বিশ্বকাপকে সামনে রেখে গত ১ মে যখন দেশ ছাড়তে বিমানবন্দরে এসেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা, সবার চোখেমুখ যেন খেলা করছিল বিশ্বমঞ্চে ভালো খেলার এবং বড় কিছু অর্জনের প্রত্যয়। স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্ন সত্যি করার দৃঢ় বিশ্বাসও ছিল। কিন্তু সব স্বপ্ন তো বাস্তব হয়ে ধরা দেয় না। প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির ফারাকটা কখনও কখনও বড় নিষ্ঠুর হয়ে বুকে বেঁধে। বাংলাদেশ দলের ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই। সেমিফাইনালের লক্ষ্য নিয়ে দশ দলের বিশ্বকাপে যাওয়া বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট শেষ করেছে অষ্টম স্থানে থেকে। আট ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে। দীর্ঘ এক সফর এবং ব্যর্থ এক বিশ্বকাপ শেষে গতকাল আরও একবার যখন হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পা রাখলেন ক্রিকেটাররা, তখন তাদের চোখেমুখে যেন রাজ্যের ক্লান্তি আর বিষণ্নতা।

আগের দিন বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন মাশরাফি-তামিম-মুশফিকরা। প্রায় ১৪ ঘণ্টার যাত্রাশেষে গতকাল বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দেশে পা রাখেন তারা। বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ১৫ জন ক্রিকেটারের মধ্যে দেশের বিমান ধরেছেন ১১ জন। বাকি চার ক্রিকেটার- সাকিব আল হাসান, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাব্বির রহমান আপাতত ফেরেননি। ক্রিকেটারদের ফেরা উপলক্ষে এদিন বিকেল ৪টা থেকেই বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালের সামনে ছিল প্রায় শ'খানেক সংবাদকর্মীর উপস্থিতি। দেশে ফিরে ক্রিকেটারদের মধ্যে কে কে প্রতিক্রিয়া দেবেন, সেটা নিয়ে একটা কৌতূহল ছিলই। বিশ্বকাপ নিয়ে সামগ্রিকভাবে যা কথা বলার, সেটা বলেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যর্থতার দায় নিয়েছেন, সে সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, কিছু জিনিস পক্ষে থাকলে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ফল হতে পারত অন্যরকম।

মাশরাফি চলে যাওয়ার পর সাংবাদিকরা বাকি ক্রিকেটারদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন, শুনতে চেয়েছিলেন তাদের প্রতিক্রিয়া। তবে এক সাইফউদ্দিন ছাড়া তাদের সেই আবদার মেটাননি আর কেউই। মোহাম্মদ মিঠুন, সৌম্য সরকার, রুবেল হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেনরা হাসিমুখে কথা বলার অপারগতা জানিয়ে গাড়িতে উঠেছেন। তবে সাইফউদ্দিন এত সহজে ছাড় পাননি। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল চমৎকার পারফরম্যান্স পেয়েছে এই অলরাউন্ডারের কাছ থেকে। সাত ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন ১৩টি, সেইসঙ্গে দলকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তার অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিতেই শেষ পর্যন্ত বেঁচে ছিল জয়ের আশা। তবে নিজের এই পারফরম্যান্সে খুব একটা খুশি হতে পারছেন না সাইফউদ্দিন। বললেন, সামর্থ্যের পুরোটা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি, 'চেষ্টা ছিল যাতে নিজের শতভাগটা দিতে পারি। তাহলে হয়তো দলে আরও ভালো অবদান রাখতে পারতাম; কিন্তু সেটা পারিনি। আমার মনে হয়, আমি নিজের ৭০ ভাগ দিতে পেরেছি। পুরোটা না দেওয়ার আক্ষেপ তাই আছে।'

শুধু সাইফউদ্দিন নয়, এই বিশ্বকাপে নিজের পুরোটা না দেওয়ার আক্ষেপ হয়তো আছে দলের অনেক ক্রিকেটারেরই!

মন্তব্য করুন