টেনশনের ৫৯ মিনিট ও তিনটি ভুল

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ক্রীড়া প্রতিবেদক

তুমুল বৃষ্টিতে সকালের সেশন ভেস্তে যায়। দুপুরে খেলা শুরু হলেও মাত্র ১৩ বল খেলা হওয়ার পর আবার নামে বৃষ্টি। অবশেষে বিকেলে ৪টা ২০ মিনিটে শুরু হয় খেলা। ৭০ মিনিট খেলা হবে, সম্ভাব্য ওভার ১৮.৩। এই সময়টা টিকে থাকতে পারলেই ড্র। অবিশ্বাস্যভাবে সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি সাকিব-সৌম্যরা। ৫৯ মিনিটেই বাংলাদেশের অবশিষ্ট চার উইকেট তুলে নিয়ে ঐতিহাসিক এক জয় পায় আফগানরা। তখনও দিনের খেলা সাড়ে তিন ওভারের মতো বাকি। শেষ বিকেলের ওই ৫৫ মিনিট খেলতেই তিনটি বড় ভুল করে বসে বাংলাদেশ। যা তাদের লজ্জাজনক এক পরাজয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

১. সাকিবের কাট

আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে দেড়শ' রানের ইনিংস খেলে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। সেই তিনিই কি-না গতকাল শেষ বিকেলে খেলা শুরুর প্রথম বলেই উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসলেন! জহির খানের সেই ডেলিভারিটি ছিল অফস্টাম্পের অনেক বাইরে। ম্যাচ বাঁচাতে নেমে তিনি কি-না এই বল তাড়া করলেন! তার শট দেখলে মনে হতে পারে বাংলাদেশ হয়তোবা শেষ ওভার ব্যাটিং করছে, যেখানে তাদের ছয় বলে দশ রান প্রয়োজন। বাস্তবটা মনে হয় ভুলে গিয়েছিলেন সাকিব। অথচ তিনি অধিনায়ক, তার ওপর গুরুদায়িত্ব। রশিদ-নবীদের স্পিন রুখতে তিনিই ছিলেন প্রধান ভরসা। তার এ দায়িত্বজ্ঞানহীন শটের প্রভাব পরের ব্যাটসম্যানদের ওপরও ভালোমতোই পড়েছে।

২. মিরাজের রিভিউ

সাকিব আউট হলেও সৌম্যর সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ যোগ দিয়ে ৮.৫ ওভার কাটিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের ব্যাটে ম্যাচ বাঁচানোর আশা জেগে উঠেছিল। কিন্তু রশিদ খানের একটি গুগলি বুঝতে না পেরে এলবি হয়ে যান মিরাজ। অবাক ব্যাপার হলো, একেবারে মিডল স্টাম্পের বল তার পায়ে আঘাত হানলেও রিভিউ চেয়ে বসেন তিনি। এর খেসারত দিতে হয়েছে তাইজুলকে। মিরাজ শেষ রিভিউটি ব্যবহার করে ফেলায় রশিদ খানের বল তাইজুলের ব্যাটে লাগার পরও আম্পায়ারের এলবি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা যায়নি।

৩. সৌম্যর স্ট্রাইক রোটেট

খেলা তখনও পাঁচ ওভার বাকি। কিন্তু ওভারের দ্বিতীয় বলেই সিঙ্গেলস নিয়ে শেষ ব্যাটসম্যান নাঈম হাসানকে আফগান স্পিনের সামনে ঠেলে দেন সৌম্য সরকার। অবশ্য রানটি নেওয়ার সময়ই সৌম্যর মাথায় হাত দেওয়া দেখে বোঝা গিয়েছিল ভুলটা বুঝতে পেরেছেন তিনি। তবে মিরাজ উইকেটে থাকার সময় থেকেই সিঙ্গেল নিতে দেখা গেছে সৌম্যকে। অথচ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশি বল তার মোকাবেলা করার কথা ছিল।