বায়ার্ন দুর্গে লিভারপুলের জয়োৎসব

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

স্পোর্টস ডেস্ক

দুই লেগ মিলিয়ে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছিল টটেনহাম হটস্পার। মঙ্গলবার রাতে শালকেকে তো একরকম গুঁড়িয়েই দিল ম্যানচেস্টার সিটি। সেই ম্যাচে ৭-০ গোলের বড় জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে তাদের গোল ব্যবধান ছিল ১০-২। আরেক ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের সামনেও শেষ আটে ওঠার পথে বাধা ছিল জার্মানিরই আরেক ক্লাব। তবে টটেনহাম বা ম্যানসিটির চেয়ে লিভারপুলের সামনে চ্যালেঞ্জটা ছিল অনেক কঠিন। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জটা কি অসাধারণভাবেই না জিতে গেলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ! প্রথম লেগে নিজের করা ভুলগুলো কী দারুণভাবেই না পুষিয়ে দিলেন সাদিও মানে! সেনেগালিজ এই ফরোয়ার্ডের জোড়া গোলে অ্যালিয়ঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে লিভারপুল। প্রথম লেগ

গোলশূন্য ড্র হওয়ায় চতুর্থ ইংলিশ দল হিসেবে নিশ্চিত করেছে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শেষ আট।

বায়ার্নের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগে মাঠে নামার আগে লিভারপুলের সামনে 'প্লাস পয়েন্ট' ছিল না কিছুই। সফরকারী দলগুলোর জন্য আলিয়ঞ্জ অ্যারেনা বরাবরই ভীষণ কঠিন এক মঞ্চ। সেই মঞ্চেই নিজেকে আরেকবার চেনালেন মানে। নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রথম ম্যাচ খেলতে না পারা ভার্জিল ফন ডাইক স্বরূপে ফিরলেন সে মঞ্চেই। ডিফেন্ডার হিসেবে গোল ঠেকানোই তার কাজ। কিন্তু এদিন ফন ডাইক ঠেকিয়েছেন যেমন, তেমন গোল করেছেনও বটে, সেইসঙ্গে মানেকে অ্যাসিস্টও করেছেন।

বুধবার রাতে আলিয়ঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচের শুরুতে দু'দলই ছিল বেশ সাবধানী। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের চেয়ে মাঝমাঠে লড়াইটাই যেন হয়ে উঠেছিল মুখ্য। ম্যাচের স্কোরশিটে নাম ওঠানোর কাজটা প্রথমে করলেন মানে। সেখানে অবশ্য ফন ডাইকের ভূমিকাটা আলাদা করে না বললেই নয়। রবার্ট লেভানডভস্কির কাছ থেকে বলের দখল নিয়ে মানের দিকে নিখুঁতভাবে লম্বা পাস বাড়িয়েছিলেন এই ডাচ ডিফেন্ডার। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এরপর দারুণ এক মুভে মানে বিভ্রান্ত করেন বায়ার্নের এক ডিফেন্ডার এবং গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ারকে। ফাঁকা পোস্টে এরপর বাঁ পায়ের শটে বল জড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন।

বায়ার্ন সমতায় ফেরে খানিক বাদেই। গোলমুখে বায়ার্ন মিডফিল্ডার সার্জে গনাব্রির নিচু করে বাড়ানো বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়ান লিভারপুল ডিফেন্ডার জোয়েল মাতিপ।

লিভারপুলের কাছে 'অ্যাওয়ে' গোলের সুবিধা থাকায় জয়ের জন্য কমপক্ষে একটি গোল দিতেই হতো বায়ার্নকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচের আধিপত্য নিজেদের কাছে নিয়ে নেয় লিভারপুল। সফলতা পেতেও দেরি হয়নি। ৬৯তম মিনিটে জেমস মিলনারের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল অনেকখানি উঁচুতে লাফিয়ে হেড করে জালে পাঠান ফন ডাইক।

নিজেদের তৃতীয় গোলটা ছয় মিনিট পরই পেয়ে যেতে পারত লিভারপুল। কিন্তু সুবিধাজনক জায়গা থেকেও বলে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি মোহামেদ সালাহ। দশ মিনিট পর সেই সালাহর অ্যাসিস্টেই আসে তৃতীয় গোল। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার বাড়ানো উঁচু বলে হেড করে গোল দেন মানে। সেইসঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্যও। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি ও টটেনহাম হটস্পারের পর ইংল্যান্ডের চতুর্থ দল হিসেবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে লিভারপুল।