রোল প্লেয়িংয়ে ফেল তামিম

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

'রোল প্লেয়িং'কে কি ঢাল বানানো হলো! গত তিন-চার মাস এই একটি বাক্য খুব চর্চার বিষয় ছিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাংবাদিকদের আড্ডায়। অভিযোগ উঠেছে, সুকৌশলে বিষয়টি কেউ কেউ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন। এই কথিত 'রোল প্লেয়িং' হলো- তামিম ইকবালকে লম্বা ইনিংস খেলার জন্য স্লো ব্যাটিং করার লাইসেন্স বা স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে। বিশ্বকাপ যাত্রার প্রাক্কালে মাশরাফি বিন মুর্তজার সংবাদ সম্মেলনেও এই স্বাধীনতার বিষয়টি তোলা হয়েছিল এবং অধিনায়ক একটু থমকে গিয়ে বলেছিলেন- রোল প্লেয়িংয়ের বিষয়টি তার জানা নেই। এরপর ব্যাখ্যা দিয়ে তামিমের অবদান তুলে ধরেন মাশরাফি। গতকাল জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদকে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি যেমন বললেন, 'আমি ম্যানেজার এবং দল নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করি। এটা সম্পূর্ণই কোচের ব্যাপার, কাকে কী দায়িত্ব দেবেন।' মজার ব্যাপার হলো- এই ভুতুড়ে 'রোল প্লেয়িং' নিয়ে তামিম ইকবালকে কোনো দিন, কোনো প্ল্যাটফর্মে বলতে শোনা যায়নি।

জাতীয় দলের প্রধান কোচ স্টিভ রোডস এ মুহূর্তে চাকরিচ্যুত। তিনি আর এসবের ব্যাখ্যা দিতে দায়বদ্ধ নন। যে কর্মকর্তা দলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত, খেলোয়াড়দের সঙ্গে দহরম মহরম সম্পর্ক যার, রোল প্লেয়িংয়ের বিষয়টি তার জানা না থাকাটা বিস্ময়ের জন্ম দেয়। তবে টিম রুলস থাক বা না-ই থাক, তামিম যে বিশ্বকাপে তার নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি এ ব্যাপারে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়। খালেদ মাহমুদও তা স্বীকার করে নিয়েছেন, 'তামিম আমাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তার দুর্ভাগ্য এই সফরে পারফর্ম করতে পারেনি। তামিম যে রকম খেলে, তার কাছ থেকে যে রকম আশা করা হয়, সেটা করতে পারেনি। তবে সে খারাপ খেলেছে, সেটা বলা যাবে না।'

বিশ্বকাপের আগে সংবাদমাধ্যমকে তামিম বলেছিলেন, ওপেনিংয়ে তার সঙ্গে কেউ থিতু হতে পারছেন না বলেই নিজের বাজে দিনে সঙ্গীকে ঝুঁকি নিতে বলার খুব একটা সুযোগ নেই তার কাছে। তবে বিশ্বকাপে বেশিরভাগ ম্যাচেই দলকে ভালো শুরু এনে দিতে বড় শট খেলার ঝুঁকি নিতে হয়েছে তামিমের ওপেনিং সঙ্গীকেই। রোল প্লেয়িংয়ের কোনো ব্যাপার থাক বা না-ই থাক, এর মূল্য ঠিকই দিতে হয়েছে দ্বিতীয় ওপেনারকে। প্রতি ম্যাচে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে উইকেট হারিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয়েছে। এ ব্যাপারে খালেদ মাহমুদও আক্ষেপ করলেন, 'অনেক সময় হয়তো ওই খেলোয়াড়টি বলির পাঁঠা হচ্ছে। কিন্তু এটি পার্ট অব দ্য গেম। আমি এতে কোন অন্যায় দেখি না।' এই বিশ্বকাপে হার-জিত কোনো ম্যাচেই ওপেনিং জুটির কাছ থেকে বড় রান পায়নি বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬০, নিউজিল্যান্ডের বিপরীতে ৪৫, ইংল্যান্ডের সঙ্গে ৮, উইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৫২, অস্ট্রেলিয়ার ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৩, ভারতের সঙ্গে ম্যাচে ৩৯ আর পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৬ রান এসেছে ওপেনিং জুটি থেকে। এই আট ম্যাচে দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্যর হাফ সেঞ্চুরি একটি। তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ৬২ রানের সেই ইনিংসটি। তথাকথিত রোল প্লেয়িং রুলস মেনে খেলতে গিয়ে এক সময়ের মারকাটারি ব্যাটসম্যান তামিমের স্ট্রাইক রেট ৭১.৬৪। ২৯.৩৯ গড়ে ২৩৫ রান তার। যা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের নামের সঙ্গে মোটেও যায় না। বিশ্বকাপের পর তামিম যে খুব চাপে আছেন, গতকাল তাকে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করতে দেখেই সেটা বোঝা যায়। বাংলাদেশ দল ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছে রোববার, একদিন বিশ্রাম নিয়েই ইনডোর নেটে বোলিং মেশিনে ব্যাটিং অনুশীলন করেন তামিম। যে কাজ এতদিন মুশফিক করতেন, তামিমকে সেই একই কাজ করতে দেখে তার চেনাজানা মানুষের বিস্ময়ের ঘোর কাটতেই চাচ্ছিল না। তবে কি চাপ তামিমের মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকেও এলোমেলো করে দেয়!