আত্মবিশ্বাসই বড় শক্তি কুমিল্লার

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রাথমিক পর্বে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ঢাকা ডায়নামাইটসের মধ্যকার দুটি ম্যাচই হয়েছিল দারুণ জমজমাট। দুই ম্যাচেই রান তাড়া করেছিল ঢাকা। দুই ম্যাচেই তাদের সামনে ছিল না খুব বড় কোনো লক্ষ্য। তবে দুবারই অসামান্য বোলিং করে ঢাকার হাতের মুঠো থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন কুমিল্লার বোলাররা। আজ সন্ধ্যার ফাইনালে আরও একবার ঢাকার মুখোমুখি হওয়ার আগে কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস জানালেন, সেই দুই জয় থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসই ফাইনালে তাদের শক্তির জায়গা।

গত ২২ জানুয়ারি দু'দলের প্রথম দেখায় ডায়নামাইটসের সামনে জয়ের জন্য ১৫৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল ভিক্টোরিয়ান্স। থিসারা পেরেরা ও শহিদ আফ্রিদির দারুণ বোলিংয়ের সুবাদে ঢাকা আটকে যায় ১৪৬ রানেই। দু'দলের দ্বিতীয় ম্যাচটি তো হয়েছিল রীতিমতো নাটকে ভরপুর। আগে ব্যাট করে কুমিল্লা করেছিল মাত্র ১২৭ রান। অল্প সেই রান পুঁজি করে এর পর পাল্টা তোপ দাগেন কুমিল্লার বোলাররাও। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও ঢাকার সম্ভাবনা শেষ বল পর্যন্ত টিকিয়ে রেখেছিলেন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। সেই বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল একটি ছক্কা। অসাধারণ এক ইয়র্কারে চার রানের বেশি খরচ করেননি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। লো-স্কোরিং থ্রিলার ম্যাচটা কুমিল্লা জেতে ১ রানে।

সাকিব আল হাসান, আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ড, সুনীল নারিনদের নিয়ে গড়া ঢাকা ডায়নামাইটসের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ সামান্যই। শক্তির বিচারে কুমিল্লার থেকে তাদের পিছিয়ে রাখার কারণ নেই একদমই। তবে ফাইনালের আগের দিন ইমরুল জানালেন, আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে এগিয়ে থাকছে কুমিল্লাই, 'আমরা ওদের সঙ্গে দুটি ম্যাচ জিতেছি প্রাথমিক পর্বে। দুই ম্যাচেই আমরা দারুণ খেলেছিলাম। একটি দলকে যখন আপনি দুবার হারাবেন, তখন কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই আরেকবার মুখোমুখি হওয়ার আগে সেই দলটা আপনাকে নিয়ে চিন্তায় থাকবে। সেদিক থেকে দেখলে আত্মবিশ্বাসের জায়গাটায় আমরা অনেক ভালো অবস্থানে আছি। এই আত্মবিশ্বাসটাই আমাদের ভালো কিছু করার ব্যাপারে সাহায্য করবে। এটা অনেক বড় একটা ইতিবাচক দিক।'

ঢাকার চার অলরাউন্ডার সাকিব, নারিন, পোলার্ড ও রাসেলের যে কোনো একজন একাই একদিন গড়ে দিতেন পারেন ম্যাচের ভাগ্য। সেটা কুমিল্লার জন্য বড় কোনো চিন্তার কারণ কি-না জানতে চাইলে ইমরুল মনে করিয়ে দিলেন, তাদের দলের বিদেশি অলরাউন্ডারদেরও আছে ম্যাচের মোড় পাল্টে দেওয়ার সামর্থ্য, 'যে দুটি ম্যাচে তাদের বিপক্ষে আমরা জিতেছি, সেই দুই ম্যাচেও তাদের চার অলরাউন্ডারই খেলেছিল। তবু তো আমরা জিতেছি। তাই অতিরিক্ত কোনো পরিকল্পনা নিয়ে নামব না আমরা। আর আমাদের দলেও অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছেন। শহিদ আফ্রিদি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটটা খুব ভালো জানেন। এই টুর্নামেন্টে প্রথম থেকেই ভালো বোলিং করে আসছেন। এ ছাড়া থিসারাও দারুণ একজন ক্রিকেটার। আমাদের শক্তির জায়গাটা যদি আমরা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তবে আশা করি ফল আমাদের পক্ষেই আসবে।'

কুমিল্লার কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন অবশ্য দলের স্থানীয় ক্রিকেটারদেরই তুরুপের তাস মানছেন। জানালেন, স্থানীয়দের পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করবে অনেক কিছু, 'বিদেশিদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা ঠিক হবে না। হ্যাঁ, তারা হয়তো আমাদের সাহায্য করবে, তবে সেইসঙ্গে স্থানীয়রা যদি ভালো খেলে, সেটা দলের জন্য অনেক লাভজনক হয়।'