লড়াইয়ের ভেতরের লড়াই

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

১২ ম্যাচের লীগ পর্ব পেরিয়ে প্লে-অফ, অতঃপর নকআউটের শঙ্কা উড়িয়ে শিরোপার মঞ্চে পদার্পণ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ঢাকা ডায়নামাইটস এখন ষষ্ঠ বিপিএলের শিরোপা ছোঁয়ার অধীর অপেক্ষায়। ঢাকার চতুর্থ নাকি কুমিল্লার দ্বিতীয়- এর মীমাংসা হবে আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের ফাইনালে। সাকিব আল হাসান আর ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে দেশ আর বিদেশের একঝাঁক তারকা ক্রিকেটার নামছেন নিজ নিজ দলের মর্যাদা ও গৌরবের এ লড়াইয়ে। শিরোপার মীমাংসা দুই দলের ইনিংস সমাপ্তির মধ্য দিয়ে হলেও লড়াইয়ের বড় গল্পটা লেখা হয়ে যেতে পারে হয়তো গোটা ম্যাচের যে কোনো একটি মুহূর্তেই। অধিনায়কদের কোনো একটি সিদ্ধান্ত, শুরু বা শেষে কোনো একজনের ছোট্ট একটা ঝড়ো ইনিংস, দারুণ একটি জুটি বা ডেলিভারি অথবা একেকটা ক্যাচ বা রানআউট- ফল প্রভাবক হয়ে যেতে পারে যে কোনো কিছুই। মুহূর্তে ম্যাচের বাঁক বদলে দিতে পারেন এমন দেশি-বিদেশি তারকা আছেন দু'দলেই। 'ফাইনাল' নামের এক লড়াইয়ের ভেতরে হয়ে যেতে পারে এমন অনেক লড়াই। 'এক্স ফ্যাক্টর' সম্ভাবনার এমনই কিছু দিক খুঁজে দেখা যাক এ যাত্রায়। লিখেছেন- সিয়াম আনোয়ার

অলরাউন্ডার টক্কর

টুর্নামেন্টের অন্য পাঁচ দল কেন বাদ, আর ঢাকা-কুমিল্লাই বা কেন ফাইনালে- এমন প্রশ্নের উত্তর আছে এখানে। ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড তৈরি আর কার্যকর অলরাউন্ডার দলভুক্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে এ দুটি দলই। ঢাকার নেতৃত্বই দিচ্ছেন একজন অলরাউন্ডার- সাকিব। প্রয়োজনের সময় ব্যাটে এবং বলে অবদান রাখার জন্য এ দলটিতে আছেন দুই ক্যারিবীয় আন্দ্রে রাসেল আর সুনীল নারিনও। বিশ্ব ক্রিকেটের স্বীকৃত অলরাউন্ডার কিয়েরন পোলার্ডও আছেন ঢাকায়। তবে তার বোলিংটা এবার কম কাজে লাগানো হচ্ছে। অন্য অর্থে বললে সাকিব, রাসেল, নারিনের কারণে খুব বেশি প্রয়োজনও পড়ছে না। ঢাকার মতো কুমিল্লারও আছে অলরাউন্ডার শক্তি। শ্রীলংকার থিসারা পেরেরা আর পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদিরা ইতিমধ্যে তার প্রমাণও রেখেছেন। ২০১৫ চ্যাম্পিয়নদের দলে বোলার হিসেবে খেলা সাইফুদ্দিন, ওয়াহাব রিয়াজ আর জিয়াউর রহমানরাও পারেন ব্যাটিংয়ে বড় শট খেলতে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাই অলরাউন্ডারদের পারফরম্যান্স হয়ে উঠতে পারে ফল-নির্ধারক।





