আবাহনীর রোমাঞ্চকর জয়

প্রকাশ: ১৬ মে ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খুলে গেল স্বপ্নের দরজা। নতুন ইতিহাস গড়ার পথে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। এএফসি ক্লাব কাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নদের। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে ভারতের চেন্নাইন এফসিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্রতিশোধ নিল আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। পিছিয়ে পড়ার পর অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা আবাহনী গ্রুপ 'ই'র পয়েন্ট টেবিলে চেন্নাইন এফসিকে স্পর্শ করেছে। ৪ ম্যাচে সমান ৭ পয়েন্ট হলেও গোল গড়ে পিছিয়ে থাকায় দুইয়ে মারিয়ো লেমোসের দল। গত ৩০ এপ্রিল চেন্নাইনের মাঠে ১-০ গোলে হারের প্রতিশোধ নিলেন নবীব নেওয়াজ জীবনরা। ১৯ জুন গ্রুপে নিজেদের পরের ম্যাচে ঢাকায় নেপালের ক্লাব মানাং মাশিয়াংদির মুখোমুখি হবে আবাহনী।

ম্যাচটি বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নদের জন্য ছিল অঘোষিত ফাইনাল। হারলে কিংবা ড্র করলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কা বেড়ে যাবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আবাহনী শিবিরে ছিল চোটের হানা। দলের দুই তারকা তপু বর্মন, আতিকুর রহমান ফাহাদ ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে। আরেক তারকা টুটুল হোসেন বাদশা না থাকায় রক্ষণভাগ সামলানোর সৈনিকই যে ছিল না লেমোসের দলের। তাই ভয়টা ছিল ডিফেন্স নিয়েই। ম্যাচের ৬ মিনিটে আবাহনীর রক্ষণের ভুলে এগিয়ে যায় চেন্নাইন। বাঁ দিক থেকে আইজ্যাকের কর্নার শটে বল গিয়ে পড়ে দূরের পোস্টে থাকা সি কে ভিনেথের কাছে। ৩০ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ডের প্লেসিং শট খুঁজে নেয় জাল। শুরুতে গোল হজম করায় আবাহনী শিবিরে নেমে আসে হতাশা। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আক্রমণের পর আক্রমণ করেও সমতা আনতে পারেনি স্বাগতিকরা। কখনও প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক আবার কখনও বা পোস্ট হতাশ করে ওয়ালী ফয়সাল-জীবনদের।

বিরতির পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন আবাহনীর। পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয় তারা। ৬৪ মিনিটে আফগানিস্তান ডিফেন্ডার মাসিহ সাইঘানির লম্বা করে বাড়ানো বল বুক দিয়ে নামিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত টোকায় চেন্নাইনের জাল কাঁপান বেলফোর্ট। চার মিনিট পর প্রথম গোলের জোগানদাতা সাইঘানির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী। ডি-বক্সের একটু ওপর থেকে তার নেওয়া বাঁ পায়ের জোরালো ফ্রি কিক চলে যায় চেন্নাইনের জালে। ৭৪ মিনিটে রক্ষণের ভুলে আইজ্যাক গোল করলে এগিয়ে যাওয়ার স্বস্তি উবে যায় আবাহনীর।

২-২ গোলে ম্যাচটি সমতায় শেষ হওয়ার দিকেই এগুচ্ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে আকাশি-নীল জার্সিধারীদের আনন্দে ভাসান মামুনুল ইসলাম। রায়হানের লম্বা থ্রো প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ফেরানোর পর ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে গোল করেন মামুনুল। বাকি সময়টা গোলপোস্ট আগলে রাখেন শহীদুল আলম সোহেল। আবাহনীও গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।