ট্রফি নেবে না চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

হকিতে আবারও বিতর্ক। প্রিমিয়ার লীগের ট্রফি দেওয়ার কথা আজ। কিন্তু হকি ফেডারেশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বিমানবাহিনীর ফ্যালকন হলে আজ সন্ধ্যায় ট্রফি নিতে যাচ্ছে না চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

গত বছরের ৭ জুন প্রিমিয়ার বিভাগ হকিতে মোহামেডান-মেরিনার ইয়াংস ক্লাব ম্যাচে ঝামেলা বাধে। একটি গোল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। প্রথমে খেলতে আপত্তি জানায় মোহামেডান। এরপর তারা রাজি হলেও বেঁকে বসে মেরিনার্স। অসমাপ্ত সেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় গত বছরের ৩০ অক্টোবর। ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র ঘোষণা করলে চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান। আর রানার্সআপ আবাহনী। ওই ম্যাচে বাজে আচরণের জন্য গত ২৬ নভেম্বর হকি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় শাস্তি দেওয়া হয় মোহামেডান ও মেরিনার্সের চার কর্মকর্তাকে। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জরিমানাও করা হয়। ফেডারেশনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মেরিনার্সের কর্তারা। হকিতে নেমে আসে অন্ধকার। কিন্তু ওই বিষয়ের সুরাহা না করেই ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঘরোয়া হকির নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ট্রফি অনুষ্ঠানে ফেডারেশনের আমন্ত্রণপত্র। সেখানে আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা ১০ উল্লেখ করে বলা হয়, নিষিদ্ধ কর্মকর্তারা যাতে অনুষ্ঠানে না আসেন। অতিথির সংখ্যা মাত্র ১০ জন এবং শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিত না হওয়ার বিষয়টি মর্যাদায় লেগেছে মোহামেডানের। হকি ফেডারেশনের এ সিদ্ধান্তকে মর্যাদাহানিকর হিসেবে উল্লেখ করে ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোহামেডান। এ প্রসঙ্গে মোহামেডানের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, 'ফেডারেশনের এ ধরনের আমন্ত্রণ আমাদের মর্যাদাহানি করেছে। আমরা এমন অনুষ্ঠানে যেতে পারি না।' হকি দলের ২০ খেলোয়াড় ও কোচ কর্মকর্তাসহ থাকেন ২৪ জন। অথচ চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি আনতে যেতে বলেছে মাত্র ১০ জনকে। ফেডারেশনের এমন আমন্ত্রণপত্রে অবাক হকি অঙ্গনের সবাই। ফেডারেশনের আমন্ত্রণপত্রকে অভদ্র বলছেন মেরিনার্সের সাধারণ সম্পাদক হাসানউল্লাহ খান রানা, 'আমাদের ক্লাবে মাত্র একটি আমন্ত্রণপত্র দিয়েছে সভাপতিকে। আমাদের সিদ্ধান্ত অনুষ্ঠান বর্জনের। শুনলাম মোহামেডানকে ট্রফি আনতে বলেছে মাত্র ১০ জনকে। অথচ আমরা ২০ জন নিয়ে ট্রফি এনেছিলাম। চ্যাম্পিয়ন দলকে এ ধরনের চিঠি দেওয়া অভদ্রতা। তারা মাঠে ডেকেই ট্রফি দিতে পারত।' ফেডারেশনের এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ঊষা ক্রীড়া চক্রও।