পাঁচ বছর নিষিদ্ধ শাহাদাত

সতীর্থের গায়ে হাত তোলার দোষ স্বীকার-শাহাদাত ছাড়াও অভিযুক্ত আরেক পেসার শহীদ

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জাতীয় লিগের ম্যাচে সতীর্থ আরাফাত সানি জুনিয়রের গায়ে হাত তোলার অপরাধে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন পেসার শাহাদাত হোসেন রাজীব। এর মধ্যে দুই বছর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। সে সঙ্গে তিন লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে জাতীয় লিগের (বিসিবি) টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এ শাস্তির ঘোষণা দেন। আগামী ২৬ নভেম্বরের মধ্যে শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন শাহাদাত। এ ঘটনায় শাস্তি পেতে যাচ্ছেন ঢাকার আরেক পেসার মোহাম্মদ শহীদও। আরাফাতকে মারামারির ঘটনার সূত্রপাতই নাকি করেন শহীদ। তিনিই প্রথম আরাফাতকে বকাঝকা শুরু করেন ও ধাক্কা মারেন। ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে শহীদের অপরাধকে 'লেভেল ২' পর্যায়ের অপরাধ বলা হয়েছে। এরই মধ্যে তার ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। তবে মিনহাজুল আবেদীন জানিয়েছেন, উচ্ছৃঙ্খল এ কার্যক্রমের অন্যতম হোতা শহীদ। তাই তিনিও শাস্তি পেতে যাচ্ছেন।

গতকাল সকাল ১১টায় ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারের রিপোর্ট নিয়ে আলোচনায় বসেন টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা। বৈঠক শেষে টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, 'সর্বসম্মতিক্রমে আমরা শাহাদাত হোসেন রাজীবকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছি। এর মধ্যে দুই বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। তার যদি আপিল করার থাকে, তাহলে সে ২৬ নভেম্বরের মধ্যে করতে পারবে। রিপোর্টে এসেছে, সে 'লেভেল ৪' অপরাধ করেছে। টেকনিক্যাল কমিটি সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।' শাহাদাতের শাস্তির পেছনে যে তার অতীতের কর্মকাণ্ডও ভূমিকা রেখেছে, তা মিনহাজুল আবেদীনের কথায় স্পষ্ট, 'শাহাদাতের কিন্তু আগেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের ইতিহাস ছিল, সেটাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। মাঠের মধ্যে সতীর্থের গায়ে হাত তোলা, এটা তো গুরুতর অপরাধ। টেকনিক্যাল কমিটির সবাই তাই তার এ শাস্তির ব্যাপারে একমত হয়েছে। আমাদের আশা, অন্য ক্রিকেটারদের জন্যও এটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যে কোনো ক্রিকেটারের জন্য এটা খারাপ যে, সে বার বার একই অপরাধে জড়াচ্ছে। শৃঙ্খলার ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই বার্তাটা আমরা সবাইকে দিতে চাই।'

তবে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শুনে হতভম্ব হয়ে গেছেন শাহাদাত। অপরাধের তুলনায় তার সাজা বেশি হয়ে গেছে বলেই বিশ্বাস ৩৩ বছর বয়সী এ পেসারের, 'আমি ভুল করেছি। সানিকে মাঠে ধাক্কা দিয়েছি, কাজটা ঠিক হয়নি। ওর সঙ্গে পরে মিটমাটও হয়ে গেছে। ভাবতেও পারিনি যে, এই ঘটনার জন্য এত বড় শাস্তি পাব। আমি খুবই হতাশ। তবে খুব দ্রুতই আপিল করব। আশা করি বুঝিয়ে বললে আমার শাস্তি কমবে।' তবে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সানিকে ধাক্কা দিয়ে ক্ষান্ত হননি শাহাদাত। কথা কাটাকাটি দিয়ে শুরুর পর সানিকে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন তিনি। আম্পায়ার এসে সরিয়ে দেওয়ার পর আবার ছুটে গিয়ে সানিকে লাথি-চড় মারতে থাকেন শাহাদাত। সতীর্থরা এসে সানিকে রক্ষা করেন। ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে পুরো ঘটনা বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডে খুলনা-ঢাকা ম্যাচের দ্বিতীয় দিন (গত রোববার) সতীর্থ অফস্পিনার আরাফাত সানি জুনিয়রকে মারধর করেন রাজীব। এ ঘটনার পরই ম্যাচের বাকি দুই দিনের খেলা থেকে তাকে বহিস্কার করেছিলেন ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ শিপার। ম্যাচ রেফারির দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই গতকাল শাহাদাতকে শাস্তি দিয়েছে টেকনিক্যাল কমিটি। এর আগে ২০১৫ সালে নিজ বাসার শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে সস্ত্রীক জেল খেটেছিলেন শাহাদাত। তখনও তাকে নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জেল থেকে মুক্তির পর কৃতকর্মের জন্য ভুল স্বীকার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল বিসিবি। এবারের নিষেধাজ্ঞায় তার ক্যারিয়ারই হুমকির মুখে পড়ে গেল।