মুশফিক শুধু বলল- আমরা ঠিক আছি

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মায়ের মন বলে কথা, মোবাইলের ওপাশে ছেলের কাঁপা কাঁপা গলায় কথা বলার পরও চাইছিলেন একটু দেখতে। শেষ পর্যন্ত ভিডিও কলও দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। মায়ের সঙ্গে প্রায় দশ মিনিট কথা বলার পর বোঝাতে পেরেছিলেন যে, তিনি নিরাপদে আছেন। গতকাল ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে যখন হামলা হয় তখন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টার কাছাকাছি। প্রতিদিনের নিয়মিত অভ্যাসমতো বাসার বাইরে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন মাহবুব হামিদ তারা। চায়ের দোকানে বসতেই নিউজিল্যান্ডের নাম্বার থেকে ফোন। মুশফিকের সেভ করা নম্বর থেকে নয়, তাই শুরুতে বুঝতে তার কিছুক্ষণ অসুবিধা হয়েছিল। তবে ফোনটি রিসিভ করেই চমকে যান ওপাশে কান্নার শব্দ শুনে। 'প্রথম পনেরো সেকেন্ড আমি বুঝতেই পারিনি, ওটা মুশফিকের গলা। কাঁপা কাঁপা গলায় শুধু বলছিল, এখানে মসজিদে গোলাগুলি হয়েছে। আমরা ঠিক আছি...। এটুকু বলার পরই ফোনটা কেটে যায়। বাড়িতে এসেও আমি বুঝতে পারিনি ঘটনার ভয়াবহতা। টেলিভিশন খুলে যখন দেখি ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তখন ফের মুশফিককে টেলিফোনে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু তখন লাইন পাচ্ছিলাম না।'

মুশফিকের এই ফোনের কথা তখনও তার মাকে জানানো হয়নি। কিন্তু মাহবুব হামিদ তারা ভেতরে ভেতরে একটা অস্বস্তি নিয়ে সময় কাটাচ্ছিলেন। যেটা বুঝতে পারেন মুশফিকের মা রহিমা খাতুন। অবশেষে তাকে পুরো ঘটনা খুলে বললে কাঁদতে থাকেন তিনি। এরপর মুশফিক দু'বার ভিডিও কলে কথা বলেন তার বাবা ও মায়ের সঙ্গে। 'মুশফিক শুধু বলছিল, আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়ে ফিরিয়েছেন। একজন মহিলা আমাদের গাড়ি না আটকালে কী যে হতো ভাবলেই গা কাঁটা দিয়ে উঠছে। আমরা সবাই মসজিদের খুব কাছেই ছিলাম। গুলির শব্দ শুনে আমরা সবাই বাসের সিটের পেছনে মাথা নিচু করে ছিলাম। বাস থেকে নেমেও দৌড়াতে পারছিলাম না।' মুশফিককে তার বাবা জিজ্ঞেস করেছিলেন খেলা হবে কি-না? 'মুশফিক বলছিল, আমরা এখন খেলার মতো অবস্থায় নেই। এখানে হোটেলে সবাই একসঙ্গে বসে আছি। খুব শিগগিরই বাড়ি ফিরব। তুমি চিন্তা করো না।' মুশফিক চিন্তা করতে বারণ করলেও বাবা-মায়ের মন কি শান্ত থাকে। তাই গতকাল সারাদিন বিসিবির কর্মকর্তাদের কাছে ফোন করে মাহবুব হামিদ তারা জানাতে চাইছিলেন- কবে ফিরবে ওরা? সন্ধ্যায় তাকে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয় আজ রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকা ফিরছেন মুশফিকরা।