কাঠমান্ডুতে ভুটান-লজ্জা

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯      

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কাঠমান্ডু থেকে

কাঠমান্ডুতে ভুটান-লজ্জা

লড়াইটা খারাপ হয়নি; কিন্তু দিন শেষে ফুটবলের হলো না বিজয়- সমকাল

২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে হয়েছিল ফুটবলে ভুটান ট্র্র্যাজেডি। ভুটানের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসনে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠে ফুটবলে দেখা গিয়েছিল আলোর রেখা। ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে র‌্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ভারতকে ১-১ গোলে রুখে দেওয়ার পর নতুন আলোয় উদ্ভাসিত ফুটবল ফিরে পায় হারানো জৌলুস। কিন্তু পথ খুঁজে পাওয়া ফুটবল আবারও পথ হারাল হিমালয়ের দেশে। প্রতিপক্ষ সেই ভুটান। সাউথ এশিয়ান গেমসে হারানো স্বর্ণের পুনরুদ্ধারের মিশনে বড় ধাক্কা জামাল ভূঁইয়া-সাদ উদ্দিনদের। গতকাল কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এসএ গেমস ফুটবলে ভুটানের কাছে ১-০ গোলে হার মানে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। ভুটান-লজ্জার পর আজ আবার সবুজ গালিচায় নামবে জেমি ডের দল। সিঙ্গেল লিগ ভিত্তিক গেমসে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দলটি। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সোয়া ৫টায়।

এই ভুটানকে নিয়ে গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ছেলেখেলা করেছিল বাংলাদেশের এ দলটিই। দুটি প্রীতি ম্যাচে ৪-১ এবং ২-০ গোলে জিতেছিল জেমি ডের দল। সেই দুটি ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য ছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতি আর ভুটানের এসএ গেমসের। মাঝে বাছাইয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে নাড়িয়ে দিয়ে জামালরা দেখিয়েছিলেন ভিন্ন রূপ। অথচ এদিন কাঠমান্ডুতে প্রথম ২০ মিনিট ছাড়া প্রথমার্ধে বাংলাদেশকে কোনো আক্রমণই করতে দেখা যায়নি। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই কেটেছে আতঙ্কে। তার সুযোগ কাজে লাগান ভুটানের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোখ্যাত চেনচো গেইলশেন। ৬৫ মিনিটে তার করা গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ভুটানিরা। দশরথ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আসা কয়েকশ' দর্শকও ভুটানের নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকে।

কন্ডিশনের মিল থাকার সুবিধা পেয়েছে ভুটান। নেপালের মতোই আবহাওয়া ভুটানের। পার্থক্যের কারণে ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে। উচ্চতা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল নবীব নেওয়াজ জীবনদের। সেটার প্রভাব পড়েছে ফুটবল মাঠে। শুধু জার্সিতেই চেনা গেছে জামালদের। রক্ষণ, মধ্যমাঠ কিংবা আক্রমণভাগ; সব কিছুতেই যেন এলোমেলো ছিল লাল-সবুজের দলটি। প্রথম বিশ মিনিট বাদ দিলে বাকি ৭০ মিনিট বাংলাদেশের খেলায় ছিল না কোনো গতি। এমনকি গোল হজমের পরও তা পরিশোধ করার জন্য কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেননি জেমি ডের শিষ্যরা। তিন সিনিয়ির- অধিনায়ক জামাল, ফরোয়ার্ড জীবন ও ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। পুরো ম্যাচের পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছেন ভুটানের চেনচো। তাকে আটকানোর কোনো সাধ্য যেন ছিল না ফুটবলারদের। বারবার তার গতির কাছে হার মানেন বিশ্বনাথরা।

ভুটানের পাওয়া গোলটিতে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের অবদান ছিল! বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যায় ভুটান। সতীর্থের কাছ থেকে বল পান চেনচো। তাকে থামানোর কোনো চেষ্টাই করেননি বিশ্বনাথ। এই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের আলতো চিপে গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোকে পরাস্ত করেন চেনচো। হতাশা নেমে আসে বাংলাদেশ শিবিরে। ম্যাচ শেষে হতাশাটা লুকিয়ে রাখতে পারেননি কোচ জেমি ডে, 'আজকের (গতকাল) পারফরম্যান্সে আমি খুবই হতাশ। কেউই ভালো খেলতে পারিনি। জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল। এখন পরের ম্যাচে দিকে আমরা।'