সুপার হিউম্যান স্টোকস

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

স্পোর্টস ডেস্ক

সুপার হিউম্যান স্টোকস

বেন স্টোকসের হাতে ম্যান অব দ্য ফাইনালের পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন শচীন টেন্ডুলকার- আইসিসি

২০১৬ টু ২০১৯। বেন স্টোকসের জন্য বড্ড স্মৃতিময়। এই দুই বছর হয়তো অনেক দিন মনে রাখবেন তিনি। অবশ্য একটা তিক্ততার জন্য, আরেকটা ইতিহাসের জন্য। টানা চার বলে চার ছক্কা খাওয়ার হতাশায় মাঠে বসে পড়া আর দলকে জেতানোর আনন্দে আত্মহারা হয়ে লর্ডসের উইকেটে শুয়ে পড়া। দুই দৃশ্যের মাঝে অজস্র হাসি-কান্না লুকিয়ে। সেজন্যই স্টোকসের জন্য এবারের বিশ্বকাপটা ছিল অনেক দায় মেটানোর। তার ওপর ব্রিস্টলে মারামারি করে কাঠগড়ায় ওঠার ঘটনা তো ছিলই। সব মিলিয়ে দেশকে সর্বোচ্চটা দেওয়ার একটা প্রত্যয় ছিল স্টোকসের মাথায়। ফাইনালের আগেও বলেছিলেন সেই কথা। শেষমেশ শিরোপামঞ্চে ব্যাট হাতে যেন সব দায় শোধ করলেন স্টোকস। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দলকে টেনে নিয়ে যান গন্তব্যের কাছে। খেলেন ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস। এরপর সুপার ওভারেও ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়ান তিনি। স্টোকসের এমন দাপুটে ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়ে দলনেতা ইয়ন মরগানও তাকে সুপার হিউম্যান বলে আখ্যা দিয়েছেন, 'যত কিছু পেরিয়ে সে এখানে এসেছে, অবাক করার মতো। সে আসলেই সুপার হিউম্যান। দলকে বয়ে নিয়েছে। আমাদের ব্যাটিং লাইনআপ বয়ে নিয়েছে। এটা অসাধারণ ছিল। বাটলারের সঙ্গে তার জুটিও চমৎকার হয়। তার চেয়ে বড় দিক হলো, লোয়ার অর্ডার নিয়ে খেলা। সে যেভাবে লোয়ার অর্ডার নিয়ে ব্যাটিং করেছে সত্যিই প্রশংসনীয়।'

কেবল ফাইনাল নয়, পুরো টুর্নামেন্টেই স্টোকস ছিলেন উজ্জ্বল। ৬৬.৪২ গড়ে ৪৬৫ রান করেছেন তিনি। পাশাপাশি উইকেট শিকার করেছেন সাতটি। আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও তার রেকর্ড ইতিবাচক। বলা যায়, প্রিয় প্রতিপক্ষের একটি। এখন পর্যন্ত ১৩টি ওয়ানডে ম্যাচ থেকে ৪২৬ রান ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। উইকেট শিকার করেছেন ১৬টি। অথচ এই নিউজিল্যান্ডই তার জন্মভূমি। বিশ্বকাপের মহারণে তাদের হারিয়ে ইংল্যান্ডকে উপহার দিলেন প্রথম শিরোপা। এতকিছুর পরও সেই ঘুরেফিরে ২০১৬। কলকাতায় টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালের শেষ ওভারে তার হাতে বল তুলে দেন ইংলিশ অধিনায়ক। জিততে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন তখন ১৯ রান। কিন্তু টানা চার বলে ছক্কা হজম করে ম্যাচটা যেন ক্যারিবীয়দের হাতে সঁপে দেন স্টোকস। সেই দুঃস্মৃতি নিয়ে মরগানের ভাষ্য, 'স্টোকসকে আমি এ ব্যাপারে আগেও বলেছি। এমন কিছু হলে ক্যারিয়ারে শেষ হয়ে যাওয়া শঙ্কা থাকে। কিন্তু এরপর আমি তাকে ভিন্ন রূপে পেয়েছি। এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে সে আমাদের অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে। এই দিনটা তার ছিল। আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।'