নারী ক্রিকেটে এবার দ. আফ্রিকা চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে আজ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে নারী এমার্জিং দল। সামনে থাকা ব্যস্ত সূচির কথা মাথায় রেখে এই সফরে উঠতি ক্রিকেটারদের ঝালিয়ে নেওয়াটাই লক্ষ্য বলে জানালেন দলের কোচ আঞ্জু জৈন। রাজশাহীতে করা তিন সপ্তাহের ক্যাম্পে এরই মধ্যে কোচের নজর কেড়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। সফরে ভালো করার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ভারতীয় এই কোচ। তবে গতকাল বিসিবি কার্যালয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানান, আরও বেশি ক্রিকেটার তুলে আনতে এবং ধারাবাহিক ভালো ফল আনতে উন্নতির সুযোগ রয়েছে বেশ কিছু জায়গায়।

সফরে আগামী ২৩, ২৫ ও ২৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকা নারী এমার্জিং দলের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ এমার্জিং দল। সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে প্রিটোরিয়ার গ্রোয়িনক্লুফ ওভালে। তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে যথাক্রমে আগামী ৩১ জুলাই, ১ ও ৪ আগস্ট। এই তিন ম্যাচ হবে হামান্সক্রালের ম্যান্ডেলা ওভাল স্টেডিয়ামে।

শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরি করতে এমার্জিং দলের বিদেশ সফর দারুণ সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন আঞ্জু। বলেন, 'এমার্জিং দল থেকেই মূলত আমরা শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরি করার রসদ পাব। সামনে 'এ' দলের বেশ কিছু সিরিজ আছে, নারী এশিয়া কাপ আছে। এই সিরিজগুলোর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ছাড়া বর্তমান দলের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কিছু বিকল্পও তৈরি করে রাখতে হবে। সেদিক থেকে চিন্তা করলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।'

কিছুদিন আগেই উঠতি নারী ক্রিকেটারদের নিয়ে রাজশাহীতে হয়েছে তিন দিনের ক্যাম্প। সেই ক্যাম্প থেকে বেশকিছু প্রতিভাবান ক্রিকেটার পাওয়া গেছে জানিয়ে আঞ্জু বলেন, তাদের ঠিকভাবে গড়ে তোলাটাই হবে তার চ্যালেঞ্জ, 'যে ক্যাম্পটা আমরা করেছি, সেখান থেকে আমরা বেশ কিছু ভালো ক্রিকেটারের একটা তালিকা তৈরি করেছি। এরপর তাদের সঙ্গে আমরা আলাদাভাবে কাজ করেছি। কিছু মেয়ে খুব প্রতিভাবান, খুব ভালো ক্রিকেটার হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাদের। আশা করব, তারা বড় মঞ্চে পারফর্ম করে নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে।'

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর বসছে ২০২০ সালে। সেই টুর্নামেন্টের টিকিট খেলতে বাছাইপর্ব খেলতে হবে বাংলাদেশকে। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হতে যাওয়া সেই বাছাইপর্বকে সামনে রেখেই আপাতত পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন আঞ্জু। তবে একই সঙ্গে নজর দিচ্ছেন পাইপলাইনে আরও বেশি সংখ্যক ক্রিকেটারকে যুক্ত করা, বেশি বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি করা এবং বয়সভিত্তিক নারী ক্রিকেটকে সামনে আনার ব্যাপারেও। আর এখানেই এসে যাচ্ছে বোর্ডের আন্তরিকতার প্রসঙ্গ।

আঞ্জু জানালেন, নারী ক্রিকেটারদের নিয়ে আরও বেশি ম্যাচ আয়োজন করার ব্যাপারে এরই মধ্যে বোর্ডকে তারা অনুরোধ করেছেন, 'আমরা আরও অনেক ম্যাচ চাই। এমনকি আলাদা আলাদা ফরম্যাটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ম্যাচ চাই। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেই বা দোষ কী? বয়সভিত্তিক একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেখান থেকেই আপনি আপনার পাইপলাইনের শক্তির জায়গাটা গড়ে তুলতে পারবেন। এটা একটা প্রক্রিয়া- বয়সভিত্তিক দল, সেখান থেকে আরও উঁচু পর্যায়ের দল এবং এরপর জাতীয় দল। ঘরোয়া ক্রিকেটে কেবল একটা ফরম্যাট খেললে হবে না। টি-টোয়েন্টি এবং লঙ্গার ফরম্যাটের ম্যাচও খেলতে হবে। আমরা বিসিবিকে অনুরোধ করেছি, নারী ক্রিকেটারদের ঘরোয়া ম্যাচের সংখ্যা আরও বাড়াতে। আর লঙ্গার ফরম্যাট নিয়ে বিসিবি কাজ শুরু করেছে।'