সাকিব না মালিঙ্গা

এক্স-ফ্যাক্টর

প্রকাশ: ১১ জুন ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক

২২০ ওয়ানডে খেলে লাসিথ মালিঙ্গার উইকেট ৩২৫টি। ইনিংসে ৫ উইকেট আছে আটবার, ৪ উইকেট ১০ বার। তুলনায় বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি বিবর্ণ। ২৮ ওয়ানডে খেলে উইকেটসংখ্যা ২৪টি। ৪ উইকেট একটি, ৫ উইকেট নেই একটিও। প্রায় একই হাল সাকিব আল হাসানেরও। ক্যারিয়ারে ২০১ ওয়ানডেতে রান ৫ হাজার ৯৭৭, ৩৬.৬৬ গড়; সেঞ্চুরি আটটি। কিন্তু লংকার বিপক্ষে ২২ ম্যাচে রান ৬০৭, ৩৩.৭২ গড়; কোনো সেঞ্চুরি নেই।

যার যার জায়গা থেকে মালিঙ্গা আর সাকিব অপর দলের বিপক্ষে ক্যারিয়ার তুলনায় অনুজ্জ্বল। তবে ব্রিস্টলে আজ বাংলাদেশ-শ্রীলংকা ম্যাচ দু'জনকে এনে দাঁড় করিয়েছে লাইমলাইটে। ম্যাচের ফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতা দু'দলের এগারোজন করে বাইশজনেরই আছে; তবে বাকি ১০ জনকে ছাড়িয়ে কোনো একজন যদি 'এক্স ফ্যাক্টর' হয়ে ওঠার সামর্থ্য রাখেন, বাজির বাজারে সেই দুটি নাম সাকিব আর মালিঙ্গারই। এরই মধ্যে খেলে ফেলা ম্যাচগুলোয় নিজেদের সে অবস্থানেই নিয়ে গেছেন তারা দু'জন। এর মধ্যে উজ্জ্বল বেশি আবার সাকিব। এবারের বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছেন তিনি শরীরের ওজন কমিয়ে, ঝরঝরে হয়ে। তারপর ব্যাটে দেখা দিয়েছেন নতুন এক সাকিব হয়ে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন ৭৫ রানের ইনিংস। কিউইদের বিপক্ষে খেলা পরের ম্যাচটিতে ৬৪। এরপর স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৮৬ রান তাড়া করতে নামা ব্যাটিংয়ে করেন দলীয় সর্বোচ্চ ১২১ রান, চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে যা তার একমাত্র সেঞ্চুরিও। তিন ম্যাচে ২৬০ রান তুলে সাকিবই এ মুহূর্তে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বাকিরা কেউ ফ্লপ, কেউ অধারাবাহিক হয়ে গেলেও সাকিব দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন প্রতি ম্যাচেই। শুধু ব্যাটিংয়ে নয়, অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানধারী হিসেবে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন বোলিংয়েও। উইকেট তিন ম্যাচে মোটে তিনটি। কিন্তু প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমীহও আদায় করেছেন বাঁহাতি এ স্পিনারই। মালিঙ্গা সে অর্থে এখনও খুব বেশি করে উঠতে পারেননি। তার দলের ম্যাচ শেষ হয়েছে তিনটি। এর মধ্যে পাকিস্তান ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। বাকি দুটির মধ্যে প্রথমটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো করতে পারেননি। ৫ ওভার বল করে রান দিয়েছেন ৪৬টি, উইকেটশূন্য ছিলেন দলের ১০ উইকেটে হারা ম্যাচটিতে। তবে মালিঙ্গা তার সামর্থ্যের প্রকাশ ঘটিয়েছেন আফগানিস্তান ম্যাচে। ৩৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন বলে নয়, উইকেট নেওয়ার ধরনের কারণে। সেদিন মোহাম্মদ শাহজাদকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর শেষের দুটি উইকেট নেন মালিঙ্গা। আর ওই দুটি উইকেট ছিল তার সিগনেচার ডেলিভারি টো-ক্রাশিং ইয়র্কারে। মিডল স্টাম্প তাক করে লক্ষ্যভেদী ইয়র্কারে বোল্ড করেছিলেন দৌলত জাদরান ও হামিদ হাসানকে। যে আউটের দৃশ্যে অনেকেরই মনে পড়ে গেছে ২০০৭ বিশ্বকাপের সেই ভয়ানক মালিঙ্গাকে, ইয়র্কারে যিনি বিপর্যস্ত করে রাখতেন ব্যাটসম্যানকে। আজকের ম্যাচে শ্রীলংকার অন্যতম মূল বোলার নুয়ান প্রদীপ খেলছেন না। ৩৫ বছর বয়সী মালিঙ্গার ওপর তাই দায়িত্ব থাকছে অনেক বেশি। ভঙ্গুর ব্যাটিং ও বোলিং লাইনআপে বাড়তি দায়িত্ব বাংলাদেশের সাকিবেরও।