স্বপ্ন নিয়ে নিউজিল্যান্ড যাত্রা

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

স্বপ্ন নিয়ে নিউজিল্যান্ড যাত্রা

নিউজিল্যান্ডগামী বিমানে ওঠার পর নাঈম হাসানের সেলফিতে মুস্তাফিজ, মুশফিক ও লিটন টুইটার

কোনো সুখস্মৃতি নেই, আছে কেবল বারবার হতাশ হয়ে ফেরার যন্ত্রণা; মাঝে মধ্যে একটি-দুটি ভালো মুহূর্ত আশা জুগিয়েছিল ভীষণ, কিন্তু দিনশেষে সঙ্গী হয়েছে ফের পরাজয়ের ক্লান্তিটাই। আক্ষেপের অন্য নাম হয়ে থাকা সেই নিউজিল্যান্ড সফরে আরও একবার যাচ্ছে বাংলাদেশ। দলের কোচ, ম্যানেজারসহ আট ক্রিকেটার গতকাল রওনাও হয়েছেন। বিশ্বকাপ শুরুর সাড়ে তিন মাস আগের এই সফরকে যেমন নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনি প্রত্যাশার ঘরে আছে অপ্রাপ্তির আক্ষেপ ঘুচিয়ে প্রথম জয়ের আশাবাদও।

চল্লিশ দিনের সফরে বাংলাদেশ দল এবার নিউজিল্যান্ডে খেলবে তিনটি করে ওয়ানডে ও টেস্ট। এর মধ্যে আশাবাদের বড় অংশজুড়ে আছে পঞ্চাশ ওভারি ফরম্যাট। ১৩ ফেব্রুয়ারি নেপিয়ারে হবে প্রথম ওয়ানডে। কন্ডিশন বিবেচনায় প্রস্তুতির জন্য খুব একটা সময় এবার পাওয়া যাচ্ছে না। বিপিএল চলছে বলে ওয়ানডে স্কোয়াডের সাতজন এখনও দেশেই আছেন। অধিনায়ক মাশরাফি, সহ-অধিনায়ক সাকিব আর ওপেনার তামিমসহ সাত ক্রিকেটার রওনা দেবেন শনিবার রাতে। তবে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে খেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় বুধবারই বিমানে চড়তে পেরেছেন আটজন। এ বহরে আছেন মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, লিটন কুমার দাস, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার ও নাঈম হাসান। সফরের টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট আর কোচ স্টিভ রোডস গেছেন তাদের সঙ্গে। বুধবার দুপুরে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ওঠার আগে কোচ আর ক্রিকেটাররা শুনিয়ে গেলেন আশাবাদের গল্প। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তিন সংস্করণে ক্রিকেটে টানা ২১ হার আর ২০১৬-১৭ মৌসুমের শেষ সফরের বিপর্যয়কর ফলের কথা মাথায় রেখেও স্টিভ রোডস আশাবাদী সাম্প্রতিক সাফল্যের কারণে, 'আশা করি এবার কিছু ম্যাচ জিতব। জিততে পারলে দারুণ হবে। জানি, কাজটা খুব সহজ হবে না। আমাদের শেষ সফরে তার প্রমাণও দেখা গেছে। তবে দল নিয়ে এবার আমরা খুশি। ক্রিকেটারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আনন্দিত হওয়ার মতো। এ ছাড়া ওয়ানডেতে আমরা সব সময়ই ভালো খেলে থাকি। এই সংস্করণে তাই সেরা ফলের আশা করছি।' এবারের নিউজিল্যান্ড সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বকাপের দল ও কৌশল গুছিয়ে আনার কাজ শেষ পর্যায়ে। মার্চের শেষার্ধে নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ। সেখানে স্বাগতিক ও উইন্ডিজের সঙ্গে খেলার পরই ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ মিশন। রোডসের মতে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেমন করবে, তার আভাস পাওয়া যাবে কিউইদের বিপক্ষে, 'এ সিরিজই ইঙ্গিত দেবে আমাদের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে আছে। বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজও আছে। বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম করার প্রস্তুতির শেষ ধাপ সেটা। বিশ্ব ক্রিকেটে আমরা কোথায় আছি, তা এ দুই সিরিজে বোঝা যাবে।' ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দল যেসব কারণে এগিয়ে থাকে, তার মধ্যে অন্যতম স্পিন আক্রমণ। কিন্তু নিউজিল্যান্ড বা ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে পেসের কার্যকারিতাই বেশি। সেক্ষেত্রে স্পিনারদের ভালো করা বড়সড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিশ্বকাপের ভাবনা থেকে বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ডে নিয়ে যাচ্ছে দুই অফস্পিনার মিরাজ ও নাঈমকে। মিরাজের মতে, পেসারদের সহায়তা করা হবে স্পিনারদের মূল কাজ, 'স্পিনাররা উপমহাদেশে ভালো করে। কিন্তু বাইরে গেলে ওই রকম ভূমিকা থাকে না। এটা আমাদের নিজেদের সঙ্গে নিজেদের চ্যালেঞ্জ।' মিরাজদের সঙ্গে গতকালের ফ্লাইটে থাকতে পারতেন তাসকিন আহমেদও। তবে চোটে পড়ে শেষ হয়ে গেছে মাঠে ফেরার আশা। সতীর্থদের রওনা কালে তাই আবেগঘন এক স্ট্যাটাসে তাসকিন লেখেন, 'এখন আমার উড়োজাহাজে থাকার কথা ছিল... পা উচু করে বসে আছি ঘরে। সবাই দোয়া করবেন আমার দ্রুত সুস্থতার জন্য...।'

নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে তিন ভেন্যুতে। ১৩ ফেব্রুয়ারি নেপিয়ারে, ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্রাইস্টচার্চে এবং ২০ ফেব্রুয়ারি ডুনেডিনে। এর মধ্যে প্রথমটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়, পরের দুটি ভোর ৪টায়। প্রথম ওয়ানডের আগে ১০ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা আছে মুশফিকদের।