গল্পটা ৪০ বছর আগের। ১৯৭৯ সালে ঢাকার মাঠে আফগানিস্তানকে নাস্তানুবাদ করে ৪-১ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ের গল্পটি এখনও বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বড় সুখস্মৃতি। আফগানদের বিপক্ষে ওই জয়েই বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছিল ১৯৮০ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে। এরপর এশিয়ান কাপের পরবর্তী ১০টি আসরে শুধুই বাছাইপর্বের গণ্ডিতে বন্দি ছিল লাল-সবুজের দলটি। তিন যুগেরও বেশি সময় হতাশার বৃত্তে আটকা বাংলাদেশের ফুটবলে আবারও নতুন গল্প লেখার হাতছানি। তারুণ্যের জয়গান গাওয়া জেমি ডের দল এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের! সেই স্বপ্নপূরণের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের মিশনে নামছেন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় তাজিকিস্তানের মাটিতে জামাল ভূঁইয়ারা মুখোমুখি হচ্ছেন এমন এক দেশের, যে দেশ গতকাল ক্রিকেটে বিদীর্ণ করেছে বাংলাদেশের বুক, চট্টগ্রাম টেস্টে হারিয়ে দিয়েছে সাকিব আল হাসানদের। দুশানবের রিপাবলিকান সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে ফুটবলারদের পরীক্ষাটা বড় হয়ে যাচ্ছে আরও একটি কারণে- ক্রিকেটে আন্ডারডগ অবস্থায় থাকলেও ফুটবলে ফেভারিট আফগানরাই।

বাংলাদেশের প্রতিকূলে আছে আরও অনেক দিক। দুশানবের এই মাঠে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে ১৫ গোল হজম করেছিলেন মামুনুলরা। আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশ তাজিকিস্তান। আবহাওয়া, প্রকৃতিও কাছাকাছি। সবকিছু মিলিয়ে হোমগ্রাউন্ডে খেলার সব সুবিধাই পাচ্ছেন আফগানরা। এর সঙ্গে দু'দলের সাম্প্রতিক লড়াইয়েও এগিয়ে রাখছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর কেরালায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এই আফগানদের কাছে ৪-০ গোলে উড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এসব পরিসংখ্যানের সঙ্গে র‌্যাংকিংয়েও বিস্তর তফাত; বাংলাদেশ ১৮২, আফগানিস্তান ১৪৯। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে সমতা। ছয়বারের সাক্ষাতে দু'দল জিতেছে একটি করে ম্যাচ, বাকি চারটি হয়েছে অমীমাংসিত।

পরিসংখ্যান আর সাম্প্রতিক ফর্ম বলছে ফেভারিট আফগানিস্তান। কিন্তু আনুশ দস্তগীরের দলের স্বস্তির সঙ্গে অস্বস্তি হলো, কাতারের কাছে প্রথম ম্যাচে ৬-০ গোলে হার। এটাই আবার বাংলাদেশের জন্য বড় প্রেরণা। অবশ্য কোচ জেমি এই ম্যাচকে মাথায়ই রাখতে চাইছেন না। তার কথা, শ্রেয়তর দল হিসেবেই কাতার ম্যাচটি জিতেছি। বাংলাদেশের বিপক্ষে অন্য আফগানিস্তানকে দেখা যাবে। এখানেই যে ভয় জেমির, 'কাতারের বিপক্ষে তারা (আফগানিস্তান) জয়ের আশা করেনি। তাই আমি মনে করি না যে, এই হারে আফগানদের আত্মবিশ্বাস কমে গেছে। তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক হয়ে খেলবে বলে মনে করি।' এর সঙ্গে উচ্চতাও বড় ফ্যাক্টর। আফগানিস্তানের অনেক ফুটবলার ইউরোপের বিভিন্ন লীগে খেলেন, উচ্চতায়ও তারা এগিয়ে। এসব বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন জেমি, 'আফগানিস্তানের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, যারা ইউরোপের বিভিন্ন লীগে খেলেন। এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ জিতে আমরা যদি জিততে কিংবা ড্র করতে পারি, তাহলে সেটা হবে আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন।'

জিততে হলে করতে হবে গোল। সেই গোল করার লোকই যে নেই বাংলাদেশের! কম্বোডিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ, লাওসের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম রাউন্ডেও বাংলাদেশের হয়ে গোল করেছিলেন মিডফিল্ডার রবিউল হাসান। তাজিকিস্তানে সিএসকেএ পামিরের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচেও গোল আসে রবিউলের পা থেকে। যারা গোল করবেন, সেই ফরোয়ার্ডরাই নিজেদের প্রমাণ করতে পারছেন না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সুযোগ তৈরি করতে না পারার দুশ্চিন্তা। যেটা বারবার বলে আসছেন বাংলাদেশ কোচ, 'আপনি যদি গোল করতে চান, তাহলে সুযোগ তৈরি করতেই হবে। বারবার সুযোগ তৈরি করবেন, একবার ঠিকই লেগে যাবে।' দু'দলের মধ্যে ফিরতি লেগটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায়। বাছাইয়ে গ্রুপ 'ই'তে বাংলাদেশের বাকি প্রতিপক্ষ ভারত, ওমান ও বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার।

মন্তব্য করুন