শেষেও ভরসা সাকিবে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শেষ ম্যাচে আজ দলের পাওয়ার আছে সামান্যই। বিদায়যাত্রার দিনক্ষণ যেহেতু চূড়ান্ত, অবস্থানের শেষ মুহূর্ত তাই একটি জয় বাড়ানোর চেয়ে বেশি কিছু অর্জনের নেই। ব্যক্তি সাকিব আল হাসানেরও কি আর বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ থেকে খুব বেশি কিছু পাওয়ার আছে? 'ভালো খেলতে আসিনি, জিততে এসেছি' মন্ত্র ধারণ করে যিনি গত এক মাসের পথচলাকে 'হতাশাজনক' বলে অভিহিত করেন, তার কাছে টুর্নামেন্ট বিচারে মূল্যহীন হয়ে পড়া ম্যাচের বাড়তি আবেদনই বা এমন কী আছে?

একটি জায়গায় সাকিবকে এখনও হিসাবে ধরছেন সবাই। ম্যাচের পর ম্যাচ দলকে টেনে তোলার কাজ করতে করতে যিনি নিজেকে উঠিয়ে নিয়েছেন অন্য উচ্চতায়, গড়েছেন একের পর এক বিশ্ব ও বিশ্বকাপ রেকর্ড- তার সময় এখন টুর্নামেন্টসেরা স্বীকৃতি আদায়ের। ব্যাট হাতে এরই মধ্যে ৫৪২ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, এক নম্বরে থাকা রোহিত শর্মার চেয়ে যা মাত্র ২ কম। আর বাঁহাতি স্পিনে ৭ ম্যাচে উইকেট ১১টি, শিকারির তালিকায় ১৪তম। ৫ উইকেট পেয়েছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে, টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন ইংল্যান্ড ও উইন্ডিজের বিপক্ষে। গড়েছেন বিশ্বকাপের এক আসরে ৫০০ রান ও ১০ উইকেট নেওয়ার প্রথম কীর্তি, ম্যাচে ফিফটি ও ৫ উইকেটে গড়েছেন দ্বিতীয় নজির। বিশ্বকাপের রেকর্ডে নাম লেখানোর পথে বাংলাদেশের সেরার কীর্তি তো হয়েছেই। অবস্থা এখন এমন যে, টুর্নামেন্টের লীগ পর্ব শেষের আগেই সাকিবকে বেস্ট প্লেয়ারের স্বীকৃতি দিয়ে দিচ্ছেন অনেকে। ব্যাটে-বলে এমন পারফরম্যান্সের কাছাকাছিও যে আর কারও নেই। তবে টুর্নামেন্টসেরা হওয়ার পথে সাকিবের বড় বাধা দলের সেমিতে ওঠার ব্যর্থতা। বাংলাদেশ দল যদি শেষ চারে উঠতে পারত, সাকিবের সাফল্যও নিশ্চিতভাবে বাড়ত। আর এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপেই সেমিতে না ওঠা দলের কেউ টুর্নামেন্টসেরা হননি। বিশ্বকাপে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে ১৯৯২ আসর থেকে। তখন থেকে হওয়া বিগত সাত বিশ্বকাপের পাঁচটিতেই সেরা হয়েছেন ফাইনালে ওঠা দলের খেলোয়াড়, চারবারই চ্যাম্পিয়ন দল থেকে। ১৯৯২-তে নিউজিল্যান্ডের মার্টিন ক্রো (৪৫৬ রান) এবং ১৯৯৯-এ দক্ষিণ আফ্রিকার ল্যান্স ক্লুজনার (২৮১ রান ও ১৭ উইকেট) টুর্নামেন্টসেরা হয়েছিলেন সেমিফাইনালিস্ট দল থেকে। অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপসেরা হয়েছেন এখন পর্যন্ত তিনজন। '৯৯-তে ক্লুজনার, ১৯৯৬-তে শ্রীলংকার সনাথ জয়সুরিয়া (২২১ রান ও ৭ উইকেট) এবং ২০১১ সালে ভারতের যুবরাজ সিং (৩৬২ রান ও ১৫ উইকেট)। উইকেট বিচারে সাকিব এখনও যুবরাজের চেয়ে ৪ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও রানে এগিয়ে আছেন অনেক বেশি। এবারের আসরে রান-উইকেটের দিক থেকে সাকিবের পর দ্বিতীয় সফল ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস। লীগ পর্বের পুরো ৯ ম্যাচ খেলে রান তার ৩৮১, উইকেট ৭টি। বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়া শ্রীলংকা ম্যাচ আর আজকের পাকিস্তান ম্যাচ বাদেই স্টোকসের চেয়ে ১৬১ রান ও ৪ উইকেটে এগিয়ে সাকিব। পাকিস্তানের বিপক্ষেও তার রেকর্ড বরাবরই ভালো। স্বপ্নের মতো এক বিশ্বকাপ কাটানোর পরও ক্যারিয়ার গড় যেখানে ৩৭.৭০, সেখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫ ইনিংসে গড় ৪০.৭৫, রান ৪৮৯। আছে একটি সেঞ্চুরি এবং তিনটি ফিফটি। এ ছাড়া বল হাতে আছে ৩০.৬২ রান গড়ে ২১ উইকেট। সাফল্যের সেই ধারা এবং বিশ্বকাপ ফর্ম ধরে রাখলে আজ লর্ডসেও দেখা যেতে পারে দারুণ কিছু। ২০১৯ বিশ্বকাপের শেষটুকু রাঙাতে চাওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন সাকিব নিজেও, 'যেভাবে খেলে এসেছি, সেভাবেই শেষ করতে চাই। তাহলে অন্তত ব্যক্তিগত দিক থেকে হলেও কিছুটা ভালো লাগবে। তবে সব সময়ই যদি দলের জয়ে কিছু করতে পারি, সেটিই বেশি স্বস্তি দেয়।' দলের স্বস্তিময় এক শেষের ক্ষণে সাকিবেরও সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় টাইগার সমর্থকরা।