এই টেস্টের মার্কিং করলেন সাকিব

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

এই টেস্টের মার্কিং করলেন সাকিব

রশিদ খানের ঝলক দেখানো বলটা একবার ছুঁয়ে দেখলেন সাকিবও- মো. রাশেদ

নিজেও পারলেন না দারুণ কিছু করতে। আস্থা ছিল সতীর্থদের ওপর। তারাও ব্যর্থ ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে চোখেমুখে রাজ্যের হতাশা নিয়ে সব দায় স্বীকার করলেন সাকিব। নিজেদের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা মেনে নিয়ে দলকে মার্কিং করলেন। যেখানে ১০০-তে শূন্য দিলেন বাংলাদেশকে। আফগানিস্তানকে দিলেন 'এ' প্লাস।

এই টেস্টের মার্কিং কত?
সাকিব :জিরো

শেষবেলায় এক ঘণ্টাও টিকে থাকা গেল না। কতটা কষ্টকর?

সাকিব :মেনে নেওয়া অবশ্যই কষ্টকর। খুবই হতাশাজনক ব্যাপার। যেহেতু চার উইকেট ছিল, এক ঘণ্টা ১০ মিনিট খেলতে হতো। আমি আমারটা বলতে পারি, বাকিদেরটা বলা কঠিন। আমি যেহেতু প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছি। সেজন্য কাজটা টিমের জন্য আরও কঠিন হয়ে গেছে। তাই আমার ওপরই দায় পড়ে। প্রথম বলেই কাট শটটা না মারলেও হতো, না মারলেও হতো মানে না মারার মতোই ছিল। আমি শটটা খেলে ফেলেছি এবং টিম অনেকটা চাপে পড়ে গেছে। যদি নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারতাম তাহলে ড্র করার সম্ভাবনা ছিল।

ঠিক কোন মাইন্ডসেট নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন?

সাকিব :যেহেতু এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের জন্য নেমেছি, নার্ভাসনেসটা তাই অনেক বেশি কাজ করছিল। দুপুরবেলা যখন (পঞ্চম দিনে প্রথমবার) ব্যাটিংয়ে নেমেছি, তখন এতটা কাজ করেনি। স্বাভাবিকভাবে আমি চাচ্ছিলাম যে প্রথম বলটা একটু ভালোভাবে মোকাবেলা করি। কিন্তু প্রথম বলে আউট হয়ে গেছি। আমারই ভুল।

এভাবে হারাটা কীভাবে দেখছেন?

সাকিব :খুবই খারাপ, খুবই খারাপ। খারাপের নিচে কোনো শব্দ থাকলে সেটিও বলতে পারেন। নেতিবাচক কথা যত কিছু আছে সবই বলে দিতে পারেন। আর আফগানিস্তান নিয়ে আমি বলব যে, আমরা আসলে কখনও ওদের চাপেই ফেলতে পারিনি। স্বাভাবিকভাবে ওরা লেটার মার্কই পাবে এই টেস্টে।

এত বাজে সময় আগে গেছে কখনও?

সাকিব :আমার স্মৃতিশক্তি অত ভালো নয়। ভালো সময়, খারাপ সময় বলতে পারব না। খারাপ খেলেছি, ম্যাচ হেরেছি। এমন নয় যে এর আগে কখনও আমরা হারিনি বা জিতিনি। মোটের ওপর আমরা বাজে খেলেছি। আফগানিস্তানও খুব ভালো খেলেছে।

এমন পরাজয় দল হিসেবে কতটা লজ্জাজনক?

সাকিব :একটুও লজ্জাজনক বলে আমার মনে হয়নি। কষ্টদায়ক অবশ্যই, তবে লজ্জাজনক নয়।

স্নায়ুচাপে ভুগে বারবার ভুল করা...

সাকিব :ফলের দিক থেকে দেখলে আমাদের সামর্থ্য নেই। যদি সামর্থ্য থাকত তাহলে আরও ভালো কিছু দেখাতে পারতাম। তাইজুলেরটা (আউটটা) ধরেন ব্যাট-প্যাড ছিল। যে একদিন ক্রিকেট খেলেছে তারও বোঝা উচিত ছিল এটা আউট (প্লাম্ব হয়ে মিরাজের রিভিউ)। স্বাভাবিকভাবে সে যদি রিভিউটা না নিত, তাহলে তাইজুল নিতে পারত। তাইজুল আগের ইনিংসেও ভালো ব্যাটিংই করেছিল। অনেকক্ষণ ডিফেন্স করেছিল। এ ধরনের ভুলভ্রান্তিগুলো হয়। সৌম্য (দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে এগারো নম্বরকে স্ট্রাইকে পাঠানো) যখন রানটা নিয়ে মাথায় হাত দিচ্ছে, ও আসলে বুঝতে পারছে না ওর ভূমিকাটা কী। ওর কী করা উচিত? এ জিনিসগুলো অনেক শেখার আছে, বোঝার আছে। কতদিন যে লাগবে শিখতে, এটা বড় ব্যাপার।

টেস্টে উন্নতি করতে কী করতে হবে?

সাকিব :কঠিন প্রশ্ন। আমরা যদি ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে চাই, আমাদের প্লেয়ারদের কোয়ালিটি আরও বাড়াতে হবে। তা না হলে সুবিধা বা ফেভার এ জিনিসগুলো নিয়ে আসলে রেজাল্ট করতে পারব না।

রশিদ খানেই কুপোকাত ...

সাকিব :সে নতুন টেস্ট দলের খেলোয়াড় হলেও টি২০-তে অনেকদিন থেকেই বিশ্বমানের একজন বোলার। স্বাভাবিকভাবে ওই জিনিসটাই যদি সে টেস্ট ক্রিকেটে প্রয়োগ করতে পারে তাহলে ভালো বল করার সম্ভাবনাই বেশি, যেটি সে আমাদের সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই করেছে। রশিদ খান আমাদের জন্য একটি ফ্যাক্টরও ছিল এই টেস্টে, যেটি সে প্রমাণও করেছে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট নিয়ে। প্রথম ইনিংসে ওর ব্যাটিংটাও ওদের জন্য বেশ কাজে লেগেছে।