এক সূত্রে গাঁথা সাফ-সাবিনা

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

সাখাওয়াত হোসেন জয় বিরাটনগর, নেপাল থেকে

শখের বশে খেলতেন ক্রিকেট। অন্য খেলাও কমবেশি খেলতেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন ফুটবল নিয়ে দুষ্টুমি করেন। বলে লাথি মারা, হেড করা থেকে শুরু করে সবকিছুই করতেন বাড়িতে। এভাবেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা জন্মায় সাবিনা খাতুনের। এরপর নজরে পড়েন সাতক্ষীরা জেলা কোচ মোহাম্মদ আকবরের। তার হাতেখড়িতে মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশের সেরা এ স্ট্রাইকার। খেলেছেন স্কুল পর্যায়ে, আন্তঃস্কুল ও আন্তঃজেলা পর্যায়েও। সেখানে ভালো করার সুবাদে ডাক পান জাতীয় দলে। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে পরেন। পরের বছরই খেলেন নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে কক্সবাজারে বসেছিল দক্ষিণ এশিয়ায় মেয়েদের ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। অভিষেকেই ছিলেন সাবিনা। এরপর অনুষ্ঠিত হয়েছে সাফের চার আসর। সবগুলোতেই বাংলাদেশ দলের স্বপ্নের সারথি ছিলেন তিনি। কক্সবাজার থেকে বিরাটনগর; পঞ্চম সাফেও বাংলাদেশের নয়নের মণি সাতক্ষীরার এ নারী ফুটবলার। দেশের হয়ে তিনিই একমাত্র ফুটবলার যে কি-না পাঁচটি সাফ খেলছেন। তাই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আর সাবিনা যেন একই সূত্রে গাঁথা।

প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে বিদেশে খেলার অভিজ্ঞতা আছে সাবিনার। ভারতের বালা দেবী-কমলা দেবীর মতো ফুটবলারের সঙ্গে খেলেছেন। মালদ্বীপ, ভারতের লীগ মাতানো সাবিনা দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোল স্কোরার। এমনকি এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৪ গোল করার রেকর্ডও আছে তার। সেই সাবিনা বিরাটনগরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের আশা-ভরসা। ক্যারিয়ারের পঞ্চম সাফ খেলতে যাওয়া সাবিনার জন্ম ১৯৯৩ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পলাশপুর গ্রামে। বাবা সৈয়দ গাজী এবং মা মমতাজ বেগমের পাঁচ কন্যার মধ্যে সাবিনা চতুর্থ। বড় বোনের প্রেরণাতেই আজ দেশের সেরা স্ট্রাইকার তিনি। শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সাফে শিরোপা জয়ের খুব কাছে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়েছিলেন। এবার পঞ্চমে কি সফল হবেন? সাবিনা পা মাটিতেই রাখছেন। আপাতত আজ ভুটান ম্যাচ নিয়েই ভাবছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। গতকাল বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে সবগুলো সাফ খেলার অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করেন তিনি, 'আমি প্রথম সাফ থেকেই আছি। আমার নিজের যে অভিজ্ঞতা তা আমার জন্য পজিটিভ ব্যাপার বলেই মনে করি। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে আমার খেলার অভিজ্ঞতা আছে। ভারত এবং নেপালের যে খেলোয়াড়গুলো আছে, আমি তাদের প্রথম সাফ থেকেই দেখে আসছি। আমি মনে করি ওদের সঙ্গে আমার একটা খেলার অভিজ্ঞতা আছে। নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে আমি চেষ্টা করব শতভাগ দেওয়ার।'

এবারের সাফে সাবিনার সঙ্গে বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে স্বপ্নার দিকেও। গত সাফে স্বপ্না ছিলেন দুর্দান্ত। দু'জনে স্ট্রাইকার হওয়ায় কোচদের চাওয়াটাও বেশি তাদের কাছ থেকে। সাবিনাও সেটা অনুধাবন করছেন, 'আমরা চেষ্টা করব শতভাগ দায়িত্ব পালন করতে। কারণ যেহেতু আমি ও স্বপ্নার পজিশন স্ট্রাইকার, টিমও আমাদের দিকে তাকিয়ে, সেহেতু আমাদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারলে ভালো কিছু হবে।' সেই ভালো কিছুই যে পূরণ করতে পারে বাংলাদেশের কোটি বাঙালির স্বপ্ন।