সাকিবকে নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

সঞ্জয় সাহা পিয়াল,ব্রিস্টল থেকে

অনুরোধে নিঃস্বার্থ আকুতি ছিল, আবদারটি ছিল আপন মানুষের মতোই। শেষ পর্যন্ত তাই আসতেই হলো তাকে। হাত নাড়তে হলো, আপনারা কেমন আছেন- বলতে হলো, আমাদের জন্য দোয়া করবেন বলে বিদায়ও নিতে হলো এবং আশ্বস্ত করতে হলো- আমি ঠিক আছি, খেলব। হাততালি আর সেলফিতে ড্রেসিংরুমের সামনেরটা তখন যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। মাঠে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সারাদিন কাকভেজা হওয়ার কষ্টটা কমে যায় সাকিবের মুখে ওই কথাটুকু শুনেই। আসলে তার ঊরুতে চোট আছে এবং বিশ্বকাপে আগামী ম্যাচগুলোতে অনিশ্চিত। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই একটা উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে।

সাংবাদিক পরিচয় পেলেই অনেকের জিজ্ঞাসা- সাকিব কি দেশে ফিরে যাবেন, তিনি কি আর বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে পারবেন না। 'গ্রেড ওয়ান স্ট্রেইন ধরা পড়েছে। সুস্থ হতে বেশিদিন লাগবে না।' দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের এ বার্তাটি পৌঁছে দিলেও অনেকের শঙ্কা কাটছিল না। অগত্যা সাকিবের মুখে শুনেই তাদের বিশ্বাস বেড়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টনটনে পরের ম্যাচেই নামছেন সাকিব। আসলে আগের রাতে টিম হোটেলে ভয়টা ছিল সাকিবের মেডিকেল রিপোর্টের জন্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের সময় বাঁ ঊরুতে চোট পেয়েছিলেন। ব্রিস্টলে স্ক্যান করানোর পর জানা যায়, গ্রেড ওয়ান টিআর নয়, চোটটা গ্রেড ওয়ান স্ট্রেইন। টিআর হলে সুস্থ হতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগত সাকিবের। সে ক্ষেত্রে ভারত আর পাকিস্তান বাদে বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচেই খেলা হতো না তার। কিন্তু চোটটা যেহেতু গ্রেড ওয়ান স্ট্রেইন, সেহেতু সর্বোচ্চ আট দিন লাগতে পারে ফিট হতে। এর মধ্যেই চার দিন কেটে গেছে। টনটনে ম্যাচের আগে আর চার দিন বিশ্রাম পেলেই ফিট হয়ে যাবেন তিনি। ২৬০ রান করে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোরার তিনি। সেইসঙ্গে তিনটি উইকেটশিকারি। সাকিবের জন্য মাশরাফিরও দুশ্চিন্তা ছিল। কিন্তু রিপোর্ট পাওয়ার পর হাঁফ ছেড়েছেন। 'তেমন কিছু না। সেরে উঠতে বড়জোর আট দিন। আমাদের পরের ম্যাচ খেলতে এখনও সাত দিন হাতে রয়েছে। সাকিব ওই ম্যাচ খেলতে পারবে।' একটা স্বস্তির ভাব ছিল মাশরাফির চোখেমুখে।

প্রেসবক্সে বলাবলিও হচ্ছিল, শ্রীলংকার সঙ্গে ম্যাচটি না হয়ে মন্দ হয়নি। অন্তত সাকিবকে ছাড়া নামতে হয়নি। সাকিব নিজেও বিশ্রাম পেয়েছেন। রিপোর্ট হাতে এলেও টিম ম্যানেজমেন্ট চাইছে ব্রিস্টলের কোনো রেডিওলজিস্টকে একবার সেটা দেখাতে। যদিও কোনো সমস্যা নেই, তার পরও মনে যেন কোনো খুঁতখুঁতানি না থাকে। এদিন বৃষ্টির কারণে একটু দেরিতেই সবার সঙ্গে মাঠে এসেছিলেন সাকিব। ম্যাচটি কার্টেল হলে হয়তো খেলতেন না। তার পরও সাকিবের খেলা দেখার ইচ্ছাটা প্রবল ছিল মাঠে আসা দর্শকের মধ্যে। বৃষ্টি আছে জেনেও সাদাকালো বিশ্বাস নিয়ে জয়ের খোঁজে তারা কেউ এসেছিলেন লন্ডন থেকে, কেউ ডারহাম, কেউ বা কার্ডিফ থেকে। ছয় মাস আগে কেটে রাখা খামে ভরা টিকিট যত্ন করে আগলে রেখেছিলেন এ দিনটির জন্যই। তাদের হৈচৈয়েই নীরবতা ভেঙেছিল ব্রিস্টল গ্রাউন্ড। অনুষ্ঠানে মূল শিল্পী আসার আগে যেমন লোকাল শিল্পীদের দিয়ে গান গাওয়ানো হয়, তেমনি এখানেও টস দেরি হওয়ায় জায়ান্ট স্ট্ক্রিনে আর্কাইভ থেকে বের করা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পুরনো সব স্মরণীয় ম্যাচের হাইলাইটস চালিয়ে দেওয়া হয়। ম্যাচের ১৫ ওভার না হলে পাউন্ড ফেরত- টিকিটের পিঠে ছোট অক্ষরেই লেখা ছিল শর্তটি। তাই যারা এদিন টিকিট নিয়ে এসেছিলেন, তারা সবাই পাউন্ড ফেরত পেয়ে যাবেন। তবে এসবে নয়, তাদের পয়সা উসুল হয়েছিল বোধ হয় সাকিবের মুখে তার ফিটনেসের কথা শুনেই।