খুলনার শিরোপা পুনরুদ্ধার

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খুলনার শিরোপা পুনরুদ্ধার

রেকর্ড সপ্তমবারের মতো জাতীয় লিগের চ্যাম্পিয়ন খুলনা বিভাগ। শিরোপা সামনে রেখে উল্লাস রুবেল-সোহানদের - বিসিবি

তৃতীয় দিনেই শিরোপার গন্ধ পেয়ে গিয়েছিল খুলনা। দলনেতা নুরুল হাসান সোহানের দেড়শ' রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ১০০ লিড নেওয়ার পর শেষ বিকেলে জিয়ার তোপে ঢাকার টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল তারা। গতকাল বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রকিবুল হাসান। ৯৯ রানে গিয়ে তিনি রান আউট হয়ে গেলে পথের কাঁটা দূর হয় খুলনার। এরপর এনামুল হক বিজয়ের মারমুখী ব্যাটিংয়ে ১ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে শিরোপা পুনরুদ্ধার করে খুলনা।

দেশের ক্রিকেটে ক'বছর ধরেই খুলনার ক্রিকেটারদের আধিপত্য চলছে। জাতীয় দলে মাশরাফি, সাকিব, সৌম্য, ইমরুল, মিরাজ, মিঠুন, রুবেল, আল-আমিনরাই এর প্রমাণ। এ প্রভাবটা জাতীয় লিগেও পড়েছে। ২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খুলনা। গত মৌসুমে সে ধারায় ছেদ পড়েছিল। রাজশাহী জিতে নিয়েছিল গত মৌসুমের শিরোপা। গতকাল ঢাকা বিভাগকে ৯ উইকেটে হারিয়ে জাতীয় লিগে আবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে খুলনা। জাতীয় লিগে এটি তাদের সপ্তম শিরোপা। এ টুর্নামেন্টে শিরোপা সংখ্যায় তাদের পেছনে আছে রাজশাহী। তাদের শিরোপা ছয়টি।

খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে গতকাল ঢাকার অবশিষ্ট ৫ উইকেটের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন খুলনার বোলাররা। কিন্তু তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান রকিবুল হাসান ও আরাফাত সানি জুনিয়র। বুক চিতিয়ে লড়াই করে তারা দু'জন ৪৮.১ ওভার ঠেকিয়ে রাখেন শিরোপার নেশায় উন্মুখ হয়ে ওঠা খুলনার বোলারদের। ষষ্ঠ উইকেটে তারা ১২৫ রান যোগ করেন। তবে হতাশার ব্যাপার হলো, এভাবে লড়াই করার পর কিনা সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়ে রান আউট হয়ে যান রকিবুল! ২২৭ বলে ৯৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তিনি আউট হওয়ার এক ওভার পর আরাফাত সানি জুনিয়রও উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন। ঢাকার স্কোর বোর্ডে আর রান যোগ হয়নি, বাকিরা ওই ২১৬-তেই আউট হন। এরপর জয়ের জন্য ১১৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো ব্যাটিং করেন এনামুল হক বিজয়। ৭৬ বলে চারটি করে চার ও ছয়ে অপরাজিত ৭৯ রানের ইনিংস খেলে খুলনার জয় নিশ্চিত করেন।

খুলনার শিরোপা জয়ের দিনে উল্টো অভিজ্ঞতা হয়েছে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহীর। রংপুরের কাছে ১৫৫ রানে হেরে 'টায়ার ওয়ান' থেকে নেমে গেছে তারা। গতকাল আর ব্যাট করতে নামেনি রংপুর, আগের দিনের ৬ উইকেটে ২২৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দেন রংপুরের অধিনায়ক নাঈম ইসলাম। এরপর ২৪৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ৯৩ রানে গুটিয়ে যায় রাজশাহী। বরিশাল ও ঢাকা মেট্রো ম্যাচটি ড্র হয়েছে।