চার সপ্তাহেও জবাব আসেনি

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

তাপ কমে গেলে থার্মোমিটারের পারদ যেমন নেমে আসে, বিদেশ সফরে জাতীয় ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা ইস্যুটিও আলোচনা থেকে দূরে সরে গেছে অনেকটাই। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার পর বিদেশ সফরে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে যে তৎপরতা দেখিয়েছে বিসিবি, এখন তাতে ভাটার টান। ক্রাইস্টচার্চের ওই ঘটনার পর বাংলাদেশ দলের আয়ারল্যান্ড সফরে মাশরাফি বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবি কর্মকর্তারা যে উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন, অদ্যাবধি তার কোনো কিছুর বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়নি। বিসিবিকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনাই পাঠায়নি আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। তবে গেল সপ্তাহে বিসিবিকে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা মেইলে পাঠিয়ে দিয়েছে আইসিসি। আইরিশ বোর্ডের কাছ থেকেও শিগগিরই নিরাপত্তা পরিকল্পনা পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, 'ওরা নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশটির নিরাপত্তা সংশ্নিষ্ট বিভাগের কাছ থেকে পরিকল্পনা পাওয়ার পরই তারা আমাদের পাঠাতে পারবে।'

ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড যাবে পহেলা মে। ওখানে টাইগারদের কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে জানতে চেয়ে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডে মার্চের মাঝামাঝিতে একটি বার্তাও পাঠিয়েছিল বিসিবি। প্রায় এক মাস হতে চলেছে, কিন্তু এ নিয়ে আইরিশ বোর্ডের কাছ থেকে সেভাবে সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা পরিকল্পনা পাওয়া না গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ অতীতে বিদেশি ক্রিকেট দলগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার নজির নেই তাদের। বিসিবিও আগে কখনো নিরাপত্তা পরিকল্পনা চায়নি তাদের কাছে। এ বিষয়টি দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের জন্যই নতুন অভিজ্ঞতা। সেজন্য হয়তো কোনো পক্ষই নিরাপত্তা ইস্যুতে বাড়াবাড়ি করতে চাইবে না।

আসলে ইউরোপের দেশগুলোতে নিরাপত্তার ধারণাই আলাদা। ওখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার পর সবকিছু দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসে। বাংলাদেশের মতো বিদেশি দলগুলোর জন্য আলাদা করে বড়সড় নিরাপত্তা স্কট রাখতে দেখা যায় না। মাশরাফিরা আগে যতবার ইউরোপে খেলতে গেছেন তার কোনোবারই বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি টাইগার বাহিনীকে। এবারও আয়ারল্যান্ড সফরে মাশরাফিদের নিরাপত্তায় খুব বেশি কিছু পাওয়া যাবে না। বিসিবি সিইওর অনুমান, খেলোয়াড়দের ভেন্যুতে আনা-নেওয়ার সময় বোধ হয় বাসের সামনে মোটরবাইক নিয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তা রাখা হতে পারে। এরচেয়ে বেশি কিছু যে আশা করা যাচ্ছে না, তার কারণও আছে। ৩০ মে থেকে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য খুব বেশি নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলতে চাচ্ছে না আইসিসি। নিজাম উদ্দিন চৌধুরী জানান, প্রতিটি দলের বাসের সামনে মোটরবাইকে করে একজন পুলিশ কর্মকর্তা থাকবেন নিরাপত্তার দায়িত্বে। টিম হোটেলগুলোও তাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা দিয়েই চলবে। ২০১৫ সালের অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে একই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্কটে টিম বাস ভেন্যু ও হোটেলে যাওয়া-আসা করেছে। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আরও কম নিরাপত্তা রেখেছিল আয়োজকরা। বিসিবি মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দলের বাসের ভেতরে দু'জন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন তারা। ক্রিকেটাররা হোটেলে থাকার সময় কোনোদিনই ওই দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি বলে জানান তিনি। বিসিবি কর্মকর্তারা এ মুহূর্তে নিরাপত্তা নিয়ে বেশি কিছু ভাবতেও চান না। বিশ্বকাপের নিরাপত্তায় ভারতকে অনুসরণ করতে চায় বিসিবি। আইসিসির নিরাপত্তা পরিকল্পনায় ভারত আর অস্ট্রেলিয়া সন্তুষ্ট থাকলে বাকিদের আপত্তির কোনো সুযোগও থাকবে না। কারণ বিশ্ব ক্রিকেটের এই দুই পরাশক্তি নিরাপত্তার ব্যাপারে খুবই সচেতন। যে কোনো দেশে দল পাঠানোর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তার রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে। সবদিক থেকে সন্তুষ্ট হলেই কেবল দেশটিতে সফর করে অসিরা। নিউজিল্যান্ডের ঘটনার পর বিসিবি থেকে জাতীয় দলের বিদেশ সফরে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক রাখার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী জানান, সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকের বিষয়টি দেখা হবে। তবে যে দেশে আমরা দল পাঠাব তাদের নিরাপত্তার ওপরই নির্ভর করতে হবে। আমাদের ওখানে কিছু করার নেই।' বিদেশ সফরে বাংলাদেশ দল কখনোই নিরাপত্তা কর্মকর্তা সঙ্গে নেয়নি। এবারও তার ব্যাতিক্রম হওয়ার

সুযোগ নেই।