উত্তাপের ম্যাচ বলে কথা। মেজাজ হারিয়ে ফুটবলারদের হাতাহাতিতে জড়ানো যেন পূর্বনির্ধারিত। কারণ নবাগত বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের লড়াই মানেই বাড়তি আকর্ষণ। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল হয়েছে রোমাঞ্চকর এক লড়াই। টান টান উত্তেজনার ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন বসুন্ধরার কিরগিজ ফরোয়ার্ড বখতিয়ার দুশবেকভ। তার চোখধাঁধানো ফ্রি-কিকেই যে কিং হওয়ার পথে এগিয়ে গেল নবাগত ক্লাবটি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলে আবাহনীর আধিপত্য খর্ব হওয়ার পথে। বিপিএলে আবাহনীকে ০-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে অস্কার ব্রুজোনের দল। লীগে ১৪ ম্যাচে ১৩ জয় ও ১ ড্রয়ে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে বসুন্ধরা। সমান ম্যাচে ১১ জয়, ৩ হারে ৩৩ পয়েন্ট পাওয়া আবাহনীর অবস্থান দুইয়ে।

লীগের এখনও ১০ রাউন্ড বাকি। ঘটে যেতে পারে অনেক কিছুই। কিন্তু রোববার বসুন্ধরা-আবাহনী ম্যাচটিকেই অনেকে 'ফাইনাল' বলে আখ্যায়িত করেছেন। ফাইনাল জেতায় স্বস্তি বসুন্ধরা শিবিরে। প্রথম লেগে নীলফামারীতে কিংসের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। দ্বিতীয় লেগে প্রতিশোধের সঙ্গে লিডার বোর্ডে কিংসকে ধরে ফেলার সুযোগ ছিল মারিও লেমোসের দলের। কিন্তু হোমগ্রাউন্ডে পারেননি নবীন নেওয়াজ জীবন-সানডে সিজোবারা। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন বখতিয়ার। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে তার নেওয়া ফ্রি-কিক আবাহনী গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল ঝাঁপিয়েও ঠেকাতে পারেননি।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে দ্বিতীয়ার্ধ্ব। গোল পরিশোধে মরিয়া আবাহনী অলআউট ফুটবল খেলতে থাকে। কাউন্টার অ্যাটাকে বসুন্ধরাও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায়। ম্যাচের ৮০ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল কিংস। সতীর্থের কাছ থেকে বল পাওয়া ড্যানিয়েল কলিনড্রেসের চিপ আবাহনী গোলরক্ষক সোহেলকে পরাস্ত করে জালের দিকেই যাচ্ছিল। ঠিক তখনেই দৌড়ে এসে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দলকে উদ্ধার করেন ডিফেন্ডার রায়হান। পাঁচ মিনিট পর সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন সানজে সিজোবা। রায়হানের লম্বা থ্রোয়ে বসুন্ধরার এক খেলোয়াড় ঠিকমতো ফেরাতে পারেননি। রুবেল মিয়ার কাছ থেকে বল পান সানডে। কিন্তু পোস্টের ওপর দিয়ে বল মেরে সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। ইনজুরি সময়ে কাউন্টার অ্যাটাকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা কোস্টারিকান ফুটবলার কলিনড্রেস। ডান প্রান্ত থেকে ভিনিসিয়াসের মাইনাসে বক্সের মধ্যে বল পান কলিনড্রেস। কিন্তু তার নেওয়া ডান পায়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তাতে ভুগতে হয়নি বসুন্ধরাকে। বড় বাধা পার করার তৃপ্তি ইমন মাহমুদ-আনিসুর রহমান জিকোদের।

মন্তব্য করুন