ছন্দ ধরে রাখতে চান সাকিব

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০১৯      

সঞ্জয় সাহা পিয়াল,লন্ডন থেকে

দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সাকিবকে দেখে খালেদ মাহমুদ সুজন- ঠিক এই সাকিবকেই প্রথম দেখেছিলাম প্রায় চৌদ্দ বছর আগে। এমনই রোগা-পাতলা ছিল ছেলেটা। এখন আবার আট কেজি ওজন কমিয়ে আগের মতো চেহারায় এসেছে। দেখবেন, এবারের বিশ্বকাপে সাকিবই হবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। সুজনের বলা এই কথা হয়তো কানে যায়নি সাকিবের। তবে সাকিব বেশ উপলব্ধি করেন তার ওপর এখন অনেক দায়িত্ব। নিজের চার বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই প্রথম ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। কিন্তু ফিরেছেন শূন্য হাতে, তাই আইসিসি মিক্সড জোনে আসা সাকিব জানান, এবার আর শূন্য হাতে ফিরতে আসিনি...। কাল দুইশ'তম ওয়ানডে খেলতে নামার আগে নিজেকে নিজের মতোই তৈরি করে রেখেছেন সাকিব আল হাসান।

প্রশ্ন :এই পারফরম্যান্সটা নিশ্চয়ই আপনার জন্য বিশেষ কিছু?

সাকিব :হ্যাঁ, অবশ্যই আমার জন্য বিশেষ কিছু। বাংলাদেশ দলের জন্যও বিশেষ। বিশ্বকাপে একটা ভালো শুরু করতে পারা দারুণ অর্জন। সেটা আমরা করতে পেরেছি।

প্রশ্ন :২০০৭, ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপের পর এবারও নিজেদের প্রথম ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করলেন।

সাকিব :খুবই ভালো লেগেছে। আমাদের ভেতরে বিশ্বাসটা ছিল আগে থেকেই। সেটা কাজে পরিণত করার প্রয়োজন ছিল। যেটার জন্য সবাই খুব উদ্বিগ্ন ছিল। আমরা লাকি, সবাই খুব ভালো করেছে।

প্রশ্ন :এই বিশ্বকাপের আগেই এক নম্বর অলরাউন্ডারের জায়গা ফিরে পেয়েছেন। কোচ বলেছেন, এই বিশ্বকাপে সাকিবকে প্রমাণ করতে হবে। এই বিষয়টা ভালো খেলতে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি-না?

সাকিব :হাসি... কোচ আসলে ওইভাবে বলেননি। তিনি যেটা বলতে চেয়েছেন, আমি ছন্দে আছি, রান করছি, সেদিক থেকে এই বিশ্বকাপে ভালো করতে পারব। অন্য কিছু বোঝাতে চাননি তিনি। হাসি...।

প্রশ্ন :অনেক পরিশ্রম করেছেন। নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করেছেন। মাঠে কি তারই প্রতিফলন ছিল?

সাকিব :নিজের কথা যদি চিন্তা করি, তাহলে অবশ্যই দিনটা ভালো গেছে। দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি। ব্যক্তিগত কিছু অর্জন ছিল। মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে জুটিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভিতটা গড়ার জন্য। শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যেটা আমরা করতে পেরেছি।

প্রশ্ন :সামনের ম্যাচে আরও ভালো কিছু আসছে তাহলে?

সাকিব :চেষ্টা থাকবে, যেহেতু এটা মাত্র শুরু। আমাদের আরও আটটা ম্যাচ আছে। অনেক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে। কারণ এই রেজাল্টের পর সব দলই আমাদের সঙ্গে আরও সতর্কভাবে খেলবে। সেদিক থেকে আমাদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আরও ভালোভাবে পরিকল্পনগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যান্য দলের কথা যদি চিন্তা করেন, সবাই আমাদের নিয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকবে। একদিক থেকে এটা ভালো যে, সতর্ক থাকলে নার্ভাস থাকতে পারে ওরা। আর এমনও হতে পারে, সবাই খুব ফোকাসড থাকতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, ফোকাসটা কম আছে সেটাকে কাজে লাগাতে পারলাম। কিন্তু এখন যেটা হবে, সবাই ফোকাসড থাকবে তার ভেতরে আমাদের ভালো খেলতে হবে।

প্রশ্ন :সৌম্যর ব্যাটিং আপনাকে কতটা স্বস্তি দিচ্ছে?

