ওকস-আর্চারে বাজিমাত

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

সঞ্জয় সাহা পিয়াল, বার্মিংহাম থেকে

জোফরা আর্চার টুইটারে খুবই সরব। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগের রাতেও অনুশীলনের বোলিং অ্যাকশনের ছবি শেয়ার করেছেন। নিয়মিত টুইট করতে দেখা গেছে তাকে বিশ্বকাপের অন্যসব ম্যাচের আগে-পরেও। তবে সপ্তায় সপ্তায় জমা হওয়া টুইটের ভিড়ে গতকাল আলোচিত হয়ে উঠল আর্চারের ছয় বছর পুরনো এক টুইট। ২০১৩ সালের ৫ মার্চ, যে কালে তিনি ইংল্যান্ডের ছিলেন না, ছিলেন ক্যারিবীয় উঠতি ক্রিকেটার, সেই সময়ে করা টুইটটি ছিল এরকম- 'সব ব্যাটসম্যানকে বলছি, হেলমেট দুটি কিনে রেখো। আমার সঙ্গে দেখা হলে কাজে লাগবে।' ২৪ বছর বয়সী পেসার টুইটারের সেই হুঙ্কারকে সত্যি বানিয়ে ছাড়লেন গতকাল। তার একটি নব্বই মাইল গতির ডেলিভারি কেবল অ্যালেক্স ক্যারির চোয়ালেই আঘাত হানেনি, গতির তীব্রতায় হেলমেটও খুলে পড়ে যায়। পরে রক্তও বের হতে থাকে অসি উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের। তবে আর্চার নন, এজবাস্টনের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার আরও ফাইনাল-স্বপ্নের গায়ে বড় আঘাতটাই করেছেন ক্রিস ওকস। শুরুতেই ফিরিয়ে দিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার আর পিটার হ্যান্ডসকম্বকে। অপর পাশ থেকে আর্চারের বলে অ্যারন ফিঞ্চও ফিরে যাওয়ায় মাত্র ১৪ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল হারার পর অসি অধিনায়ক মূল ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন শুরুর ওই আঘাতকেই। আর ২৭ বছর পর ইংল্যান্ড ফাইনালে ওঠার আনন্দঘন মুহূর্তে ইয়ন মরগানও কৃতিত্ব দিলেন ওই গতির ঝোড়ো শুরুকেই।

শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলা অস্ট্রেলিয়া প্রথম পাওয়ার প্লেতে নেয় মাত্র ২৭ রান। পরে স্টিভেন স্মিথের ৮৫ আর ক্যারির ৪৬ রানের দুটি ইনিংসে ভর করে ২২৩ রান তুললেও লড়াইয়ের জন্য তা যথেষ্ট পুঁজি ছিল না। মিচেল স্টার্ক-প্যাট কামিন্সদের পাল্টা গতিতে যেটুকু লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল, সেটিও উদ্বোধনী জুটিতে ১২৪ রান তুলে শেষ করে দেন জনি বেয়ারস্টো আর জেসন রয়। এ দুজন আউট হওয়ার পর অবিচ্ছিন্ন ৭৯ রানের তৃতীয় উইকেট জুটিতে বাকি কাজটা সারেন জো রুট-ইয়ন মরগান। ১০৭ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারার পর আক্ষেপের কোনো সুযোগ ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। ফিঞ্চ তা করেনওনি। ম্যাচশেষে অকপট ভাষায় বললেন, 'আমরা আজ স্রেফ ধসে গিয়েছি। বোলিংয়ে শুরুতেই তিন উইকেট নিয়ে আর প্রথম দশ ওভারে মাত্র ২৭ রানের সুযোগ দিয়ে ইংল্যান্ড যে চাপটা তৈরি করে ফেলেছিল, সেটিই ম্যাচের ফলে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমাদের জন্য ওখান থেকে ফিরে আসা খুবই কঠিন ছিল। নতুন বলে স্টাম্প টার্গেট করে দারুণ লেন্থে প্রতিপক্ষ যেভাবে বোলিং করেছে, তা করতে পারলে আমরাও খুশি হতাম।' অস্ট্রেলিয়ার খুশি কেড়ে নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠার উপলক্ষ আপাতত ইংল্যান্ডের। চতুর্থবারের মতো ফাইনালে উঠলেও ১৯৯২-এর পর যা এই প্রথম। অধরা ট্রফি এবার হাতে নেওয়ার দারুণ সুযোগ কাজে লাগাতে চান ইয়ন মরগান, '৯২-এর বিশ্বকাপের সময় আমার বয়স ছিল ৬ বছর। ওই সময় তো দেখার সুযোগ হয়নি, পরে অনেকবার হাইলাইটস দেখেছি। এখন রোববার (১৪ জুলাই) আমাদের সামনে সুযোগ হয়ে এসেছে। ২০১৫ বিশ্বকাপের দিকে তাকালে (গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া) মনে হয় নাটকীয় উন্নতি করেছি আমরা। সবাই এখন অধীর আগ্রহে ফাইনালের অপেক্ষায় আছে।' সুযোগটি এনে দেওয়ার জন্য ইংলিশ অধিনায়ক কৃতিত্ব দিলেন দুই পেসার ওকস এবং আর্চারকে, 'লীগ পর্বের শেষ দুটি ম্যাচও আমাদের সেমিফাইনালের মতো করে খেলতে হয়েছে। এ ম্যাচে চেয়েছিলাম প্রথম বল থেকে যেন নিয়ন্ত্রণ নিতে পারি। ওকসকে নিয়ে আমি দারুণ খুশি। কয়েক বছর ধরে সে আমাদের অন্যতম সেরা বোলার। আর জোফরাসহ মিলে যা করেছে, তা সম্ভবত গত চার বছরের সেরা বোলিং। ওখানেই আমরা ছন্দ পেয়ে গিয়েছিলাম।'