মাশরাফিদের সঙ্গে পারলেন না ইয়াসির

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মাশরাফি-রুবেল-সাইফউদ্দিনের সমন্বয়ে গড়া বোলিং আক্রমণকে তো জাতীয় দল বলে অনায়াসে চালিয়ে দেওয়া যায়। বিপর্যয়ের মুখে এ ক্ষুরধার আক্রমণের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছিলেন ইয়াসির আলী। তার পরও বিরস বদনে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। দলকে যে জয় এনে দিতে পারেননি তিনি। ১৪ রানে জিতে হ্যাটট্রিক জয় তুলে নিয়েছে আবাহনী। গতকাল সবচেয়ে নাটকীয় জয় পেয়েছে শেখ জামাল। ১০৬ রানে অলআউট হয়েও ১২ রানে জিতেছে তারা। জিয়াউর রহমানের দুর্দান্ত বোলিং করে মাত্র ৯৪ রানে গুঁড়িয়ে দেন শাইনপুকুরকে। আর এনামুল হক বিজয়ের সেঞ্চুরিতে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।

মিরপুরে আবাহনীর বিপক্ষে শেষ চার ওভারে জয়ের জন্য ব্রাদার্সের প্রয়োজন ছিল ৪৯ রান, হাতে ৩ উইকেট। সাইফউদ্দিনের করা ৪৭তম ওভারে ১২ রান তুলে আশা জাগিয়ে তুলেছিলেন ইয়াসির আলী। কিন্তু অপর প্রান্তে থাকা নাঈম জুনিয়রের কাছ থেকে খুব একটা সমর্থন পাননি বলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা বের করতে পারেননি ইয়াসির। অবশ্য নাঈমেরই বা কী দোষ! তিনি তো লোয়ার অর্ডার, দলের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরাই যে ইয়াসিরকে সঙ্গ দিতে পারেননি। এর পরও ১১২ বলে ১০৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটি দিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন চট্টলার এ তরুণ। ৩২ রানে ৩ উইকেট পতনের পর উইকেটে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন তিনি। সতীর্থদের কাছ থেকে সহায়তা পাননি বলে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি তিনি। সকালে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ে পড়েছিল আবাহনীর ব্যাটিংও। একশ' রানে পৌঁছার আগে ভারতীয় রিক্রুট ওয়াসিম জাফর, প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান জহুরুলসহ চারজনকে হারিয়ে বসেছিল তারা। অধিনায়ক মোসাদ্দেক হাফ সেঞ্চুরি করে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়েছিলেন। শেষ দিকে সাইফউদ্দিন ৪৫ বলে ৫৯ রান করে দলকে লড়াই করার মতো অবস্থানে নিয়ে যান। ১৫ বলে ২৬ রান করে ভূমিকা রাখেন মাশরাফিও।

প্রথম দুই ম্যাচ হারা শেখ জামালকে জয় এনে দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। গতকাল ফতুল্লায় শাইনপুকুরের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠেছিলেন তিনি। তবে ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে বের হতে পারেনি শেখ জামাল। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাব্বির হোসেন ও শরিফুলের বোলিং তোপে মাত্র ১০৬ রানে গুটিয়ে যায় ধানমণ্ডির ক্লাবটি। অবশ্য সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা জিয়া ৪১ রানের মহামূল্যবান ইনিংসটি না খেললে কী যে হতো বলা মুশকিল। ছোট এ টার্গেটের পিছু ধাওয়া করতে নেমে শাইনপুকুরের ওপেনাররা ৪৬ রান তুলে নিয়েছিলেন। এর পরই আঘাত হানেন জিয়া। তার সঙ্গে উইকেট শিকারে যোগ দেন আরেক পেসার সালাউদ্দিন শাকিলও। দু'জনে মিলে ৯৪ রানে গুঁড়িয়ে দেন শাইনপুকুরকে। বিকেএসপির ব্যাটিং-স্বর্গে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনকে মাত্র ১৬৩ রানে গুটিয়ে দেয় প্রাইম ব্যাংক। শুরুতে দুই পেসার আল-আমিন ও মোহর শেখের তোপের পর ঘূর্ণিজাদু দেখান দুই স্পিনার আবদুর রাজ্জাক ও অলক কাপালী। আরিফুল হকও জোড়া শিকার করেন। তাদের বোলিংয়ের সামনে কেবল মোহাম্মদ নাইম হাফ সেঞ্চুরি করেন। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জাকের আলী ৪৭ রান করেন। জবাব দিতে নেমে প্রাইম ব্যাংককের ওপেনিং জুটিই তুলে নেয় ১২৫ রান। রুবেল মিয়া ৪৪ করে আউট হলেও অপর ওপেনার এনামুল হক বিজয় ১০০ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে সাজঘরে ফেরেন।