সেই তামিমকে চান হাথুরুসিংহে

প্রকাশ: ১০ জুন ২০১৯      

সঞ্জয় সাহা পিয়াল, ব্রিস্টল থেকে

সেই চেনা হাসি, চশমার ফ্রেমটাও বদলাননি দেড় বছরে। শুধু চুলগুলোতে আরও সাদার উপস্থিতি। দেখা হতেই এগিয়ে এসে হাত বাড়ালেন, খোঁজ নিলেন পরিচিত কিছু মানুষের। পাশে দাঁড়ানো লংকান সাংবাদিকরা কিছুটা যেন হতভম্ব! তারা তো আর জানেন না, সম্পর্ক ছিন্ন হলেও কিছু স্মৃতি সেখানে থেকে যায়। কিছু ভালোলাগা সেখানে পড়ে রয়। সেই ভালোলাগা থেকেই গতকাল ব্রিস্টল কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দেখা হয়ে যায় সাবেক টাইগার কোচ এবং বর্তমানে লংকার দায়িত্বে থাকা চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে। কুশল বিনিময়ের পর সমকালের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারের কৌতূহল প্রকাশ করতেই সবিনয় অনুরোধ তার- আপনি তো জানেনই, আমি কখনও কোনো সিস্টেমের বাইরে যাইনি, তাই লংকান ম্যানেজার না বললে আমি কাউকে সাক্ষাৎকার দিতে পারি না। এরপর নিজেই লংকান ম্যানেজারকে ফোন দিলেন, ওপাশ থেকে সবুজ সংকেত পেলেন না। তবে রেকর্ডার অন করে মুখোমুখি কথা না হোক, চেনাজানা মানুষের সঙ্গে আড্ডাটা তো হতে পারে। সমকালের সঙ্গে সে আড্ডাতেই স্মৃতি রোমন্থন যেমন করলেন হাথুরুসিংহে, তেমনি বর্তমান দল সম্পর্কেও উঠে এলো বেশ দারুণ কিছু বিশ্নেষণ।

বাংলাদেশ দল :হয়তো অনেক দিন হয় আমি ওদের সঙ্গে নেই। তবে আমি কিন্তু এখনও নিয়মিত তাদের খেলা দেখি। আমাকে জিজ্ঞাসা করলে বলে দিতে পারব বাংলাদেশ দলের কোন ব্যাটসম্যান কোন ম্যাচে কত রান করেছে। তার স্ট্রাইক রেট কত। কোন বোলার কোন ম্যাচে কত উইকেট পেয়েছে। এবারের বিশ্বকাপেও দারুণ খেলছে দলটি। এই কোচের অধীনেও তো ভালো জয় পাচ্ছে। বাংলাদেশ দলের জন্য আমার শুভকামনা থাকবে সবসময়।

তামিম ইকবাল :আমার এখনও মনে আছে, গত বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে কী ইনিংসটাই না খেলেছিল সে! আমি এখনও বিশ্বাস করি, তামিম যদি ফর্মে ফিরে আসে তাহলে এই বিশ্বকাপে বিপজ্জনক দল হয়ে উঠবে বাংলাদেশ দল। জানি না তার কী হয়েছে, তবে গত কয়েকটি ম্যাচে তাকে যেন আগের মতো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি নিশ্চিত, তামিম তার এই ব্যাপারটি নিয়েও কাজ করছেন এবং কোচও তাকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছেন।

সৌম্য সরকার :সত্যি কথা বলতে কি, সৌম্যর ফর্মে ফেরা দেখে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। আমি জানি, ওর মধ্যে কতটা প্রতিভা আছে। সে ফর্মে থাকলে প্রতিপক্ষ যে কোনো দলকেই এক কথায় কাঁপিয়ে দিতে পারে। তবে আমি নিশ্চয় চাই, শ্রীলংকার বিপক্ষে সৌম্যর ওই রূপ যেন আমাকে দেখতে না হয়।

সাকিব আল হাসান :আমি আগের ম্যাচটি খুব সূক্ষ্ণভাবে দেখেছি। সাকিবের ব্যাটিং দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। সে তো বিশ্বকাপের ক্রিকেটার। এই আসরে দেখবেন সে কোথায় চলে যায়। তিন নম্বরে সে দারুণ মানিয়ে নিয়েছে। (হাথুরুসিংহেকে থামিয়ে দিয়ে- কিন্তু শোনা যায়, আপনিই তাকে তিন নম্বরে খেলতে দেননি)। ব্যাপারটি তেমন নয়। আসলে এ নিয়ে এখন কথা না বলাই ভালো। আমি তো আর এখন বাংলাদেশের কোচ নই।

মুশফিকুর রহিম :আপনি খেয়াল করে দেখবেন, ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে কীভাবে উন্নতি করেছে মুশফিকুর রহিম। এ মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান সে। দারুণ হার্ড ওয়ার্কার। অভিজ্ঞতা আর দক্ষতা দিয়ে মুশফিকুর রহিম নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আমি সব সময় তার এই নিষ্ঠা আর পরিশ্রমকে শ্রদ্ধা করি।

মেহেদী হাসান মিরাজ :সত্যি কথা বলতে কি,  আমি মিরাজের উন্নতি দেখে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি। দারুণ প্রতিভাবান সে। কখন কোথায় কীভাবে বোলিং করতে হয়, সেটা সে নিজের বুদ্ধিতেই করে থাকে। প্রতিভাবান বোলার অনেকেই হয় তবে মিরাজ হচ্ছে বুদ্ধিমান স্পিনার। দারুণ করছে সে। এই বিশ্বকাপেও আরও ভালো পারফরম্যান্স করবে সে।

ধরে ধরে এই ক'জন ক্রিকেটারের গল্পই করলেন হাথুরুসিংহে। তবে খোঁজ নিলেন একজনকে। তাসকিন আহমেদ। বারবার তাসকিনের কথা উঠে এলো হাথুরুসিংহের মুখে। শুনেছি ওর ইনজুরি, তবে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বোধহয় তাকেই সবচেয়ে বেশি মিস করবে। জানি না, ও কী অবস্থায় আছে। অনেক দিন কোনো যোগাযোগ নেই। তবে তাসকিন ফিট থাকলে দলের বোলিং আরও শক্তিশালী হতো। ঢাকার কিছু চেনা রেস্টুরেন্ট, মিরপুরের চেনা সেই মাঠ- আড্ডায় আরও কিছু উঠে এসেছিল। কিন্তু লংকান মিডিয়া ম্যানেজার এসে সেটা ভঙ্গ করে দিলেন- চন্ডিকা, ম্যানেজার আপনাকে এখনই হোটেলে ফিরতে বলেছেন...। অসম্পূর্ণই থেকে গেল আড্ডাটি।