শ্রীলংকা সফর

'ফেভারিট বাংলাদেশ'

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ শিবিরে যে স্বপ্নের দামামা বেজেছে, টুর্নামেন্ট শেষে এসে তা স্বপ্নই থেকে গেছে। মোসাদ্দেক হোসেনরা এখন যেটাকে বলছেন, বিশ্বকাপে মোটামুটি একটা পারফরম্যান্স করেছেন তারা। টেবিলের আট নম্বরে শেষ করা দলের খেলোয়াড়রা এরচেয়ে বেশি কিছু বললে ভালোও দেখায় না। এই পরিমিত বোধ থাকলেও শ্রীলংকা সফর নিয়ে ক্রিকেটারদের উচ্চাশা যেন একটু বেশিই মনে হচ্ছে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত তো গতকাল নিজেদের ফেভারিটই দাবি করলেন, 'বোলিং ও ব্যাটিং বিভাগে আমরা অনেক ভালো অবস্থানে আছি। আর অভিজ্ঞতার দিক থেকেও আমরা বেশ ভালো অবস্থানে। আমার মতে, এদিক থেকে আমরা অনেক এগিয়ে।'

বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেও বিশ্বকাপ শেষ করেছে পয়েন্ট টেবিলে শ্রীলংকার পেছনে থেকে। সিংহলিরাও বিশ্বকাপে ম্যাচ জিতেছে তিনটি। ইংল্যান্ডের মতো চ্যাম্পিয়ন দলকে হারিয়েছে তারা। লীগ রাউন্ডের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ভালোভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছে তারা। সেই সিংহলিদের বিপক্ষে সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই খেলতে হবে টাইগারদের। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসকেও পাওয়া যাবে না। এর পরও কলম্বোর তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে নিজেদের এগিয়ে রাখছেন মোসাদ্দেক, 'সাকিব ভাই নেই, লিটনও নেই দলে। তাদের জায়গায় যারা বদলি হিসেবে এসেছেন আপনি হিসেব করে দেখেন, তারাও কিন্তু পারফরমার। তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। বিজয় এখন খুব ভালো ব্যাটিং করছে। 'এ' দলের হয়ে একটা সেঞ্চুরি করেছে। তাইজুল ভাই প্রতিদিনই উইকেট নিচ্ছেন। আমি মনে করি, দল হিসেবে আমরা বেশ ভারসাম্য।'

সাকিব না থাকায় শ্রীলংকা সফরে মোসাদ্দেকের দায়িত্বটাও বেড়ে গেছে। অলরাউন্ডার ভূমিকায় তার কাছ থেকে বিশ্বকাপের চেয়েও ভালো পারফরম্যান্স আশা করবে দল। সে দাবি মেটাতে নিজেকে ভালোভাবেই প্রস্তুত করছেন ময়মনসিংহের এ ক্রিকেটার, 'সাকিব ভাই থাকবেন না। তাই বোলিং ডিপার্টমেন্টে হয়তো একটু বেশি সুযোগ আসতে পারে। শুরুর দিকে বোলিংয়ে আসতে হতে পারে। অথবা একটু বেশি ওভার করার সুযোগ আসতে পারে। আমি অবশ্যই সেটি নিয়ে প্রস্তুত। বেশি ওভার বোলিং করতে হলে করব, সেটি নিয়ে একটি প্ল্যান অবশ্যই মাথায় আছে।'

মোসাদ্দেক হোসেন পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার কোনোদিনই ছিলেন না। সে দাবি করেনও না তিনি; বরং নিজেকে কীভাবে অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, সে চেষ্টাই করছেন এ ক্রিকেটার। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ব্যাটিং-বোলিংয়ে মোটামুটি একটা পারফরম্যান্স করতে পারায় অলরাউন্ডার হয়ে ওঠার প্রচেষ্টায় একটা দীপ্ত পদক্ষেপও ফেলতে পেরেছেন। এক্ষেত্রে ভাগ্যের ছোঁয়াও পেয়েছেন খানিকটা। কাঁধের চোট থাকায় মাহমুদুল্লাহ বোলিং করতে পারেননি। যে কারণে মোসাদ্দেকের স্পিন বোলিংটা কাজে লাগায় টিম ম্যানেজমেন্ট। শ্রীলংকা সফরেও বোলিং করতে পারবেন না মাহমুদুল্লাহ। বোলিং করতে পারার সুবিধা এক্ষেত্রেও তাকে এগিয়ে রাখবে ম্যাচ খেলার ক্ষেত্রে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সেটা স্বীকারও করলেন ডানহাতি উদীয়মান এ অলরাউন্ডার, 'রিয়াদ ভাই না থাকায় বোলিং করার বাড়তি সুযোগ পাচ্ছি এভাবে চিন্তা করিনি। এদিক থেকে চিন্তা করলে অবশ্যই আমি এগিয়ে থাকব অলরাউন্ডারের দিক থেকে।'

বিশ্বকাপে মোসাদ্দেকের ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ১০৬.৩৬। আর বোলিং ইকোনমি ৫.৯৭। এই পারফরম্যান্সে মোসাদ্দেককে একজন উঁচু মাপের অলরাউন্ডারের স্বীকৃতি হয়তো দেবে না, তবে দলে জায়গা ধরে রাখতে সাহায্য করবে, 'আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা শুরু করার পর থেকেই প্রায় প্রতি ম্যাচেই বল হাতে অবদান রাখতে হয় দলের জন্য। যখন রিয়াদ ভাই বোলিং করতেন তখনও আমি ৫-৬ ওভার বোলিং করেছি।'

বোলিংটা ভালো হলেও মোসাদ্দেক নিজেকে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবেই পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। যদিও বিশ্বকাপে তার ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলার রোলটাই বেশি কার্যকর ছিল। দলও তার স্পিন বোলিংকে ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে কাজে লাগিয়েছে। তবে প্রয়োজনের সময়ে বিস্ম্ফোরক ব্যাটিংও ভালো করেন তিনি। আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে ১৫০ স্ট্রাইক রেটে রেখে রান তুলেছেন। প্রয়োজন হলে লংকায়ও জ্বলে উঠবে তার ব্যাট।