কোহলির ৪৫ মিনিটের আক্ষেপ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

সঞ্জয় সাহা পিয়াল, ম্যানচেস্টার থেকে

কোহলির ৪৫ মিনিটের আক্ষেপ

একপাশে ট্রেন্ট বোল্টের উচ্ছ্বাস, আরেকপাশে বিরাট কোহলির হতাশা। গতকাল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের এই দৃশ্যটা বড্ড কাঁদিয়েছে ভারত সমর্থকদের - এএফপি



২০ ওভার, ১৪৮ রান- মঙ্গলবার রাতে কাট-অফ টাইমের শেষ মুহূর্তে বৃষ্টি থামলে এই লক্ষ্যটা তাড়া করতে হতো ভারতকে। বৃষ্টি থামেনি বলে এর আর দরকার হয়নি। তবে গতকাল সেমিফাইনালের রিজার্ভ ডেতে আবারও তাদের সামনে সমীকরণটা দাঁড়াল ওই একই রকম। পার্থক্য বলতে, আগের রাতে এই রান তাড়া করতে হতো ১০ উইকেট হাতে রেখে। আর গতকাল এই সমীকরণ মেলানোর জন্য ভারতের হাতে উইকেট ছিল পাঁচটি। কঠিন সেই সমীকরণ মেলানোর স্বপ্নে ভারতের ভরসা হয়ে ছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা ও মহেন্দ্র সিং ধোনি। তবে শেষটা করতে পারেননি কেউই। টুর্নামেন্টে দারুণ ব্যাটিং করে আসা ভারতের টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটাতেই, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে। ২৩৯ রান তাড়ায় প্রথম ১০ ওভারেই দল উইকেট হারিয়েছে চারটি। শুরুর সেই কয়েক ওভারের ব্যাটিংটাই তাই হয়ে রয়েছে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির আক্ষেপ।

এবারের বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে রোহিত শর্মা যেন ছিলেন 'রানমেশিন'। সেমিফাইনালের আগে খেলা নিজের তিন ম্যাচের সবক'টিতেই পেয়েছিলেন সেঞ্চুরির দেখা। এবারের বিশ্বকাপে তার মোট সেঞ্চুরি পাঁচটি, এক বিশ্বকাপে যা কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড। প্রাথমিক পর্বে একটি সেঞ্চুরি না পেলেও ব্যাট হাতে ছন্দে ছিলেন কোহলি। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া সহজ লক্ষ্য তাড়ায় হয়তো আরেকটা বড় ইনিংস খেলার আশাই করছিলেন। নিজের আগের ম্যাচটাতে সেঞ্চুরি পাওয়া কেএল রাহুলের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গেই থাকার কথা। তিনজন হয়তো নিজেদের ইনিংসকে ভিন্নভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নিউজিল্যান্ডের দুই পেসার তাদেরকে মিলিয়ে দিলেন একই বিন্দুতে- সবাই আউট ১ রানে! রাহুল ও রোহিত আউট ম্যাট হেনরির বলে, আর ট্রেন্ট বোল্টের শিকার কোহলি। দীনেশ কার্তিক খানিকক্ষণ ব্যাট করলেন টেস্ট মেজাজে, অতঃপর ২৫ বলে ৬ রান করে তিনিও হেনরির শিকার। ১০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারতের রান ২৪। ওই ১০ ওভারের বিপর্যয়ে শেষ ৪০ ওভারের লড়াইও কাজে লাগেনি।

কোহলিকে পোড়াচ্ছে প্রথম দিকের ওই বাজে ব্যাটিংটাই। ম্যাচশেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'ম্যাচের প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলেছিলাম, তাড়া করার মতো একটা লক্ষ্য আমাদের সামনে ছিল। কিন্তু নিউজিল্যান্ড বোলাররা এরপর আমাদের কাছ থেকে ম্যাচ নিয়ে গেছে। উইকেটের সহায়তা পেয়েছে তারা, দারুণ সুইং পেয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের টপঅর্ডার ভালো খেলেছে। কিন্তু ৪৫ মিনিটের বাজে ব্যাটিং আমাদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিল। ক্রিকেটে অনেক ছোট ব্যবধানও বড় হয়ে যায়। জাদেজা আর ধোনির জুটিটা ভালো হচ্ছিল। কিন্তু আমার মনে হয়, ধোনির রান আউটটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। তবে নিউজিল্যান্ডকে কৃতিত্ব দিতে হবে, তারা যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে।'

নিজের দলের বোলারদের পাশাপাশি ফিল্ডারদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। জানালেন, জাদেজা-ধোনির ১১৬ রানের জুটির সময়টাতেও বিশ্বাস রেখেছিলেন দলের সবাই। ভারতকে চাপে ফেলার একটা সুযোগ থাকবে বলে আমরা ধারণা করেছিলাম। আমরা কেবল ঠিক জায়গায় বল করার পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলাম এবং দ্রুত কিছু উইকেট চাইছিলাম। বোলাররা দারুণ শুরু এনে দিয়েছে। ধোনি এবং জাদেজার জুটিতে ভারত একটা সময় জয়ের পথে ছিল। তবে এরপর আমাদের ফিল্ডাররাও দারুণ প্রচেষ্টা দেখিয়েছে, প্রতিটি রান ঠেকাতে চেয়েছে তারা। দুই দিন ধরে দুই দলই অসাধারণ লড়াই করেছে। আমার মনে হয় এটা দারুণ একটা খেলা ছিল। খুব ভালো লাগছে যে, খেলাটায় আমরা জিতেছি।'