ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফিটা আয়ারল্যান্ড থেকেই দেশে নিয়ে এসেছেন মাশরাফি। লিস্টারশায়ারের ক্যাম্পে থাকা সাকিবদের কাছে রেখে এসেছেন একগুচ্ছ ভালো স্মৃতি ও ত্রিদেশীয় সিরিজের অর্জনগুলো। তিন জাতির টুর্নামেন্ট শেষ করেই মাশরাফিকে ছুটতে হয়েছে দেশে ফেরার বিমান ধরতে। বিজয় উদযাপন করে পরের দিন মুশফিকরা দেড় ঘণ্টার আকাশ পথ পাড়ি দিয়ে গেছেন বিশ্বকাপের দেশ ইংল্যান্ডে। শনিবার হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাসে করে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের ভেন্যু লিস্টারশায়ারে গেছেন তারা। আগামী ২২ মে পর্যন্ত টাইগারদের অস্থায়ী ঠিকানা এই লিস্টারশায়ার, যেখানে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্কিল ট্রেনিং করবেন খেলোয়াড়রা। মাশরাফি-তামিম ছুটিতে থাকায় আজ ১৩ জনকে প্র্যাকটিসে পাচ্ছেন প্রধান কোচ স্টিভ রোডস।

তিন জাতির টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ায় লিস্টারশায়ারের ক্যাম্পে গতকাল ছুটি রেখেছিলেন রোডস। ভেন্যু থেকে বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম জানান, সাকিব-মুশফিক ছাড়া স্কোয়াডের ১১ জনই এদিন ব্যাটে-বলে হাত লাগাননি। ছুটির দিনকে নিজেদের মতো করেই উপভোগ করেছেন সাব্বির-মিরাজরা। ব্যাটে-বলের অনুশীলন না করলেও মোসাদ্দেকরা হোটেলের সুইমিংপুল আর জিমে ঘাম ঝরান। কেবল একান্তে প্র্যাকটিস করেন দুই সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব ও মুশফিক। রাবীদ জানান, সেন্টার উইকেটে লম্বা নেট সেশন ও রানিং করেছেন দু'জনে। এ থেকে বোঝা যায়, বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যাপক সিরিয়াস সাকিব-মুশফিক। একটা দিনও নষ্ট হতে দিতে চান না তারা।

সাকিব যে বিশ্বকাপ খুব সিরিয়াস আইপিএলে থাকার সময়ই তা বোঝা গেছে। একান্তে প্র্যাকটিস করতে দেশ থেকে ভারতে নিয়ে গেছেন সাবেক গুরু মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। গুরুর সঙ্গে একান্তে ১০ দিনের মতো প্র্যাকটিস করেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মাঠে। হায়দরাবাদের ক্যাম্পে থাকতেই চোখে পড়ার মতো ওজন কমান বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার। ফিটনেস ভালো হওয়ায় আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে উড়ে উড়ে খেলেছেন তিনি। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই সেরা ছন্দে দেখা গেছে তাকে। যদিও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের সময় কোমরে ব্যথা হওয়ায় তিন জাতির টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলতে পারেননি সাকিব। যে তিন ম্যাচ খেলেছেন এর দুটিতেই পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস ছিল তার। উইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচে দারুণ বোলিং করেন। এই একাগ্রতা ইংল্যান্ডে এসেও ধরে রেখেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।

উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকের একাগ্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। দিনের পর দিন একা একা প্র্যাকটিস করে অভ্যস্ত তিনি। নিউজিল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিস করেছেন। ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনিও ছন্দে ছিলেন। বিশ্বকাপের ইংল্যান্ডের কন্ডিশনিং মানিয়ে নিতে সময় নষ্ট করার লোক নন তিনিও। কন্ডিশনিং ক্যাম্পে থাকা বাকিরাও মানসিকভাবে চাঙ্গা। আয়ারল্যান্ড থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে গেছেন সৌম্য। মোসাদ্দেক হোসেন ফাইনাল জয়ের নায়ক। মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, সাইফউদ্দিনরাও বিশ্বকাপে ভালো খেলো রসদ পেয়ে গেছেন ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই। লিস্টারশায়ারের কন্ডিশনিং ক্যাম্পটা আরও কিছুটা এগিয়ে দেবে টাইগারদের।

বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি দুই সপ্তাহ। লিস্টারশায়ারের ক্যাম্প শেষ হবে ২২ মে। ছুটি কাটিয়ে মাশরাফি-তামিম ওই দিনই জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন। পরদিন আইসিসির তত্ত্বাবধানে কার্ডিফের হোটেলে উঠবে টাইগাররা, যেখানে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ২৬ ও ২৮ মে। ৩০ মে ১০ জাতির বিশ্বকাপ শুরু হলেও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

মন্তব্য করুন