সাকিব :ওপেনারদের শুরুটা খুব ভালো ছিল। ওরা যখন এ রকম পজেটিভ স্টার্ট দিতে পারে তখন ড্রেসিংরুমে স্বস্তি বেশি থাকে। ওরা ভালো শুরু করায় আমাদের পরের ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করেছে। মুশফিক ভাই উইকেটে আসার পর আমরা আলোচনা করেছি, উইকেটটা ভালো আছে, একটু সময় নিয়ে খেলতে পারলে এখানে আসলে অনেক রান করা সম্ভব।

প্রশ্ন :প্রতিটি বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন। কিন্তু আগের বিশ্বকাপগুলোতে শেষটা ভালো করতে পারেননি। এবার নিশ্চয়ই সেটা করতে চাইবেন?

সাকিব :শুরুটা ভালো হলে সুবিধা একটু বেশি থাকে। কিন্তু আমি যেটা বললাম, যেহেতু আরও আটটি ম্যাচ আছে অনেক কিছু করার সুযোগ থাকবে। সেই চেষ্টাটাই করব। আগে ভালো শুরু করলেও শেষটায় ভালো হয়নি। এবার শেষটাও ভালো করতে চাই।

প্রশ্ন :পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কি ফেভারিট হিসেবে নামছেন?

সাকিব :ফেভারিট বলে কিছু নেই। নিউজিল্যান্ড খুবই কঠিন একটা প্রতিপক্ষ আমাদের জন্য। কারণ হচ্ছে, ওরা আইসিসি ইভেন্টগুলোতে সব সময় ভালো করে। ওদের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। অবশ্যই এই আত্মবিশ্বাসটা কাজে দেবে অনেক। নিউজিল্যান্ড ১০ উইকেটে জিতে এসেছে ম্যাচটা। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে হবে। যদি সব কিছু ঠিক করে করতে পারি ফল আসবে।

প্রশ্ন :এই জয়ের পর বাংলাদেশ বড় দলের কাতারে চলে যাবে কি-না?

সাকিব :দেখেন, আমরা তো সব সময় বলতে চেষ্টা করি, আসলে ওরা ওইরকম খুব একটা পাত্তা দেয় না। হাসি...। ওই জায়গাগুলোতে আমাদের প্রমাণ করার অনেক কিছু আছে। আমাদের শুরুটা ভালো হলো। আমি মনে করি, সবাই মানসিকভাবে খুবই ভালো একটা অবস্থায় আছে। এভাবে যদি আমরা যেতে পারি আমার মনে হয় অনেক দূর যাওয়া সম্ভব হবে।

প্রশ্ন :মুশফিকের সঙ্গে আপনার জুটির রহস্য কী?

সাকিব :অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে আমরা একসঙ্গে খেলেছি। বন্ডিংটা ওখান থেকেই তৈরি হয়েছে। ব্যাটিং অর্ডার হয় উনার আগে না হয় পরে সব সময় থাকত। অনেক সময় ব্যাটিং করা হয়েছে এবং জাতীয় দলে আসার পরও তা-ই হয়েছে। যে কারণে সুযোগটা তৈরি হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, উনার সঙ্গে অনেকগুলো বড় বড় জুটি হয়েছে। আরও আটটি ম্যাচ আছে। ওখানেও যদি তিন-চারটি বড় বড় জুটি করতে পারি তাহলে তো আরও ভালো হবে।