সেই রেইফারের কাঁধেই কোচিংয়ের ভার

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র মাস দেড়েক। আর এই সময়েই কোচিং ও নির্বাচক প্যানেলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই)। রিচার্ড পাইবাসকে সরিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক উইন্ডিজ ক্রিকেটার ফ্লয়েড রেইফারকে। সিডব্লিউইর নবনির্বার্চিত প্রেসিডেন্ট রিকি স্কেরিটের নেতৃত্বে কোচিং এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা কার্যক্রমের অধীনে হয়েছে এই রদবদল।

পাইবাসের বরখাস্ত হওয়াটা অবশ্য খুব একটা চমক হয়ে আসেনি তাদের ক্রিকেটাঙ্গনে। গত জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশকিছু কারণে বিতর্ক উঠেছিল তাকে নিয়ে। গত মার্চে বোর্ডের সাধারণ সভায় অনুষ্ঠিত ভোটে ডেভ ক্যামেরনকে হারিয়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান স্কেরিট। সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্যামেরনের সঙ্গে পাইবাসের সখ্যও খুব একটা ভালোভাবে নেননি তিনি। জাতীয় দলে নির্বাচনের বিবেচনায় আসতে ঘরোয়া টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে হবে- এমন নিয়ম প্রণয়ন করার পক্ষেও ছিলেন পাইবাস, যে নিয়মের ফলে উইন্ডিজের অনেক ক্রিকেটারই জাতীয় দলের বিবেচনায় আসেননি।

প্রধান কোচ পরিবর্তন ছাড়াও আগের পুরো নির্বাচক কমিটিকেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০১৩ সালে নির্বাচকের দায়িত্ব পাওয়া এবং ২০১৬ থেকে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে থাকা কোর্টনি ব্রাউনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পেয়েছেন উইন্ডিজের আরেক সাবেক ক্রিকেটার রবার্ট হেইন্স। দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে নির্বাচকের দায়িত্বে থাকা লকহার্ট সেবাস্টিয়েন, ট্রাভিস ডাউলিন ও এল্ডিন বাপ্টিস্টেকেও। আপাতত দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হেইন্সকে সহায়তা করবেন কোচ রেইফার ও ডিরেক্টর অব ক্রিকেটের দায়িত্বে থাকা সাবেক ক্রিকেটার জিমি অ্যাডামস।

এমন রদবদলকে 'দরকারি' আখ্যা দিয়ে স্কেরিট বলেন, 'অবিলম্বে আমাদের দল নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমন্বয় করাটা দরকার ছিল, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটা আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও খেলোয়াড়কেন্দ্রিক হয়। আমি এটা নিশ্চিত করতে পেরে আনন্দিত যে, আমরা আমাদের পুরনো নির্বাচন নীতির ইতি টেনেছি, যেটা গোপনে কিন্তু সক্রিয়ভাবে কিছু ক্রিকেটারের প্রতি অবিচার করেছিল।'

রেইফারের জন্য অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হওয়ার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এর আগেও এক দফা এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ 'এ' দলকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে বোর্ডের সঙ্গে আর্থিক বিষয়ে দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে আপত্তি জানায় সে সময়কার উইন্ডিজ দলের অধিকাংশ সদস্য। দুই ম্যাচের সিরিজে তাই বোর্ডকে মাঠে নামাতে হয় প্রায় নতুন একটি দল। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন ছয় টেস্ট, আট ওয়ানডে ও একটি টি২০ খেলা রেইফার। আগামী মাসে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজই হবে রেইফারের প্রথম মিশন। সিরিজে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি খেলবে বাংলাদেশও।