তামিমের প্রথম সাকিবের চতুর্থ

বিপিএলে এটি ষষ্ঠ আসর হলেও তামিম ফাইনালে নামছেন এই প্রথম। জাতীয় দলের পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটারের মধ্যে বাকি চারজনই ইতিমধ্যে ফাইনাল খেলেছেন। স্বয়ং সাকিব আল হাসানেরই এটি চতুর্থ ফাইনাল। আগের তিনটির মধ্যে দুটিতে জিতেছেন শিরোপা। মাশরাফি বিন মুর্তজা অধিনায়ক হিসেবেই জিতেছেন চারটি শিরোপা। এ ছাড়া শিরোপা না জিতলেও ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে মুশফিকুর রহিম (রাজশাহী) এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের (বরিশাল)। কিন্তু তামিমেরই কেবল ফাইনালে ওঠা হয়নি। মজার বিষয় হচ্ছে, আগের পাঁচ আসরে তিনি যে তিনটি দলের হয়ে খেলেছেন, সব দলই কখনও না কখনও ফাইনাল খেলেছে। কিন্তু চিটাগং যখন ফাইনাল খেলে, তামিম ছিলেন রাজশাহীতে; রাজশাহী যখন ফাইনাল খেলে তখন ছিলেন চিটাগংয়ে, কুমিল্লা যখন ফাইনাল খেলে তখনও চিটাগংয়ে। পাঁচবার ফাইনাল ফসকে যাওয়ার পর অবশেষে বিপিএল শিরোপামঞ্চে নামতে যাচ্ছেন তামিম। দেশসেরা এ ওপেনারের ফাইনালে নামা আজকের ম্যাচটিতে দিচ্ছে বাড়তি মাত্রা।



টিম স্পিরিট

প্লেয়ার ড্রাফটের সময় থেকেই এ দুই দলকে ফেভারিট টিম হিসেবে দেখা হয়েছে। প্রত্যাশার সেই চাপ সামলে উভয়েই এখন শেষ ধাপে। তবে পেছনের পথটা একেবারে সহজ ছিল না। ঢাকা ডায়নামাইটস এবার প্রথম চার ম্যাচের সবক'টিতেই টানা জিতেছিল। কিন্তু ৬ ম্যাচ শেষে ৫ জয়ে থাকা দলটি টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে লীগ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। শেষ ম্যাচে খুলনাকে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফেরে ঢাকা। তার পরই যেন বদলে যায় দলটি। এলিমিনেটরে চিটাগং আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রংপুরকে হারিয়ে এখন ফাইনালে। কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন, শুরুতে যদি টানা চার ম্যাচ জিততে পারি, শেষেও কেন নয়? গত আসরের ফাইনালে রংপুরের কাছে হেরে যাওয়ার স্মৃতিও আছে ঢাকার জয়ের জেদ বাড়ার প্রেরণায়। অন্যদিকে, কুমিল্লা উজ্জীবিত দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠায়। দলটি এবার মিশন শুরু করেছিল স্টিভেন স্মিথকে নিয়ে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেই চোটের কারণে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন। শুরুর সেই ধাক্কাই কুমিল্লাকে দেয় ঘুরে দাঁড়ানোর উজ্জীবনী শক্তি। যার ওপর ভর করে লীগ পর্বে আট ম্যাচ আর প্রথম কোয়ালিফায়ার জিতে এখন ফাইনালে। সমাপ্তিটাও একইভাবে টানার টিম স্পিরিটের কমতি নেই ভিক্টোরিয়ান্স নামের এ দলটিতে।



ক্যারিবীয় ধামাকা

এবারের বিপিএলে নজরকাড়া পারফরম্যান্স ছিল দক্ষিণ আফ্রিকানদের। চিটাগং ভাইকিংসকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন রবি ফ্রাইলিঙ্ক, হারের মধ্যে থাকা রংপুরকে উজ্জীবিত করে দিয়েছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স; আবার পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রানের পর রান করে গেছেন রাইলি রুশো। তবে ফাইনালের মঞ্চে এখন একজন প্রোটিয়াও নেই। রাজত্ব এবার ক্যারিবীয়দের। দু'দলের হয়ে ফাইনাল খেলবেন আট বিদেশি, এর মধ্যে চারজনই উইন্ডিজের। ঢাকায় আছেন রাসেল, পোলার্ড ও নারিন; কুমিল্লায় এভিন লুইস। ঢাকাকে ফাইনালে তোলার পথে প্লে-অফের একটিতে ম্যাচসেরা নারিন, অন্যটিতে ১৯ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস রাসেলের। আর যে ম্যাচ জিতে কুমিল্লা ফাইনালে উঠেছে, সেটিতে অপরাজিত ৭১ রান করে ম্যাচসেরা লুইস। ফাইনালেও পার্থক্য গড়ে দেওয়া নায়ক হতে পারেন এরা। রাসেল ইতিমধ্যে ১৪ ম্যাচ থেকে মেরেছেন ২৮ ছক্কা। কুমিল্লার ছক্কার শীর্ষে মাঝপথে আসা থিসারা (১৫)।