যুব ক্রিকেটে তৌহিদ হৃদয়ের বিশ্বরেকর্ড

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

গতকাল তার অফিসিয়াল বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫০ দিন। সামনের দুই সপ্তাহ যুব দলের আর কোনো খেলা না থাকায় এদিনই অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন তৌহিদ হৃদয়। আর শেষের মুহূর্তেই যুব ক্রিকেটের একাধিক রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন বগুড়ার ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। মঙ্গলবার শ্রীলংকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে টানা তৃতীয় সেঞ্চুরির মাধ্যমে যুব ক্রিকেটের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ক্যালেন্ডার বর্ষে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এ ছাড়া এক সিরিজে এবং এক প্রতিপক্ষে বিপক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি যুব ক্রিকেট ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানও এখন হৃদয়ের। এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের কীর্তির দিনে লংকাকে ৫০ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৪-০-তে জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের পঞ্চম ওয়ানডেতে তৌহিদ ব্যাটিংয়ে নামেন চার নম্বরে। সপ্তম উইকেট হিসেবে শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে খেলে যান ১০২ বলে ১১১ রানের ইনিংস, যার মধ্যে ছিল ৩টি চার ও ৫টি ছয়। এর আগে চতুর্থ ম্যাচে ১১৫ আর তৃতীয় ম্যাচে ১২৩* রানের ইনিংস খেলেন তিনি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও অপরাজিত ছিলেন ৮২ রানে। সব মিলিয়ে তার চার ম্যাচে রান ৪৩১, যা যুব ক্রিকেটের এক সিরিজে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৪ যুব বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচে ৫০৫ রান নিয়ে শীর্ষে ভারতের শিখর ধাওয়ান। যুব ক্রিকেটে সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক এবং এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন সেঞ্চুরির ঘটনায় তৌহিদই প্রথম। এ ছাড়া চলতি ২০১৯ সালে তার রান দাঁড়িয়েছে ১০০১-এ। যুব ক্রিকেটে এক ক্যালেন্ডার বর্ষে এটিই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ রানও বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের; মাহমুদুল হাসান জয়ের ৯১৫ (২০১৯) এবং নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৯৫ (২০১৫)। মোটের ওপর যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে এক হাজার ৫১০ রান নিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হয়েছেন তৌহিদ; সর্বোচ্চ ১৮২০ বাংলাদেশের শান্ত এবং ১৬৯৫ পাকিস্তানের সামি আসলামের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ :৫০ ওভারে ২৮৩/৭ (হৃদয় ১১১, প্রান্তিক ৬৫, পারভেজ ৩৮, অভিষেক ২৪*; রোহান ২/৫৭)।

শ্রীলংকা :৪৪.৪ ওভারে ২৩৩/১০ (রাজান্থা ৮৪, শামাজ ৪০; শাহিন ২/৪৬, মুরাদ ২/৪৭)।

ফল :বাংলাদেশ ৫০ রানে জয়ী।

সিরিজ :বাংলাদেশ ৪-০-তে জয়ী।

ম্যাচ ও সিরিজসেরা :তৌহিদ হৃদয়।