উইকেট নিয়েই যা একটু চিন্তা

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কাঠমান্ডু থেকে

রোববার দুপুরে কাঠমান্ডু পৌঁছানোর পর বিশ্রামেই ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। হোটেলে জিম ও সুইমিং করেছিলেন সৌম্য সরকার-নাজমুলরা। গতকাল ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথম অনুশীলন সারেন ক্রিকেটাররা। আগামীকাল মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাউথ এশিয়ান গেমসের মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের আগে উইকেট নিয়ে চিন্তিত টিম ম্যানেজার এবং নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। গতকাল টিম হোটেলে বসে নিজের দুশ্চিন্তার কথা এভাবেই বলেছেন সুমন, 'রাতে এখানে অনেক ঠান্ডা। তবে দিনের বেলায় মনে হয় না খেলার সময় কোনো সমস্যা হবে। ঠান্ডা কিংবা উচ্চতা নিয়ে নয়, আমাদের বড় দুশ্চিন্তা উইকেট নিয়ে। এ রকম ঠান্ডার সঙ্গে আমরা অনেক খেলছি। আসলে উইকেটটা কেমন হয়, এটা নিয়েই আমাদের ভাবনা। যেহেতু এটা টি২০ খেলা, আর টানা কয়েকটি ম্যাচ খেলতে হবে। ভালো উইকেট পাব কি-না সেটা নিয়েই একটু চিন্তিত আমরা। যখন উইকেট ভালো থাকে না তখন বড়-ছোট দলের মধ্যে পার্থক্যটা কমে যায়। উইকেট ছাড়া আর কোনো চিন্তা নেই আমাদের।

মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচের পর একদিন বিরতি। এরপর টানা তিন দিন ভুটান, নেপাল ও শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ। টানা ম্যাচ খেললে ক্রিকেটারদের ইনজুরিতে পড়ার শঙ্কাও আছে। ফুটবলের সূচি নিয়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলো আপত্তি তুলেছে। ক্রিকেটের সূচি নিয়ে কোনো অভিযোগ করছেন না হাবিবুল, 'টানা ম্যাচ খেলা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কারণ আমাদের বিপিএলে টানা ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। হয়তো টানা ম্যাচ খেলাটা ঠিক নয়। একদিন বিরতি থাকা ভালো। কিন্তু এটা নিয়ে আমরা অভিযোগ করছি না। গেমসে অংশগ্রহণ করতে পারায় আমরা সবাই রোমাঞ্চিত। আমি আবারও বলছি, উইকেট নিয়েই আমরা বেশি চিন্তিত। কারণ একই ভেন্যুতে টানা ১০ দিন খেলা। আর টানা খেলার কারণে উইকেট ভালো থাকবে না। ক্রিকেটে উইকেটটা তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবলে মাঠ একটু এলোমেলো হলেও খেলা যায়; কিন্তু ক্রিকেটে সমস্যা।'

গেমসের ক্রিকেটে ২০১০ সালে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারের আসরে ভারত-পাকিস্তান নেই বলে পদক ধরে রাখাটা সহজ বলেই মনে করছেন অনেকে। বাশার তা মনে করছেন না, 'ভারত-পাকিস্তান নেই বলে যে স্বর্ণ জেতা সহজ, তা ঠিক নয়। আসলে ক্রিকেটে সহজ বলতে কিছু নেই। শ্রীলংকা ভালো দল নিয়ে এসেছে। নেপালে তাদের ঘরের মাঠে খেলবে। কাজেই আমরা কাউকে সহজভাবে নিচ্ছি না। এটা ঠিক, ভারত-পাকিস্তান থাকলে খেলাটা আরও আকর্ষণীয় হতো। যখন এসএ গেমসে নিশ্চিত হয়েছে যে বাংলাদেশ দল যাবে, তখন থেকেই একটা চিন্তা কাজ করেছিল যে, কে খেলবে বা না খেলবে, তা নয়। আমরা স্বর্ণ জিততে চাই। ২০১০ সালে জিতেছি, এবার তার পুনরাবৃত্তি করতে চাই।' ইমার্জিং এশিয়া কাপে শ্রীলংকাকে হারানোর অভিজ্ঞতা আছে। সেটা চিন্তা করলে এসএ গেমসে লংকানরা কোনো বড় বাধা হওয়ার কথা নয়। তবে বাশারের চোখে সেটা ছিল ভিন্ন ফরম্যাট, 'সেটা ছিল পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচ, এটা বিশ ওভারের। যদি সবকিছু চিন্তা করি, তাহলে আমাদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। টি২০ খেলা আর ফাইনালের চাপ তো আছেই। আমরা আসছি কিন্তু প্রত্যাশার চাপ মাথায় নিয়ে। এগুলো সবকিছু ওভারকাম করেই স্বর্ণ জিতে দেশে ফিরতে চাই।'

উইকেট নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও এসএ গেমস ক্রিকেটে স্পিনাররাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন বলে মনে করেন বাশার, 'আমরা এখনও উইকেটটা দেখিনি। তবে যখন প্রতিদিন একই উইকেটে খেলা হয়, তখন এটা স্পিনারদের জন্য সহায়তা হয়। বল উইকেটে স্লো হয়, টার্ন করে। আমার মনে হয় স্পিনাররা সুবিধা পাবে।' এটা মাথায় রেখেই তিন স্পিনারকে নিয়ে নেপালে এসেছে বাংলাদেশ। 'আমরা মেহেদীকে নিয়ে এসেছি। সে ইমার্জিং কাপে ভালো বল করেছে। ইনজুরির কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে বিপ্লব আসতে পারেনি, তার জায়গায় আমরা নিয়েছি মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদিকে। লেগস্পিনার তানভীর আছে। আমি মনে করি, তিনজন স্পিনার ভালো করছে। তিনজনের ওপরই আমার আস্থা আছে'- আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন সাবেক এ অধিনায়ক।