প্রথমবারের প্রিমিয়ার লীগে নাম লিখিয়ে চমকের পর চমক দেখিয়ে যাচ্ছে বসুন্ধরা কিংস। আগের তিন ম্যাচের ধারাবাহিকতায় গতকাল লীগের চতুর্থ জয়ও তুলে নিয়েছে নবাগত দলটি। শনিবার গোপালগঞ্জ শেখ ফজলুল হক মনি স্মৃতি স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রকে ৩-১ ব্যবধানে হারায় বসুন্ধরা। চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে কিংস এখন লীগ টেবিলের শীর্ষে। সমান ১২ পয়েন্ট আবাহনীরও আছে, তবে গোল ব্যবধানে তারা দ্বিতীয় স্থানে।

গোপালগঞ্জের মাঠটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জন্য 'হোম গ্রাউন্ড'। এ মাঠেই তারা শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবকে হারিয়েছিল ৩-০-তে। তবে গতকালের ম্যাচে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় দলটি। খেলার ৮ মিনিটে কিংসের কোস্টারিকান মিডফিল্ডার ড্যানিয়েল কলিনড্রেসের কর্নার কিক থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা। তবে বসুন্ধরার এগিয়ে থাকাকে বেশি সময় স্থায়ী হতে দেননি মুক্তিযোদ্ধার জাপানি মিডফিল্ডার ক্যাটো। ১৮ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে খেলায় সমতা আনেন। ৩০ মিনিটে মুক্তিযোদ্ধার আইভরি কোস্টের ফরোয়ার্ড বালো ফামুসার দারুণ শট প্রতিহত করেন বসুন্ধরার গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। ৩৯ মিনিটে বসুন্ধরার এক ফরোয়ার্ডকে ডি বক্সের মধ্যে ফেলে দেন মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক আরিফুজ্জামান হিমেল। এতে বসুন্ধরা পেনাল্টি পায়। তবে সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মার্কোস। তার শট প্রতিহত করেন হিমেল। পরে মুক্তিযোদ্ধাকে চেপে ধরে পরপর তিনটি কর্নার আদায় করেও বসুন্ধরা গোল করতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধ ১-১ গোলে ড্র থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে দু'দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটে বসুন্ধরার মাকোর্সের শট রুখে দেন মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক। ১৩ মিনিটে বালো ফামুসাকে বঞ্চিত করেন বসুন্ধরার গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় বসুন্ধরা। মার্কোসের পাস থেকে পাওয়া বলে গোল করে ব্যবধান ২-১ বানিয়ে দেন ফরোয়ার্ড মো. মতিন মিয়া। চার মিনিট পর মুক্তিযোদ্ধার এক ডিফেন্ডার ডি বক্সের ভেতর ড্যানিয়েলকে ফাউল করলে ফ্রি কিক পায় বসুন্ধরা। ফ্রি কিক কাজে লাগিয়ে গোল ব্যবধান বাড়ান তিনি। শেষ পর্যন্ত এ ব্যবধান ধরে রেখেই তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে বসুন্ধরা। খেলাশেষে বসুন্ধরা কিংসের হেড কোচ অস্কার ব্রুজোন বলেন, 'খেলা ভালো হয়েছে। গোপালগঞ্জের মাঠও ভালো। এখানে দর্শক উপস্থিতি দেখে আমি আনন্দিত। তবে আমাদের কিছু জায়গায় এখনও ঘাটতি আছে। আগামী ম্যাচে এগুলো শুধরে নিতে হবে।' মুক্তিযোদ্ধার হেড কোচ মো. আবদুল কাউয়ুম সান্টু বলেন, 'আমরা ভালো খেলেছি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হেরে গেছি। গোপালগঞ্জ আমাদের হোম গ্রাউন্ড। আমরা আগামী ম্যাচগুলোতে আরও ভালো করব। গোপালগঞ্জের দর্শকরা যেন আনন্দ পায়।'

মন্তব্য করুন