ফুটবলে এমন রাত সচরাচর দেখা যায় না!

একটা লড়াইয়ে দুই প্রতিপক্ষ যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হয় তখন উত্তাপ আপনা-আপনিই বাড়ে। যেমনটা ক্লাব ফুটবলে রিয়াল-বার্সা, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কিংবা রিভারপ্লেট-বোকা জুনিয়র্সের মধ্যকার কোনো দ্বৈরথে। ঐতিহ্যগতভাবে এই দলগুলোর ম্যাচ মানে বাড়তি উত্তেজনা। কিন্তু এসবের বাইরে গিয়েও যখন ম্যাচের চিত্রনাট্যের আধেয় বিতর্ক, অসংখ্য ফাউল আর কার্ডে ঠাসা গল্পে লেখা হয়, তখন কি আর ফুটবলপ্রেমীদের ঘুমিয়ে থাকা চলে। গত শনিবার সাও পাওলোতে চিলি-আর্জেন্টিনার তেমনি একটা রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ উপভোগ করল লাখো-কোটি দর্শক।

চিলিকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার তৃতীয় হলো আর্জেন্টিনা। ম্যাচের সারকথা এই বাক্যের মাঝেও ব্যাকেটবন্দি করা যেত। যদি কি-না প্রথমার্ধে আকাশি-সাদাদের দলনেতা লিওনেল মেসি আর চিলির গ্যারি মেডেল মারামারিতে না জড়াতেন। এখানটায় এসে গল্পের শেষ দাঁড়ি পড়লেও বিতর্ক ততটা বাড়ত না। কিন্তু প্যারাগুয়ের রেফারি মারিও ডিয়াজ দু'জনকেই লাল কার্ড দেখিয়ে দিলেন। তাতে উত্তাপের আগুন বেড়ে যায় দ্বিগুণ। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটের আগে খানিকক্ষণ খেলাও বন্ধ থাকে। দু'দলের খেলোয়াড়রা এ নিয়ে দফায় দফায় বিবাদে জড়ান। শেষ পর্যন্ত দশজনের দল নিয়ে বাকি সময় লড়াই করে আর্জেন্টিনা ও চিলি।

কী এমন হয়েছিল? মুহূর্তেই দুই খেলোয়াড়কে ছেঁটে ফেলেন রেফারি। রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে হারার পর লম্বা একটা সময় জাতীয় দলের বাইরে কাটান মেসি। তবে লাতিন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণ কোপা আমেরিকা থেকে আর নিজেকে আড়ালে রাখতে পারেননি। যে কারণে এই মিশনের শুরু থেকে মেসিকে পায় আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের বাধা কাটিয়ে সেমিতেও ওঠে তারা। কিন্তু ব্রাজিলের কাছে হার মানায় ফাইনালের টিকিট কাটা হয়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের। ওই ম্যাচ নিয়েও বিতর্ক ছিল। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ তোলেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন। সে চ্যাপ্টার শেষ হতে না হতে নতুন বিতর্ক।

চিলির বিপক্ষে এদিন ম্যাচের ২২ মিনিটের মধ্যে দুই গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। আক্রমণেও তখন অনেকটা এগিয়ে তারা। আরেক প্রান্তে দুই গোল খাওয়া চিলি সফলতার জন্য অনেকটা মরিয়া হয়ে ওঠে। আক্রমণের ধারও বাড়িয়ে দেয় তারা। কিন্তু গোলের সুযোগ তৈরি করতে একাধিকবার ব্যর্থতার খাতায় নাম লেখায়। ৩৬তম মিনিটে চিলির বিপদসীমায় বল নিয়ে ঢুকে পড়েন মেসি। তাকে আটকাতে চিলির মেডেল বেশ তৎপর। একপর্যায়ে তিনি বল সাইডলাইনের বাইরে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু মেসি একটু মেজাজ হারিয়ে পেছন থেকে মেডেলকে হাত দিয়ে আঘাত করেন। যেটা ভালো লাগেনি মেডেলের। ঘুরে এসে মেসির বুকে মাথা দিয়ে গুতোতে থাকেন। মেসিও এক পা দুই পা করে পিছু হটেন। কিছুক্ষণ পর রেফারি দৌড়ে এসে দু'জনকেই লাল কার্ড দেন। তাতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে যায়। দুই দলের খেলোয়াড়রাও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেক বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন ম্যচ রেফারি ও তার দুই সহযোগী। এই ঘটনার পর দু'দলের খেলার ধরনেও ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। যার কারণে দ্বিতীয়ার্ধে ফাউলের সংখ্যাও মুড়ি-মুড়কির মতো বাড়তে থাকে। মনে হয়, গোল করা নয়, ফাউল করাই এখন তাদের মূল টার্গেট। তবে মারমুখী হতে গিয়ে শেষ দিকে একটা ভুল করেই ফেলে আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের মধ্যে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে অহেতুক আঘাত করায় পেনাল্টি উপহার পায় চিলি। এ সুযোগ মিস করেননি ভিদাল। সফল স্পটকিকে ব্যবধান কমিয়ে নেন। নির্ধারিত সময়ে আর গোল না হওয়ায় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় টানা দু'বারের চ্যাম্পিয়ন চিলিকে।

মন্তব্য করুন