চাপমুক্ত থাকবে অসিরা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক

ম্যাচটা যখন ফাইনাল থেকে একহাত দূরত্বে, তখন বুকের ধড়ফড়ানি আপনা-আপনিই বাড়তে থাকে। তবে সেটাতে কিছুতেই চাপ হিসেবে নেওয়া যাবে না। বরং নির্ভার ক্রিকেট খেলতে হবে। আজকের বিগ সেমিফাইনালের আগে ছাত্রদের এমন পরামর্শই দিয়ে রাখলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে তার ভাষ্য, 'অবশ্যই এমন ম্যাচে অতিরিক্ত চাপ ভর করে। এই চাপ কাটিয়ে যারা এগিয়ে যাবে, তারাই ভালো করবে। অতীতে যারা এ কাজটা পেরেছে তারা আজকের দিনের স্টার। আর সত্যিকারের স্টাররা পারে বড়মঞ্চেও চাপমুক্ত ক্রিকেট খেলতে। প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড, তখন একটু ভাবতেই হয়। তারা নাম্বার ওয়ান টিম। গত কয়েক বছর চমৎকার ক্রিকেট খেলছে। তাদের বিপক্ষে ভালো করা মোটেও সহজ হবে না।'

ইংল্যান্ডের বর্তমান স্কোয়াড খুবই শক্ত, যে দলে বেশ কয়েকজন দারুণ ক্রিকেটার রয়েছে। তাছাড়া কয়েক বছর ধরে তারা একত্রে পারফর্ম করে আসছে। সেজন্য নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াও চমৎকার। এমন একটা টিমকে টপকাতে সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে। সেইসঙ্গে অ্যাশেজের মতো চোখে চোখে রেখে লড়াইয়ের আভাস অসি কোচের, 'অবশ্য আমাদের আটকাতে তারা উঠেপড়ে লাগবে। সে অনুযায়ী গ্যামপ্ল্যানও থাকবে তাদের। ইংল্যান্ড দলে ট্যালেন্টেড কিছু ক্রিকেটার আছে। তারা কেন বেস্ট এরই মধ্যে সেটার প্রমাণ দিয়েছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমার মনে হয় দুর্দান্ত এক ম্যাচ অপেক্ষা করছে। আমাদের লক্ষ্য ভালো ক্রিকেট খেলা। এর আগেও অ্যাশেজে তাদের বিপক্ষে আমরা পারফর্ম করেছি। এই ম্যাচকেও তেমন একটা ম্যাচের মতো ভাবতে হবে।'

দুই দলই বিশ্বকাপের হট ফেভারিট। তবে শেষদিকে ইংল্যান্ড একটু নড়েচড়ে বসলেও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে আবারও আপন কক্ষে ফিরেছে। ফলে ম্যাচটা যে শেয়ানে শেয়ানে হবে, সেটা অনেকটাই অনুমেয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে চোটের কবলে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার শিবির। শন মার্শ ও উসমান খাজাকে তারা পাচ্ছে না আজ। যদিও এ দু'জনের বদলিও ঠিক করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। পিটার হ্যান্ডসকম্ব নামতে পারেন আজ। তবে ম্যাথু ওয়েড ডাক পেলেও ১১ জনের কাতারে ঢোকা তার জন্য কষ্টকর। কেননা স্টোইনিস পুরোপুরি ফিট। ল্যাঙ্গারও তেমন আভাস দিয়েছেন, 'হ্যান্ডসকম্ব এ ম্যাচে অবশ্যই খেলবে। আসলে সে ফেরার দাবিদার। তার দুর্ভাগ্য, সে একাদশে নিয়মিত খেলতে পারছে না। আর স্টোইনিসও ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করেছে। নেট সেশনে তাকে দেখে আমি আশাবাদী।'

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও এই ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তার আগে ওয়ার্মআপ ম্যাচেও জিতেছিল তারা। শেষ দুটি ম্যাচ থেকে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানিটা ভরপুর করে নিতেই পারে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে নিজেদের উঠোনে স্বাগতিক ইংল্যান্ড যদি আলো ছড়ায়, তাহলে হয়তো পিছু হটতে হবে ওয়ার্নার-স্মিথদেরও।