোপ

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নৃশংসতায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার ...

তারাই আমাদের বাতিঘর

তারাই আমাদের বাতিঘর

আবার এসেছে ফিরে ডিসেম্বর। শোক, শক্তি ও সাহসের মাস, আমাদের ...

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

'আজ এই ঘোর রক্ত গোধূলিতে দাঁড়িয়ে/ আমি অভিশাপ দিচ্ছি তাদের/ ...

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

পরিসংখ্যান অনেক সময় নির্মম, যেমন পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুদের, ...

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

গত ৬ অক্টোবর ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য ...

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

২০১৪ সালে যেমন কোনো বিকল্প ছিল না, এই ২০১৮-তেও তেমনি ...

তোমার আমার মার্কা...

তোমার আমার মার্কা...

বিষণ্ণ মনে সোফায় বসে পেপার পড়ছিলেন বাবা। ক্লাস নাইনে পড়া ...