কলম্বো থেকে ক্রাইস্টচার্চ

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০১৯      

স্পোর্টস ডেস্ক

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৯ জন। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররাও, যাদের জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা ছিল আক্রান্ত দুই মসজিদের একটিতে। নৃশংস এই হামলার জেরে বাতিল হয়েছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। তবে এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলায় বাতিল হয়েছে ক্রিকেট ম্যাচ বা সিরিজ। দেখে নেওয়া যাক সে রকম কিছু ঘটনা-

২০০৯, লাহোর :দশ বছরের আগে সেটাও ছিল মার্চ মাস। ৩ মার্চ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শ্রীলংকা ক্রিকেট দলকে বহনকারী বাসে হামলা চালায় ১২ জন বন্দুকধারীর একটি দল। এই হামলায় আহত হন শ্রীলংকা দলের ছয় ক্রিকেটার। পাকিস্তান পুলিশের তিন সদস্যের পাশাপাশি নিহত হন দু'জন সাধারণ মানুষ। সিরিজ বাতিল করে অনতিবিলম্বে দেশে ফেরে লংকান দল। ঘটনার জেরে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানে একরকম নির্বাসিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।

২০০৮, মুম্বাই :২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে পরের তিন দিন ভারতের মুম্বাই শহরের ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভয়াবহ হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। সে সময় ভারত সফরে ছিল ইংল্যান্ড দল। হামলার জেরে দুই দলের ওয়ানডে সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ বাতিল হয় এবং ইংলিশ ক্রিকেটাররা দেশে ফিরে যান।

২০০২, করাচি :২০০২ সালে করাচিতে সফররত নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের হোটেলের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এতে আহত হন নিউজিল্যান্ড দলের একজন সাপোর্ট স্টাফ। করাচির দ্বিতীয় টেস্ট বাতিল করে এরপর দেশে ফিরে যায় কিউইরা।

২০০১, কলম্বো :কলম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০০১ সালের জুলাইয়ে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল তামিল টাইগাররা। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১৪ জন তামিল গেরিলার পাশাপাশি নিহত হন এয়ারফোর্সের সাত সদস্য। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল সে সময় অবস্থান করছিল শ্রীলংকায়। সেবার অবশ্য সফর বাতিল করেনি তারা। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল ম্যাচ।

১৯৯৬, কলম্বো :১৯৯৬ সালের ৩১ জানুয়ারি কলম্বোর সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলংকার মূল গেটের সামনে বিস্টেম্ফারকবোঝাই ট্রাক নিয়ে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। নৃশংস সেই হামলায় মারা যায় ৯১ জন। এই হামলার জেরে বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্বের ম্যাচ খেলতে শ্রীলংকা আসার ব্যাপারে আপত্তি জানায় অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে শ্রীলংকা সরাসরি উঠে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। পরে সেই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল লংকানরা।